Loading...
You are here:  Home  >  খেলা  >  Current Article

ডার্বির আগে সিনেমায় চলে যেতেন অমল দত্ত

By   /  April 7, 2017  /  No Comments

আবার এক ডার্বি। কিন্তু ডার্বিকে অন্য উচ্চতায় যিনি পৌঁছে দিয়েছিলেন, সেই অমল দত্তই নেই। ডার্বির সময় তাঁর পরিবারের ছবিটা কেমন থাকত? প্রয়াত কোচের স্ত্রী আরতি দত্ত শোনালেন অনেক অজানা কথা। তাঁর মুখোমুখি শান্তনু ব্যানার্জি।।

আগামী রবিবার শিলিগুড়ির কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হতে চলেছে চির প্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল আর মোহনবাগান। চলমান আই লিগের প্রথম ডার্বি ম্যাচের স্কোরলাইন ছিল গোলশূন্য। আর তাই ফিরতি ডার্বি ম্যাচে দুই দলই একটা ফয়সালার মধ্যে আসতেই চাইবেই। চলতি আই লিগে ইস্টবেঙ্গল এবং মোহনবাগান দুই দলই শিরোপা অর্জনের দৌড়ে রয়েছে। রেন্ড এ্যান্ড গোল্ড বিগ্রেড ১৪ ম্যাচে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। আর গঙ্গা পাঁড়ের ক্লাব ১৩ ম্যাচে ২৬ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে। আর আইজল এফ সি লাল হলুদ শিবিরের সঙ্গে সম সংখ্যক ম্যাচ খেলে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে আই লিগ টেবিলের চুড়োয় অবস্থান করছে।
চলমান আই লিগে আগামী রবিবার শিলিগুড়ির স্টেডিয়ামে ‘ইজ্জতের লড়াই’ লড়তে মাঠে নেমে পড়বে আর্চ রাইভালরা। ট্রেভর জেমস মর্গ্যান বনাম সঞ্জয় সেনের মস্তিস্কের লড়াই দেখার অপেক্ষায় তামাম ফুটবল প্রেমীরা। আর এই চির প্রতিদ্বন্দ্বীদের লড়াই এর সাথে জড়িয়ে আছে আরও একটি নাম। প্রয়াত প্রাক্তন ফুটবলার তথা কোচ অমল দত্ত। ১৯৬৩ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ইস্টবেঙ্গল আর মোহনবাগানের কোচ হিসেবে ডাগ আউটে বসে ‘বড়ো ম্যাচের’ তাপ পরতে পরতে গায়ে মেখে নিয়েছিলেন। ভারতীয় ফুটবলে প্রয়াত অমল দত্ত আজ নিজেই একটা মিথ। ইস্ট-মোহনের চির প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে একটা বড় জায়গা জুড়ে রয়েছে। আর এরই সাথে প্রয়াত প্রাক্তন ফুটবল কোচ অমল দত্তের নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েছে। ১৯৬৩ থেকে ১৯৬৪ সালের ফুটবল মরশুমে ইস্টবেঙ্গলের কোচ হিসেবে অমল দত্তের পথ চলা শুরু। আর ২০০৫-২০০৬ মরশুমে মোহনবাগানের কোচ হিসেবে শেষবারের মতো বড়ো ম্যাচে কোচ হিসেবে ভুমিকা পালন। ৪৩ বছর ধরে মশাল বাহিনী আর পালতোলা নৌকার প্রশিক্ষকের দায়িত্ব নিতে দেখা গিয়েছে প্রয়াত অমল দত্তকে। আর ৪৩ বছর ধরে বড় ম্যাচের টানটান উত্তেজনা আর টেনশনকে ‘নীলকণ্ঠের’ মতো পান করে গিয়েছেন।

amal dutta
রবিবাসরীয় ডার্বি ম্যাচে এখন ট্রেভর জেমস মর্গ্যান আর সঞ্জয় সেন অগ্নি পরীক্ষার মুখে। একইভাবে একদা বারে বারে প্রয়াত অমল দত্তকে পেশাদারিত্বের খাতিরেই অগ্নি পরীক্ষার মুখে বসতে হয়েছিল। সেদিনের সেই দিনগুলো কেমন ছিল। আপনাদের জানতে ইচ্ছে করে না। জানতে সকলেরই ইচ্ছে করে। আর তাই রবিবাসরীয় বড় ম্যাচের আগে প্রয়াত অমল দত্তের স্ত্রী আরতি দত্তের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল সেদিনের সোনা ঝরা দিনগুলি সম্পর্কে। প্রয়াত অমল দত্তের স্ত্রীকে এই বিষয়ে জিঞ্জাসা করা হলে হঠাৎই তিনি স্মৃতির সরণীতে হাঁটতে হাঁটতে কোথায় যেন হারিয়ে গেলেন। আর এরপর কিছুক্ষণ পরেই আরতি দেবী জানালেন, “বড় ম্যাচের আগে ওনার খুবই টেনশন হত এটা ঠিকই। কিন্তু বাড়িতে তা কখনই বুঝতে দিতেন না। ছেলে- মেয়েরা, আমি নিজেও খুবই টেনশনে চিন্তায় থাকতাম। কিন্তু উনিই সব সময় আমাদের বলতেন ওটা মাঠের লড়াই। ওটা নিয়ে তোমরা এত চিন্তা করছ কেন”। যদিও বড়ো ম্যাচের আগে অমল দত্তের চিন্তা আর টেনশনের কোন শেষ ছিল না। তাসত্ত্বেও উনি আমাদের সকলের মাঝে স্বাভাবিক থাকারই চেষ্টা করতেন। বড় ম্যাচের টেনশনকে লাঘব করার জন্য সিনেমা দেখতে চলে যেতেন আমাদের সকলকে নিয়ে। এমনটাই জানালেন আরতি দেবী। ডার্বি ম্যাচের আগের দিন রাত্রির বেলায় প্রয়াত অমল দত্তের চোখে ঘুম আসত না। বড় ম্যাচের টেনশন আর চিন্তা গ্রাস করে ফেলতো মানুষটাকে। কিন্তু আমাদের তা বুঝতেও দিতেন না স্মৃতির পাতা উল্টে এমনই অজানা, অচেনা অমল দত্তের সঙ্গে আমাদের পরিচয় করিয়ে দিলেন আরতী দত্ত। এও জানালেন, ‘বাড়িতে অমল দত্ত ছিলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা মানুষ। মাঠের টেনশন আর চিন্তাকে তিনি ঘরে ঢুকতেই দিতেন না’। আমাদের বলতেন, ‘ওসব নিয়ে তোমরা ভেবো না’। সকলের সঙ্গে হাল্কাভাবে বড় ম্যাচের আগের দিনটা কাটাতেন। এটা বড় ম্যাচ বলে নয়। সকল সময়েই ঘরে স্বাভাবিক কাজকর্ম আর কথা বলা নিয়ে উনি সময় কাটিয়ে নিতেন”। ২০১৬ সালের ১০ জুলাই পরলোক গমন করেন প্রয়াত ফুটবল কোচ অমল দত্ত। স্মৃতির সরণি ঘেটে আরতি দেবী জানালেন, ‘মৃত্যুর দুই দিন আগেও ফুটবল নিয়েই একমাত্র কন্যার সঙ্গে কথা হচ্ছিল অমল দত্তের’। আরতী দেবী সকলকে চমকে দিয়ে জানালেন, ‘লিওনেল মেসি পেনাল্টি শর্ট মিস করেছিল শতবর্ষীয় কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির বিরুদ্ধে’। ওই পেনাল্টি মিস নিয়ে অমল দত্ত নিজের কন্যাকে জানিয়েছিলেন, “জানিস ফুটবল সম্রাট পেলে নিজের ফুটবল কেরিয়ারে কোনওদিন পেনাল্টি শর্ট মারেননি” এমনটাই জানিয়েছেন প্রয়াত অমল দত্তের স্ত্রী আরতি দেবী। এই তথ্য আজ পর্যন্ত কোনও গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়নি। এমনই বলেছিলেন প্রয়াত অমল দত্ত নিজের কন্যাকে। ‘বড় ম্যাচের তাপ উত্তাপ এতটাই ছিল যে আমার ছেলে মেয়েরা টেনশনে আর চিন্তার জন্য বড় ম্যাচের পরেও ওদের বাবাকে বাড়িতে দেখে পিছনের ঘরে চলে আসত। কিন্তু উনি বাড়িতে এসে একদম নর্মাল জীবনে ফিরে আসতেন। উল্টে ছেলেমেয়েদের নিজের কাছে ডেকে নিয়ে বলতেন তোরা কেন চিন্তা করছিস। ওসব নিয়ে তোরা চিন্তা করবি না’।
আরতি দেবীকে জানতে চাওয়া হয়েছিল এমন কোন ঘটনা অথবা মুহূর্ত যা আজও আপনার স্মৃতিতে অম্লান। কিছুক্ষণ চুপ করে থাকার পর আরতি দেবী জানালেন, ‘উনি সকল সময়েই চাকুরি হারানোর ভয়ে থাকতেন’। বলতেন, ‘আগামীকাল ম্যাচ আছে। জিততেই হবে। তা না হলে আর চাকুরী থাকবে না’। আরতি দেবী এও জানিয়েছেন, ‘বড় ম্যাচ বলে নয়। উনি সকল ম্যাচকেই একটা ম্যাচ হিসেবেই দেখতেন। বড়ো ম্যাচকে উনি কখনই আলাদাভাবে গুরুত্ব দিয়ে নিজের ওপরে অহেতুক চাপ, টেনশন ধরে রাখতেন না। আর পাঁচটা ম্যাচের মতোই একটা ম্যাচ হিসেবেই অমল দত্ত বড় ম্যাচকে দেখতেন’। আরতি দেবী এও বলেছেন, ‘ওনার টিমের ফুটবলারদের ওপরে বিশ্বাস ছিল’। পুরনো দিনের পাতা উল্টে জানালেন, ‘কোচ হিসেবে আমি মাঠে ফুটবলারদের অনুশীলনের সময়ে যা বলেছি সেগুলো ফুটবলারদের মাথায় রাখতে হবে’। জানালেন, ‘উনি বলতেন মাঠে নেমে আমি খেলব না। খেলতে হবে ফুটবলারদের। আমি ওদের গাইড করেছি। কিন্তু মাঠেই ফুটবলারদের প্রমাণ করতে হবে এমন বিশ্বাস আর ফুটবলবোধ ছিল প্রয়াত কোচ অমল দত্তের’। এরপরই অকপটভাবে প্রয়াত অমল দত্তের স্ত্রী আরতি দেবী বলেছেন, ‘চাকুরি হারানোর ভয় সকল সময়েই ছিল। ম্যাচ হেরে গেলে চাকুরি থাকবে না। এই কথা সব সময় উনি আমাদের বলতেন। কিন্তু তা বলে ম্যাচ জিতে যাওয়ার পর কিংবা মরশুম শেষে আমাকে চাকরিতে রাখো, অর্থাৎ কোচ হিসেবে পুনঃবহাল করো এমন দাবী প্রয়াত অমল দত্ত কোন ক্লাব কর্মকর্তার কাছে কোনওদিনও রাখেন নি। অত্যন্ত জোরের সঙ্গে এবং দৃঢ়চিত্তের সঙ্গে জানিয়েছেন প্রয়াত প্রাক্তন ফুটবলার অমল দত্তের স্ত্রী আরতি দত্ত। ৮৬ বছর বয়সে প্রয়াত প্রাক্তন কোচ অমল দত্ত সকলকে ছেড়ে অমৃতলোকের পথে যাত্রা করেছেন। তাঁর মৃত্যুর নয় মাস পর চলমান আই লিগের ফিরতি ডার্বি ম্যাচ আয়োজিত হতে চলেছে শিলিগুড়িতে। এই সময়ে অমল দত্ত জীবিত থাকলে তিনি নিশ্চয় ডার্বি ম্যাচ নিয়ে মন্তব্য ছুড়ে দিতেন। আসন্ন রবিবাসরীয় ডার্বি ম্যাচে কে এগিয়ে আর কে পিছিয়ে। ‘যেমনটা ফিফা বিশ্বকাপ চলাকালীন রেওয়াজ ছিল। আর প্রয়াত কোচের প্রেডিকশন খুব একটা ভুল হত না। ৫-৬ টি ম্যাচের পরেই উনি বলে দিতেন কোন টিম বিশ্বকাপ পেতে চলেছে’। এতটা নির্ভুল ছিলেন অমল দত্ত এমনটাই শোনা গেল তাঁর স্ত্রী আরতি দেবীর কাছ থেকে। চলমান আই লিগে প্রয়াত প্রাক্তন কোচ অমল দত্ত সশরীরে নেই এটা সত্য। কিন্তু তিনি না থেকেও গোটা ভারতীয় ফুটবলের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন স্মৃতির সরণি জুড়ে!

1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

12 + 19 =

You might also like...

radio3

না বোঝা সেই মহালয়া

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk