Loading...
You are here:  Home  >  ওপেন ফোরাম  >  Current Article

দুই প্রধানের মাঠে ফুটবলই হোক, হকি নয়

By   /  March 22, 2017  /  No Comments

সোহম সেন

কী আবদার ভেবে দেখুন। মোহনবাগান মাঠে মোহনবাগানের ফুটবলাররা প্র‌্যাকটিস করতে পারবেন না। ইস্টবেঙ্গল মাঠে ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররাও প্র‌্যাকটিস করতে পারবেন না। তাহলে সেখানে কী হবে?‌ সকাল–‌বিকেল দু বেলা হকি হবে। যদি হকি প্র‌্যাকটিস করার লোক না পাওয়া যায়?‌ তাহলে মাঠ খালি পড়ে থাকবে। মোট কথা ফুটবল হবে না।
কলকাতায় যে হকি খেলাটা এখনও বেঁচে আছে, সে কথা জানতেন?‌ হকি সংস্থা বলে একটা সংস্থা আছে, যারা চাইলে দুই প্রধানের ফুটবল বন্ধ করে দিতে পারে, জানতেন?‌ হঠাৎ করে যেন প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে চাইছে এই বাংলার হকি সংস্থা। খেলার মাধ্যমে নয়। দুই প্রধানের প্র‌্যাকটিস আটকে দিয়ে। কারণ, এটাই প্রচার পাওয়ার সবথেকে সহজ রাস্তা।
সেই মান্ধাতা আমল থেকে একটা নিয়ম চালু আছে। তখন কলকাতায় ক্রিকেট, ফুটবলের পাশাপাশি হকিও বেশ জনপ্রিয় ছিল। তখন আই লিগ বলে কোনও বস্তু ছিল না। এই সময়টায় বিশেষ ফুটবল হত না। সেই কারণে মার্চ–‌এপ্রিলের এই সময়টা ময়দানে হকির জন্য বরাদ্দ ছিল। এই সময়ে হকি প্র‌্যাকটিসের জন্য মাঠ ছেড়ে রাখা হত। সহজ কথা, ক্রিকেট–‌ফুটবল হত না। তাই মাঝে মাঝে হকি হত। সময় আমূল বদলে গেছে। কলকাতার দুই প্রধান এখন হকির দলই তুলে দিয়েছে। বেটন কাপ টিমটিম করে হয়। সেও ময়দান থেকে সল্টলেক সাইয়ে পৌঁছে গেছে। ফাইনালে সৌরভ গাঙ্গুলি জাতীয় কোনও সেলিব্রিটি পুরস্কার দিতে এলে কাগজে একটু ছবি ছাপা হয়, নইলে তাও হয় না। কখন বেটন কাপ হয়ে গেল, কেউ জানতেও পারে না। সেই হকিবাবুরা বলে কিনা ফুটবল বন্ধ করে হকি প্র‌্যাকটিস হবে। প্র‌্যাকটিস না হলে মাঠ ফাঁকা থাকবে।

derby4

এই মুহূর্তে বাংলার হকি সচিব কে?‌ মুখ্যমন্ত্রীর ভাই বাবুন ব্যানার্জি, যিনি আবার মোহনবাগানেরও কর্তা। মোহনবাগানের কোনও ফুটবলার গোল করলে ঠিক পেছনে দাঁড়িয়ে যান ছবি তুলতে। জোর করে প্রেস কনফারেন্সে বসে পড়েন। মুখ্যমন্ত্রীর ভাই বলে কথা। কে সরাবে!‌ পাঁচ বছর ধরে শুনে আসছি, অ্যাস্ট্রো টার্ফ হবে। যুবভারতীতে আলাদা করে জায়গাও দেওয়া হয়েছিল। এক পাও এগোতে পারেননি। শেষমেষ সেই জায়গায় সরকারকে অ্যাস্ট্রো টার্ফ বানিয়ে দিতে হবে। তাও কবে হবে, কেউ জানে না।

কলকাতার দুই প্রধানই আই লিগের দৌড়ে আছে। এক দল আছে দু নম্বরে, অন্য দল তিন নম্বরে। দুই প্রধানের সামনেই সুবর্ণ সুযোগ। এই অবস্থায় তারা নিজেদের মাঠে প্র‌্যাকটিস করতে পারবেন না?‌ ময়দানে আরও অনেক মাঠ তো আছে। সেখানে যত খুশি হকি প্র‌্যাকটিস হোক। দেখি হকির কটা দল প্র‌্যাকটিস করে। তা নয়, বাবুদের মোহনবাগান–‌ইস্টবেঙ্গল মাঠই চাই। আগে সকালে ফুটবল হত, বিকেলে হকি হত। কিন্তু তাহলে যে প্রচার পাওয়া যাবে না। বাবুদের যুক্তি, সকালে ফুটবল হলে মাঠ নষ্ট হবে। বিকেলে হকি খেলতে সমস্যা হবে। এতই যখন হকির প্রতি দরদ, তখন দিদিকে বলে আলাদা একটা হকির স্টেডিয়াম বানিয়ে নিন না।

আমি হকির বিরোধী নই। আলাদা হকির মাঠে হোক, কোনও আপত্তি নেই। তাই বলে ফুটবল বন্ধ করে হকি চালাতে হবে, এমনটাই চাই না। একটা বেটন কাপ ঠিকঠাক আয়োজন করতে পারে না, এত বছরেও একটা অ্যাসট্রো টার্ফ বসাতে পারে না, তাদের দ্বারা হকির কোনও উন্নতিও হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর ভাই হকি সংস্থার মাথায়। তাই দুই প্রধান এত বড় একটা অন্যায় দাবি মেনে নিচ্ছেন। আর কতদিন ভয়ে ভয়ে থাকবেন?‌ গোটা খেলার মাঠটাই দখল নিয়ে ফেলছেন মুখ্যমন্ত্রীর দাদা আর ভাই। দুই ভাইয়ের লড়াই আর দখলদারি নিয়ে অতিষ্ট বাংলার ক্রীড়ামহল। কিন্তু কেউ টুঁ শব্দটিও করবেন না।

দুই প্রধানের কর্তারা না হয় মেরুদণ্ড গচ্ছিত রেখেছেন। কিন্তু সমর্থকরাও কি গর্জে উঠতে পারেন না?‌ মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল নিজেদের মাঠেই প্র‌্যাকটিস করবে, এই দাবিটুকুও তুলতে পারেন না?‌

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

10 + 11 =

You might also like...

solan3

চোখ ধরেছে মেঘের ছাতা

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk