Loading...
You are here:  Home  >  রাজনীতি  >  জাতীয়  >  Current Article

নয়ারাজনীতি ও আমজনতা

By   /  March 21, 2017  /  No Comments

অম্লান রায় চৌধুরী

মোদিজির জয় উত্তরপ্রদেশে মনে করিয়ে দেয় অনেককাল আগের কংগ্রেসের জয়কে। অন্যান্য সবদলই প্রায় ধরাশায়ী। অন্য দলগুলির সমবেত সংখ্যাটার যোগফল নাকি কাছে আসতে পারতো বিজেপির– এই সব শুকনো তর্কর কোনও মানে হয় না বলেই এই জয়টাকে দেখতে হবে একটু অন্য দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে । ৩২৫, নম্বরটার কাছেই আসতে পারল না সব ভোট পন্ডিত, সাংবাদিককুল এবং রাজনীতির কারবারিদের গণনা। তাই এই জয়ের কারণটা শুধু সংখ্যার বিচারে আলোচনা করাটা বোধ হয় ঠিক হবে না, দরকার কিছু মনস্তাত্বিক আলোচনা ও আজকের ভারতবর্ষের রাজনীতির প্রকৃত স্বরূপ নিয়ে ।
রাজনীতির কৌশল বা প্রকরণে সবসময়ই পরিবর্তন আসে। যখন যেভাবে আসে তখনই সেটাকে আমরা ‘নয়া’ শব্দবন্ধে ব্যবহার করি। এক্ষেত্রেও ‘নয়া রাজনীতি’ হিসাবেই দেখি। তাই আজকের এই ‘নয়ারাজনীতির’ কারবারটাকে একটু বোঝা দরকার। অনেক মানুষ হয়ত বা এখনও বুঝে উঠতে পারেনি যে ‘জনপ্রিয়তা’ অর্জনের সাবেকি পদ্ধতিটারও অবস্থানগত বদল ঘটেছে। ‘মতবাদের’ কাঠগড়ায় আর আটকে থাকতে চায় না আজকের ‘আমজনতা’– যে ‘আমজনতা’ শুধুমাত্র গতকালের ‘জনগণ’ নয়– একটা পাঁচমেশালি অবয়ব যাদের কোন জাতপাত নেই, ধর্ম নেই, গোষ্ঠী নেই– এরা একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ। ফলে কোনও নির্দিষ্ট শ্রেণি বা জাতপাতের কথা বলা যাবে না– বলা যাবে অন্যভাবে যাতে করে মনে হবে বলা হচ্ছে সমগ্র মানুষের প্রতি। ভাবনায় যাই থাকুক না কেন, বোঝাতে হবে তোমরা এক- যদিও এটা সত্য নয়। আরও বেশি সত্য নয় রাজনীতির কারবারিদের কাছে। তাদের কাজই হালকা হয়ে যাবে যদি এমনটা হতো। তবুও এদেরই খুব কাছে যেতে হবে, একাত্ম হতে হবে– সেখানে হওয়ার প্রক্রিয়া যাই হোক না কেন। যেখানে জাতপাতের কোনও পার্থক্যকে আমল দেওয়া হয় না, ধর্মকেও উহ্য রাখা হয়– গরিব বড়লোকের পার্থক্যটাকেও তোলা হয় না– একটা গোটা মানুষের দল মনে করা হয়– সেই ভাবেই দেখে ‘নয়া রাজনীতির’ কারবারিরা।
এখানেই নয়া রাজনীতির করিস্মা। এই রাজনীতিতে অবশ্যই একজন নেতা থাকতে হবে যার থাকবে জনপ্রিয়তা। যে কেবল নেতা নয় তাকে হতে হবে ‘জনমোহিনী’ চরিত্রের– অর্থাৎ যার উপর লোকের বিশ্বাস থাকবে– এটাকেই পপুলিস্ট আখ্যা দেওয়া হয় । এই ‘জনমোহিনী’ বিষয়টা হল ‘আমজনতা’কে যে সবচেয়ে ভাল বুঝতে পারে, তাদের চাওয়ার ধরনটা জানতে পারে , কতখানি পেলে কে কতটা খুশি আন্দাজ করতে পারে – কাদের ভরসায় এই চাওয়া ও পাওয়ার পরিমান ঠিক হয় সেটাও যে বুঝতে পারে।
অবশ্যই এই নেতা বা তার সাকরেদদের নেতা হয়ে আসার পেছনে বেশ সময় দিতে হয়েছে। পরীক্ষা দিতে হয়েছে। এরা সকলেই প্রমান করেছে যে জনপ্রিয়তা অর্জনের পন্থাটা পাল্টেছে। মানুষের ভাবনাটাকে বুঝতে হয়েছে– চাওয়াটাকে মানতে হয়েছে। যার যেমন চাওয়া সেটাকেই প্রাধান্য দিতে হয়েছে, তাতে করে কিছু অনৈতিক কাজকর্ম- তাতে হয়ত বা শীলমোহর লাগাতেও হয়েছে কিন্তু একটা গোটা গোষ্ঠিকে তুষ্ট রাখা সম্ভব হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ আছে– সাময়িক, একেবারে নির্মুল করা চলবে না, কারণ চাওয়ার পথটাকে খোলা রাখতে হবে– জোগানটাকেও সামলাতে হবে। মান্যতা দিতে হবে– বুঝে শুনে , অনেকটাই সাপও মরবে না লাঠিও ভাঙবে না গোছের।

yogi adityanath4
কারণ আজ এটা খুব পরিষ্কার যে লোকে আর তত্ত্ব কথা শুনতে চায় না। চায় কাজ ও আয়, যেভাবেই আসুক না কেন। মার্কস, মাও সে তুঙ্গ, কাফকা, কাম্যু, মার্কেজ পড়ামানুষদেরও তাদের কাছে আসার পদ্ধতিটা আর ভাল লাগছে না। কারণ তাঁরা পরীক্ষিত, যে ওভাবে হয় না কিছু। ওভাবে কথা শুনে মতবাদের বুলি ওগরানো যায় ঠিকই কিন্তু মতবাদের অন্তর চেনা যায় না– কারণ মতবাদের কারবারিরা ক্ষমতার অলিন্দে, খালি ক্ষেত্র আর ব্যাক্তিবিশেষের বিচার করে– শ্রেণি নয়, দলীয় ও অদলীয়দের মধ্যে প্রাচীর তোলে। এই অবস্থাটার ফায়দা লোটা যে নতুন নেতা ‘নয়া রাজনীতি’ র, তারা কিন্তু একটা আদর্শে থেকে আর একটা আদর্শে পৌঁছে যায় অনায়াসে, শুধু জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য, কারণ তারা বোঝে এখানে আমূল পরিবর্তনের ধোঁয়া তুলে– জনগণকে কাছে টানা যায় এখনও– অবশ্যই সাময়িক সুবিধা সুযোগ দিতে হবে, না খেয়ে না দেয়ে শুধু বিপ্লবের বুলি আওড়ালে– ওই বিপ্লব পানা পুকুরে গিয়ে ঠেকবে– এটা ওরা বুঝতে পেরেছে। ভারতব্যাপি মোদিজির জনপ্রিয়তার এগুলোই বড় কারণ।
কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, এই একাত্মতা আসবে কীভাবে, অন্তর থেকে। নিশ্চয়ই নয়। ভোট বা ক্ষমতার হিসাবটাকে আঁকড়ে রাখতে হবে প্রতিমুহূর্তে। তাহলে কি কৃষক সভার ভাষণে শোষনের যন্ত্রর কথা বলা যাবে না বা শ্রমিক আন্দোলনে মালিকদের দুর্নীতির কথা বলা যাবে না। হ্যাঁ মানছি, ভাষা হবে সরল, সহজ–যেটা মনকে স্পর্শ করে। মোট কথা, এমনভাবে করতে হবে যাতে আখেরটাকে সাজিয়ে দাবার ঘুঁটির চাল দিতে হবে। যেমন মানব, আমি জাতপাতের বিভাজন, ফায়দা লুটব তার থেকে, কিন্তু বলব না– সুযোগ দেব আর.এস.এস এর খবরদারিকে, বলব কেবল ‘গোরস্থান বনাম শ্মশানঘাটের সংরক্ষনের’ কথা। এটাই ‘নয়া রাজনীতি’। সেই ব্যবস্থাই হবে– শুধু দলপন্থীদের নয়, বেশ কিছু ‘আমজনতা’ও ঢুকবে সেই দানের মাঝে- যারা জানবে যে তারাও পেতে পারে– সংখ্যায় কম হলেও এরাই এই ব্যবস্থার USP ।
কিন্তু সমস্যা হল আমরা এখনও মনে করি এই অবস্থাগুলো ‘আমজনতা’ বোঝে না– আমরা বোধহয় এটাও বুঝি না যে অনেককিছু বুঝেও আমজনতা কিছুই করতে পারে না। এটাও বুঝি যে ‘নয়া রাজনীতি’ চায় না যে আমজনতা প্রকৃত শিক্ষিত হোক– জানুক দেশ সম্বন্ধে, বুঝুক তারা নিজের মতন করে। তোষনের আধিক্যে উত্তর দেওয়া হবে না তাদের সমস্ত রকম প্রশ্নের, সে যতই প্রাসঙ্গিক হোক না কেন। তারা অবশ্য চায় না বুঝতে GDP কী, আয়ের সমতা কাকে বলে, মুদ্রাস্ফীতি কেন হয় ইত্যাদি। কিন্তু তারা বুঝতে চায়- দেশে কলকারখানা হচ্ছে না কেন, কাজ হচ্ছে না কেন- জিনিষ পত্রের দাম বাড়ছে কেন। এগুলোকে আড়ালে রেখে সবসময়ই আমজনতাকে তোষন করতে হবে– ঢাকা রাখতে হবে সমস্যা থেকে, আশ্বাসের পর আশ্বাস দেওয়া হবে, মাঝে মাঝে বিভিন্ন প্রকল্প খাড়া করে টাকা পাইয়ে দেওয়া হবে। এটাই ‘নয়া রাজনীতি’।
উদ্দেশ্য খুবই পরিষ্কার। যেন তেন প্রকারেন– ক্ষমতা দখল। কিন্তু আমজনতাকে রোশে না রেখে– যেমন কিছু কাজ– সর্বসাধারনের হিতার্থে, যেখানে সবাই মানবে বা কিছু কাজে প্রতিবাদ যেটাও সবাই মানবে– দলমত নির্বিশেষে- করতে হবে । এগুলোকে অবশ্যই ‘জনমোহিনী’ কাজ ও বলা যেতে পারে।

yogi adityanath3
‘আমজনতা’র কাছে এই তোষনগুলো উপরি পাওনা হিসাবে কাজ করে – সে জানে এটা সাময়িক- স্থায়িত্ত্ব নেই, কিন্তু এখন যখন পাচ্ছি কেনই বা বিরোধিতা করি। তাছাড়া তারা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকার ফলে, এই সমস্ত তোষনকে জায়গা দেয় কিছু দিন বা কিছু কাল বেঁচে থাকার তাগিদে। এটা বোধহয় সমস্ত রাজনৈতিক দলই মানবে। এদের কোনোভাবেই আজকাল আর বাম- ডান- ধর্মীয় বা জাতপাত দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করা যাবে না, কারণ এই বিভাজনের রাজনীতি তারা দেখেছে বহুকাল ধরে অভিজ্ঞ হয়ে গেছে এই চলনের সাথে।
তাই তো ‘নয়া রাজনীতি’ এই পথটাকেই বেসাতি করেছে– যেখানে সাময়িক সুবিধা ও সাময়িক ফল লাভ। বুঝতে দেওয়া নেই, বোঝবার মতন পরিস্থিতিরও কোনও প্রয়োজন নেই– কেবল দেখতে দাও আর তোষণ করো দেখা যাবে তারাই আপনার হয়ে উঠেছে। এটা যে স্থায়ী নয় আর এই ব্যবস্থাতে যে গ্রামের কৃষক পরিবারটার স্থায়ীভাবে গ্রামে সুখে থাকার ব্যবস্থা হবে না সেটা ওদের জানা– কিন্তু ওরা চায় সাময়িক আনন্দের চাবিকাঠি। সেটাই সম্ভব করল ‘নয়া রাজনীতি’র এই কারবারিরা। মারা পড়ল তারা, যারা এখনও তত্ত্ব দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করে, সাংস্কৃতিক উন্নতির কথা না ভেবে- নানান অজুহাতে আন্দোলন করতে বলে, সমাজের নানান অসদোপায় গুলোর দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে নিজেদের স্বার্থ বাঁচিয়ে – তারা পিছিয়ে পড়ল এই দৌড়ে।
তাই মোদির জয় প্রায় গোটা ভারতেই, আঞ্চলিক দলও এই ‘নয়া রাজনীতির’ সুযোগ নিল বিভিন্নভাবে। আসলে কোনও ‘বাদ’ই এখন আর খাচ্ছে না লোকে। কোনও ‘বাদ’কেই আমল দিতে মন চাইছে না– সবই কেমন যেন একই কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে। আমজনতা বোঝে কেবল– সাময়িক আনন্দ। আগামীর দুঃখ দেখা যাবে আগামিকাল। কারণ তারা ‘আজ’- কেই কেবল বিশ্বাস করতে পারছে, মানতে পারছে না কোনও আশ্বাস। ভাবতে পারছে না– নানান দলের নানান রকম কর্মসূচী ও তার মধ্যেকার সুক্ষ তফাত– তারা দিক ভূল। তাদের কাছে আগামীটা কেবল কিছু পল– কেনই বা নিজেকে কষ্ট দেওয়া ওই পলটুকুর জন্যও। ভবিষ্যত জানা নেই । অনেক প্রশ্ন – চলছে তবে এই ভাবেই ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twenty − five =

You might also like...

radio3

না বোঝা সেই মহালয়া

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk