Loading...
You are here:  Home  >  জেলার বার্তা  >  দক্ষিন বঙ্গ  >  Current Article

পাহাড়ে হারিয়ে যাওয়া সেই মানুষটা

By   /  April 14, 2017  /  No Comments

বেড়াতে গিয়ে এমন অনেক মানুষের সঙ্গেই দেখা হয়ে যায়, বাকিদের থেকে যাঁরা অনেকটাই আলাদা। অযোধ্যায় গিয়ে তেমনই এক পাহাড়প্রেমী মানুষের দেখা পাওয়া গেল। তাঁকে নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন। লিখেছেন সংহিতা বারুই।।
একদিকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা পাহাড়। চারিদিকে ফুটে রয়েছে লাল পলাশ। কিছুটা পথ উঠলে পাহাড়ি ঝর্ণা। সঙ্গে থাকা সহজ সরল সেই মানুষগুলো। কোনটাকে ছেড়ে কোনটা বলব!‌ আসলে, কোনওটাই ভোলার নয়। টুকরো টুকরো এমন কত স্মৃতি মনে গেঁথে গিয়েছে। কয়েক মাস আগেও যে জায়গাটার শুধু নাম শুনেছি, সেই অযোধ্যাই যেন নানা চেহারা নিয়ে হাজির। আগের কিস্তিতে সেই পাহাড়ের কিছু কথা লিখেছি। এই কিস্তিতে বরং একজন মানুষকে নিয়ে লেখা যাক।

ajodhya4

আমার মতো তাঁরও এই জেলার সঙ্গে কোনও সম্পর্কই ছিল না। কলকাতা থেকে আসা। ভালবাসার টানে জড়িয়ে যাওয়া। এখন বেশ গর্ব করেই বলতে পারেন, পুরুলিয়া আমার সেকেন্ড হোম। সহজ–‌সরল সেই মানুষগুলোর সঙ্গে দিব্যি মিশে গিয়েছেন। এক পাহাড় থেকে আরেক পাহাড়ে ঘুরে বেড়ানোই তাঁর নেশা। আর এই নেশাটাকেই ছড়িয়ে দিচ্ছেন এই প্রজন্মের কিশোর ও তরুণদের মধ্যে।
ভদ্রলোকের নামটা বলে ফেলা যাক। পীযূষ সিনহা। বয়স চল্লিশের গন্ডি পেরিয়ে গিয়েছে। কলকাতায় একটা স্থায়ী ঠিকানা আছে। অন্য একটা পেশাও আছে। কিন্তু পাহাড়–‌পাগল এই মানুষটার মনটা পড়ে থাকে এই অযোধ্যাতেই। প্রান্তিক একটা জায়গা মাঠাবুরু। সেটাই যেন একটু একটু করে পরিচিতি পাচ্ছে তাঁর হাত ধরে। তাঁর টানেই কলকাতার কত নামী–‌দামী স্কুলের ছাত্ররা চলে আসছে এই অখ্যাত মাঠাবুরুতে। দুর্গম পথ পেরিয়ে তারা উঠছে পাহাড়ের চূড়োয়। নিছর পাহাড়ে ওঠা নয়, আসলে একটার পর একটা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে যাওয়া। জীবনের পাহাড়েও তো এমন কত ঘাত–‌প্রতিঘাত আসে। এই পাহাড় যেন সেই বাধা টপকে যাওয়ার সাহস জোগায়।

ajodhya5

পীযূষবাবুর সঙ্গে আলাপ এই বেড়াতে এসেই। আমরাও এসেছিলাম মাঠাবুরুতে। সেখানেই পেয়ে গেলাম এই মানুষটিকে। দেখলাম, আমাদের মতো অনেকেই এসেছেন পাহাড়ে শান্তিতে কয়েকটা দিন কাটাবেন বলে। যাই যাই শীতের আবহ, ঋতুচক্রে বসন্ত, লাল পলাশ তার জানান দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের কাছে সম্পূর্ণ অচেনা, অজানা একটা জায়গা। পাহাড়ে ওঠার তেমন অভ্যেসও নেই। কিন্তু কীভাবে যে ওই সাড়ে বারোশো ফুট উঁচুতে উঠে পড়লাম, কে জানে!‌ এভাবেই একদিন এই পাহাড়ে দল নিয়ে এসেছিলেন পীযূষবাবু। পাহাড় জয় তো করলেনই, জায়গাটা বড় ভাল লেগে গেল। ঠিক করলেন, এখানেই যদি আস্তানা তৈরি করা যায়, কেমন হয়!‌ আস্ত একটা জমিই কিনে ফেললেন। মাঠাবুরু গ্রাম পঞ্চায়েত লাগোয়া এই জমিতে কোনওদিন কারখানা হবে না। এখানে সুদূর ভবিষ্যতেও কোনওদিন প্রোমোটিং হবে না। এটুকু বলা যায়, কোনও হিসেবি মানুষ সেখানে জমি কিনতে যাবেন না। কিন্তু কিছু কিছু বেহিসেবি মানুষ থাকেন, যাঁদের জন্য পৃথিবীটা একটু হলেও অন্যরকম। যাঁরা আমার–‌আপনার মতো আর দশজন আম পাবলিকের থেকে একটু অন্যরকম ভাবেন। তৈরি করে ফেললেন স্বামী বিবেকানন্দ অ্যাডভেঞ্চার ইনস্টিটিউট। কলকাতার নারকেলডাঙ্গার পাশাপাশি প্রান্তিক এই মাঠাবুরুও হয়ে উঠল আরও এক ঠিকানা। শুধু কি তাঁর?‌ তাঁর মতোই যাঁরা পাহাড়কে ভালবাসেন, এমন অনেকেরই ঠিকানা। দারুণ সাচ্ছন্দ্য হয়ত নেই, কিন্তু তাঁর তাঁবুতে যে অ্যাডভেঞ্চারের হাতছানি। তাছাড়া, যাঁরা ঘরের সব সুখ, সব সাচ্ছন্দ্য চাইবেন, তাঁদের এখানে না আসাই ভাল। তাঁরা বরং অন্য কোনও পর্যটনকেন্দ্র খুঁজে নিন। এখানে তাঁরাই আসুন, যাঁরা প্রকৃতিকে ভালবাসেন, যাঁরা পাহাড় ও অরণ্যকে ভালবাসেন, যাঁরা এই সহজ সরল মানুষগুলোকে ভালবাসেন।

ajodhya6

শহরের বিভিন্ন স্কুলের ছেলেরা আসে। দল বেঁধে তরুণরা আসে। সেই পাহাড় জয়ের স্বপ্ন নিয়ে। তাঁদের কাছে ভরসার ঠিকানা এই পীযূষবাবু। একসময় টেবিল টেনিস খেলতেন, ভাল লাগল না। ভালবেসে ফেললেন পাহাড়কে। জড়িয়ে গেলেন নারকেলডাঙ্গা ট্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে। এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে ঘুরে বেড়ালেন। ঠান্ডার দেশে তো অনেকেই যান। কিন্তু এই রুক্ষ মাটির শুশুনিয়া বা অযোধ্যাও হাতছানি দিয়ে ডাকে।

এই প্রজন্মের ছেলেদের কত দুর্নাম। তাঁরা কুঁড়ে। তারা সবসময় মোবাইলেই মগ্ন। বাইরের জগৎটা চেনে না। কিন্তু সেই ছেলেগুলোই বদলে যায় এই পাহাড়ের দেশে এসে। এত বড় পাহাড় ওঠা যাবে তো!‌ মনের ভেতর জমে থাকা আস্ত একটা পাহাড়। একটা পাহাড় ভাঙে, অন্য পাহাড় জেগে ওঠে। ভয়ের পাহাড় ভাঙে, সাহস ও সংকল্পের পাহাড় তৈরি হয়।

এভাবেই পাহাড় কখন যেন জীবনের সঙ্গে মিলে যায়।

(বেড়াতে গিয়ে এমন অনেক মানুষের সঙ্গেই দেখা হয়ে যায়, যাঁরা আর দশজনের থেকে অনেকটাই আলাদা। এমন কিছু মানুষকে নিয়ে বেঙ্গল টাইমসের নতুন বিভাগ— তবু মনে রেখো। এই সংখ্যায় পাহাড়–‌পাগল এক মানুষর কথা। আপনিও যদি বেড়াতে গিয়ে এমন কোনও মানুষের সন্ধান পান, অবশ্যই লিখে পাঠান। সঙ্গে তাঁর ও সেই জায়গার ছবিও পাঠাতে পারেন। লেখা পাঠানোর ঠিকানা:‌ bengaltimes.in@gmail.com) ‌‌

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

17 − two =

You might also like...

mukul roy2

সবুজ সংকেত?‌ মুকুলকে এত বোকা মনে হয়!‌

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk