Loading...
You are here:  Home  >  ওপেন ফোরাম  >  Current Article

‌জল মাপতে চাইছেন ফুটবল সচিব

By   /  March 25, 2017  /  No Comments

(‌একদিকে আই লিগ। অন্যদিকে মাঠের বাইরেও ডামাডোল। আমূল বদলে যেতে পারে ইস্টবেঙ্গলের সমীকরণ। কে হতে পারেন ফুটবল সচিব?‌ কে কাকে চাইছেন, কে এগিয়ে?‌ দিন সাতেক আগে এই নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। সাত দিন পর ছবিটা কেমন?‌ ইস্টবেঙ্গলের একেবারে হাঁড়ির খবর, যা আপনি অন্য কোথাও পাবেন না। লিখেছেন নির্মল দত্ত।।)‌
ইস্টবেঙ্গলের বর্তমান ফুটবল সচিব ইতিমধ্যেই সংবাদমাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি আর ওই পদে থাকতে চান না। সম্প্রতি ক্লাবের এক অনুষ্ঠানে সচিব কল্যাণ মজুমদারকে তাঁর ইচ্ছার কথা জানান। ক্লাব সচিব সন্তোষ ভট্টাচার্যকে পাল্টা বলেন, তাহলে তিনি যেন তাঁর উত্তরসূরী ঠিক করে দেন। ইস্টবেঙ্গলের অন্যান্য কর্তা, ইউবি–‌র প্রতিনিধির সামনে সন্তোষবাবু বলেন, পরবর্তী ফুটবল–‌সচিব দলই ঠিক করবেন, তিনি নন। কয়েকদিন আগেই লিখেছি, ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের ক্ষমতায় রয়েছে পল্টু দাস গোষ্ঠী। তারাই নির্বাচনের জন্য প্যানেল ঠিক করবে। সেটাই স্বাভাবিক। অস্বাভাবিক হল, ফুটবল–‌সচিবের পদে থাকতে না চাওয়া। ‘‌দীর্ঘদিন আছি’‌, ‘‌ব্যবসার ক্ষতি’‌–‌ এগুলো কোনও কারণই নয়। ব্যবসা তো তিনি আগেও করতেন, ভবিষ্যতেও করবেন। আসলে তিনি দেখে নিতে চাইছেন, তাঁর সরে যাওয়ার ঘোষণায় কারা কেমন প্রতিক্রিয়া দেখান। জল মাপা যাকে বলে। লক্ষ রাখছেন শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার কী প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন, তার উপরও। সেটা দেবব্রত বাবুও বিলক্ষণ জানেন। সংবাদমাধ্যমের কাছে তিনি বলেছেন, ফুটবল সচিব থাকতে চাইছেন না, এমন খবর তাঁর কাছে নেই। আসলে, শীর্ষকর্তার এখন শ্যাম রাখি না কূল রাখি অবস্থা। ফুটবল সচিবের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব ছিলই। পরে তাঁর পারিবারিক ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত হন। এরপর যখন ধীরে ধীরে ফুটবল বিভাগটা ‘‌দমদম স্পোর্টিং ক্লাব’‌–‌এ পরিণত হয়, ভাগ্নে, শ্যালক, শ্যালক–‌পুত্র, পারিবারিক কর্মী, সবাইকেই বেতনভুক করে ফুটবল দলের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হয়। একটি সূত্রের খবর, আত্মীয়ের বাড়ি অ্যাকাডেমিকে ভাড়া দেওয়া হয়। একটা বড় অঙ্কের চেকও নাকি ক্লাব থেকে ইস্যু করা হয়। এইসব স্বজনপোষণ চোখ বুজে দেখতে হয়েছে শীর্ষকর্তাকে। কারণ, ফুটবল সচিবের সঙ্গে তাঁর ব্যবসায়িক সম্পর্কে জড়িয়ে যাওয়া। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, ক্লাবসচিব সব দেখেশুনেও নিশ্চুপ। যে কল্যাণ মজুমদার সভাপতি থেকে মালিদের পান থেকে চুন খসলে বঙ্কিম চন্দ্রীয় ভাষায় বাক্যবানে বিধ্বস্থ করেন, তিনি মৌন হয়েই রইলেন। কোন বাধ্যবাধকতায়, কে জানে!‌

east bengal

এদিকে, ক্লাবের এই ডামাডোল সংবাদমাধ্যমে আসার পর থেকে শুরু হয় টিমের ছন্দপতন। কোচ মর্গান তাঁর পাগলামিতে অটল থাকলেন। নিজের পেটোয়া প্লেয়ারদের জার্সি দিতে লাগলেন। এটা ফুটবল সচিব গোষ্ঠীর ওপর চাপ বাড়াতে লাগল। এখন তিনি দেখছেন, শীর্ষকর্তা তাঁকে চলে যেতে সম্মতি দেন নাকি সহ সচিব পদে আসীন করেন। শুধু তিনি নন, সবাই উদগ্রীব হয়ে আছে এটা দেখার জন্য।

এবার আসা যাক আগামী দিনে ফুটবল সচিব কে হবেন, সেই বিষয়ে। আগেরদিন জানিয়ে ছিলাম, দৌড়ে রয়েছেন চার জন। দেবরাজ চৌধুরি, রাজা গুহ, তপন দাস ও বাবলু গাঙ্গুলি। এর মধ্যে তপন দাল কিছুটা অসুস্থতা ও কিছুটা সময়ের অভাবের জন্য নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছেন। বাবলু গাঙ্গুলি সিএবি–‌র সঙ্গে যুক্ত। বাস্তবে তিনি পল্টু দাস গোষ্ঠীর লোকও নন। একটি উপদল হিসেবে এসেছিলেন। তাই তিনিও লড়াই দিতে পারছেন না। এইমুহূর্তে জোরালো দাবিদার দুজন, রাজা গুহ এবং দেবরাজ চৌধুরি। রাজা গুহ ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর স্বচ্ছতা এবং দলের প্রতি আনুগত্য প্রশ্নাতীত। তিনি আসিয়ান কাপ জয়ী ম্যানেজার। এই পদে তিনি তাই জোরালো দাবিদার। তবে তাঁর বয়স ষাটের কোঠায়। এটা নিয়ে শীর্ষকর্তাও ভাবছেন।

 কাকে চাইছেন শীর্ষকর্তা?‌

কাকে চাইছেন শীর্ষকর্তা?‌

উল্টোদিকে আরেক দাবিদার দেবরাজ চৌধুরি। তরুণ, শিক্ষিত, সঙ্গে বিত্তবানও। তাঁকে পদ দিলে তিনি দীর্ঘদিন সার্ভিস দিতে পারবেন। আসলে, দেবরাজ চৌধুরি শুধু ফুটবল সচিব নন, ভবিষ্যতে সচিব হওয়ারও যোগ্যতা রাখেন। এটাই বোধ হয় শীর্ষকর্তার প্রধান সমস্যা। দেবরাজ চৌধুরিরও সমস্যা আছে। মধ্য তিরিশের দেবরাজ সামান্য দিন দলের সঙ্গে যুক্ত। শতবর্ষের ফুটবল সচিব হলে দমদম লবির কতটা সহযোগিতা পাবেন, সে বিষয়ে ঘোর সন্দেহ রয়েছে। এখানেও সঙ্কটে শীর্ষকর্তা। রাজা গুহ এবং দেবরাজ চোধুরি, দুজনেই তাঁর ঘনিষ্ঠ। শুধু তাঁর নয়, প্রয়াত পল্টু দাসের পরিবারেরও ঘনিষ্ঠ। আরও মজার হল, এই দুজনের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর। একজন ফুটবল সচিব হলে অন্যজন তাঁর জন্য ঝাপিয়ে পড়বেন, এটা নির্দ্বিধায় বলা যায়। শতবর্ষের প্রাক্কালে আসন্ন নির্বাচনে তাই মহার্ঘ্য হতে চলেছে ফুটবল সচিব পদটিই।

(‌ক্লাবের এইসব সমীকরণগুলিও অনেকটা নদীর মতোই, সোজা পথে চলে না। মাঝে মাঝেই বাঁক নেয়। লাল হলুদের এইসব কাহিনী কবে, কোন কোনদিকে বাঁক নিচ্ছে, সেদিকে চোখ থাকল। কেন বাঁক নিচ্ছে, তা বোঝার চেষ্টাও থাকবে। সচেতন ও আগ্রহী পাঠকেরা চোখ রাখুন বেঙ্গল টাইমসের পাতায়)‌।

‌‌‌

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × 4 =

You might also like...

radio3

না বোঝা সেই মহালয়া

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk