Loading...
You are here:  Home  >  ওপেন ফোরাম  >  Current Article

এমন ছন্নছাড়া ইস্টবেঙ্গল কখনও দেখেছেন?‌

By   /  April 3, 2017  /  No Comments

নির্মল দত্ত

কোনও সন্দেহ নেই যে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতীয় ফুটবলের ‘‌ফ’‌ টুকু উকি মারতে পেরেছে ইস্টবেঙ্গলের সৌজন্যে। এখানেও ইস্টবেঙ্গল ক্লাব বর্তমানে যেন একটা হট্টমেলার দেশ। ক্লাব প্রশাসন ঘেঁটে ঘ। যার প্রভাব পড়ছে কোচ, ফুটবলার সকলের ওপর।

ক্লাবের প্রশাসনিক দিকটার দিকে একটু তাকানো যাক। ঝা চকচকে কাফেটেরিয়া, ঝকমকে গ্যালারি, লিফট, জাকুজি, জিমনাসিয়াম–‌আধুনিক ক্লাবে যা যা থাকার, সবই আছে। কিন্তু মাঠের হাল কেমন?‌ হাল চাষের মতোই। মাঠ নিয়ে প্রশাসন উদাসীন। প্রতিবার হইচই করে মাঠ সারানো হয়। নিট ফল অশ্বডিম্ব।

kalyan majumder

ক্লাব প্রশাসনের সর্বোচ্চ পদে রয়েছেন সচিব কল্যাণ মজুমদার। বর্তমান ফুটবলারদের হাল–‌হকিকত কিছুই তিনি জানেন না। কিছু জিজ্ঞেস করলে তিনি ফুটবল সচিবকে দেখিয়ে দেন। সচিব আর ফুটবল সচিবের মধ্যে সেতুবন্ধন করেন শীর্ষকর্তা। ঘটনা হল, সচিব রাশভারী। এবং কর্মজীবনে প্রশাসক হিসেবে সফলও। কিন্তু এখানে তাঁকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হয় না। তাঁর ওপর পুরোটা ছেড়ে দিলে ক্লাবের কল্যাণই হত। কিন্তু তা সম্ভব নয়। কারণ, তাতে অন্যান্য অনেক কর্মকর্তার ক্ষমতা খর্ব হবে। তাই তিনি জগন্নাথ।

paltu das

এবার একটু পাশের ক্লাবের দিকে তাকানো যাক। যেখানে সোনি নর্ডি নিজের দেশের হয়ে খেলে, রাতে ফিরে, সকালে অনুশীলন করেন, ম্যাচে দলকে জেতান। সেখানে ইস্টবেঙ্গলের বিদেশিরা কবে বাড়ি যান, কবে ফেরেন, কেউ জানে না। প্রশাসনের শীর্ষে যিনি আছেন, তিনি তো ননই। দেবজিৎ আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন, একমাসের মধ্যে ফিট হয়ে মাঠে নামেন, ম্যাচ খেলেন। আর ইস্টবেঙ্গলের কেবিন লোবো, বিকাশ জাইরুরা বছরভর অসুস্থ। এই ক্লাবে দুই তরুণ দক্ষ কর্তা একসময় প্রয়াগে ছিলেন। তাঁদের দিয়ে গার্সিয়াকে নিয়ে আসা যেত। কিন্তু তেমন কোনও উদ্যোগই ক্লাব নিতে চায়নি। প্রতিবার ফিটনেসের অভাবে মার খায় ক্লাব। আগে সহ সচিব এই সব ব্যাপারে মাথা ঘামাতেন। এখন তিনিও নিষ্পৃহ।

debabrata

১৯৮৪ সালে লিগে ইডেনে মোহনবাগানের কাছে বাবু মানির গোলে হেরে যায় ইস্টবেঙ্গল। ফুটবলারদের গা ছাড়া মনোভাব লক্ষ করে ড্রেসিংরুমে কোচ–‌সহ তাঁদের তুলোধনা করেন পল্টু দাস ও জীবন চক্রবর্তী। যার ফলস্বরূপ মাস দুই পরে যুবভারতীতে আই এফ এ শিল্ড ফাইনালে পঞ্চমীর দিন মোহনবাগানকে উড়িয়ে দিয়ে কার্তিক শেঠের গোলে জয়লাভ করে ইস্টবেঙ্গল। ১৯৮৫ সালে কীভাবে দেশের সেরা দল গড়েছিলেন পল্টু দাস, জীবন চক্রবর্তীরা, আজ তা ইতিহাস। আসলে, পল্টু দাস জানতেন, কখন কঠোর হতে হয়, কখন নরম। সেই বিচক্ষণতা এখনকার প্রশাসকদের নেই। তাই দেশের সবথেকে নামীদামি ক্লাব এখন সরকারি অফিস, আসি যাই মাইনে পাই। এমন ছন্নছাড়া ইস্টবেঙ্গল আগে কখনও দেখা গেছে কি?‌ এটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

13 − 2 =

You might also like...

solan3

চোখ ধরেছে মেঘের ছাতা

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk