Loading...
You are here:  Home  >  ওপেন ফোরাম  >  Current Article

এই ইন্টারভিউ আসলে স্পট ফিক্সিং

By   /  March 24, 2017  /  No Comments

বিপ্লব গুপ্ত

media-samachar2ক্রিকেটে একটা কথা খুব চালু আছে, স্পট ফিক্সিং। আগে হত বেটিং, কে কত রানে আউট হবে, কে কটা ছক্কা মারবে, এইসব। কিন্তু তার অনেক ঝামেলা। কারণ আউট হওয়াটা সবসময় ব্যাটসম্যানের হাতে থাকে না। ক্যাচ তোলা হল। কিন্তু ফিল্ডার ক্যাচ নিতে পারল না, বাউন্ডারি হয়ে গেল। কথা আছে বোল্ড হওয়ার। দেখা গেল বলটাই ওয়াইড হয়ে গেল। তাই বেটিংয়ের বহু ঝামেলা মশাই। তার থেকে স্পট ফিক্সিং ভাল, লোকের চোখে ধরাও পড়ল না, আবার জুয়াড়িদের নির্দেশ অনুযায়ী কাজও হয়ে গেল। সেটা কী রকম?‌ ধরা যাক, চতুর্থ বল করতে যাওয়ার আগে বোলার তিনবার প্যান্টের বাঁ পায়ে বল ঘসবে, বাউন্ডারিতে দাঁড়ানো ফিল্ডার একুশ ওভারের মাঝে জল খাবে, সিলিপয়েন্টে থাকা ফিল্ডার অষ্টম ওভারের চতুর্থ বলের আগে গ্যালারির দিকে হাত তুলবে। সাংবাদিকতাতেও মশাই স্পট ফিক্সিং এসে যাচ্ছে। এবিপি আনন্দে দিদিমণির ইন্টারভিউ দেখতে গিয়ে বুঝলাম। বহুদিন পর স্টুডিওতে হাজির দিদিমণি। আহা কী আনন্দ!‌ সঙ্গে সেই সুমন, যিনি একসময় হেলিকপ্টারে কত ঘুরেছেন, জেতার দিন দিদিমণির থালা থেকে মুড়িও খেয়েছেন। মাঝে একটু বিপ্লবী হওয়ার শখ হয়েছিল। রাগী রাগী অভিব্যক্তিতে খোঁচাও দিয়েছেন। এখন কোথায় সেই রাগ, কোথায় সেই বিপ্লব!‌

 

abp ananda

তিনি যেন গদগদ। অন্য সময় এতরকম অপ্রিয় প্রশ্ন, এখানে ঝুলি থেকে সেগুলি বেরোলো না কেন বাপু?‌ মুখের দন্ত বিগলিত হাসি লাগিয়ে রাখতে হয়েছে সারাক্ষণ, পাছে তিনি রেগে যান!‌ উল্টোদিকে ব্যাটসম্যান, কোনও বোলার যদি ইচ্ছে করে লোপ্পা বল দিয়ে যায়, তাহলে তো ছক্কা হবেই। দু একটা ক্যাচ হয়ত উঠবে। কিন্তু ফিল্ডারদেরও তো বলা আছে, ক্যাচটা নেওয়া চলবে না। সারা ইন্টারভিউ জুড়ে অজস্র লোপ্পা ফুলটস দিয়ে গেলেন সুমন বাবু। দিদিমণিওও ছক্কা হাঁকিয়ে গেলেন। বিধানসভায় দিদিমণির একবার ইচ্ছে হয়েছিল, প্রশ্নের উত্তর দেবেন। বেশ ভাল কথা। কিন্তু বিরোধীদের নয়, শাসকদের প্রশস্তিমূলক প্রশ্ন বেছে নিয়েছেন। অর্থাৎ, যাঁদের উত্তর দিতে কোনও সমস্যা নেই। প্রশ্নটাই এমন যে, নিজের ঢাক সুন্দর পেটানো যাবে। বিধানসভায় তিনি প্রশ্ন ঠিক করে দেন। এখন দেখা যাচ্ছে, এবিপি আনন্দের ইন্টারভিউয়ের প্রশ্নও তিনিই ঠিক করে দিচ্ছেন। কী প্রশ্ন করা চলবে না, আর কীপ্রশ্ন করতে হবে। স্বাস্থ্য থেকে শিক্ষা, জাতীয় রাজনীতি থেকে রাজ্য রাজনীতি, তিনি তাঁর মতো করে বলে গেলেন। ভুলভাল তথ্য দিয়ে গেলেন। আর দাঁত বের করে সুমনবাবু শুনে গেলেন। ভুলটা ধরিয়েও দেওয়া গেল না, পাল্টা অপ্রিয় প্রশ্নগুলো কোর্টের পকেটেই রয়ে গেল। আগে যেভাবে গদগদ থাকতেন, যেভাবে মুড়ি খেতেন, যেভাবে হেলিকপ্টার চড়তেন, অনেকটা সেইরকম। অন্তত কুড়িবার অহেতুক হেঁসে গেলেন।
এক সময় আনন্দবাবুদের বেশ গোঁসা হয়েছিল। দিদিমণিও বিজ্ঞাপন দিতেন না। বলে দিয়েছিলেন, আনন্দবাজার পড়বেন না। হঠাৎ তলে তলে কী যে হয়ে গেল!‌ তিনি স্টুডিওতে এলেন। লম্বা ইন্টারভিউ দিলেন। আর মহা বিপ্লবী সঞ্চালক গদগদ হয়ে লুজ ডেলিভারি দিয়ে গেলেন। জল কোনদিকে গড়াচ্ছে!‌ বোঝা গেল, শুধু মোদিবাবু নয়, শুধু সিবিআই নয়, আনন্দবাবুদেরও দিব্যি প্রভাবিত করা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

12 + fifteen =

You might also like...

shimultala2

শীতের ছোট্ট ছুটিতে শিমূলতলা

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk