Loading...
You are here:  Home  >  ওপেন ফোরাম  >  Current Article

ইসিএলের থ্রি মাস্কেটিয়ার্স

By   /  April 27, 2017  /  No Comments

শ্রীনাথ কৌশিক

কয়েকদিন ধরেই চলল অ্যাপোলো কাণ্ড। মাঝে মাঝেই উঠে আসছে ফর্টিস, মেডিকা এসব বেসরকারি হাসপাতালের নাম। আরও কত হাসপাতাল যে এই তালিকায় আছে!‌ জেলার নার্সিংহোমগুলিও পিছিয়ে নেই। অভিযোগের শেষ নেই। ১)‌ অহেতুক টেস্ট করানো। ২)‌ দরকার নেই, তবু অপারেশন টেবিলে ঠেলে দেওয়া। ৩)‌ দামী দামী ওষুধ লেখা। ৪)‌ একরকম প্যাকেজে ভর্তি করে বিল বাড়িয়ে দেওয়া। ৫)‌ মৃত্যুর পরেও বডি আটকে রাখা, আগে টাকা আদায় করে তারপর মৃতদেহ ফেরত দেওয়া। এমন কত অভিযোগ শোনা যায়। আমাদের সকলেরই কম–‌বেশি অভিজ্ঞতা আছে। যত শুনছি, নার্সিংহোম আর চিকিৎসকদের ওপর ভরসাটাই যেন হারিয়ে যাচ্ছে।

ecl3
যদি সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা বলেন, সেখানেও অভিযোগের লম্বা ফিরিস্তি। হাসপাতাল নোঙরা, পরিকাঠামো নেই, বেড পাওয়া যায় না–‌এসব অভিযোগ তো আছেই। হয়ত চিকিৎসকের কিছু করারও থাকে না। কিন্তু চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো আসে, তা হল ১)‌ দুর্ব্যবহার। ২)‌ বাইরে চেম্বার চালানো। সেখানে রোগীদের যেতে প্রভাবিত করা ৩) অযথা রেফার করা। মানে, দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া। এগুলোও আমাদের অজানা নয়।
কিন্তু আমার অভিজ্ঞতা থেকে আমি একটি হাসপাতালের কথা বলতে পারি। সেই হাসপাতালের কয়েকজন উদ্যমী ও তরুণ চিকিৎসকদের কথা বলতে পারি। যাঁরা একেবারেই অন্যরকম। যাঁদের দেখলে ভরসা জাগে। যাঁদের দেখলে ডাক্তারদের শ্রদ্ধা করতে ইচ্ছে করে। সেই তিন তরুণ চিকিৎসকের নামগুলো আগে লেখা যাক। ডা. অরিজিৎ ব্যানার্জি, ডা. দেবজ্যোতি দাস, ডা.‌ রাজীব শিকদার। এই তিনজনই ইসিএলের সাঁকতোড়িয়া‌ হাসপাতালের চিকিৎসক। ডান–‌বাম, শিশু–‌বৃদ্ধ, ধনী–‌দরিদ্র— যে কোনও মহলে খোঁজ নিয়ে দেখুন, সবার চোখেমুখেই খুঁজে পাবেন মুগ্ধতার ছবি। শুনেছি, অর্ধেক ডাক্তারি হয়ে যায় ব্যবহারে। রোগীর ঠিকঠাক কথা বললেই, তাঁকে সাহস দিলেই, মনের জোর অনেকটা বেড়ে যায়। টেকনিক্যালি কে কেমন ডাক্তার, সেটা বোঝার মতো যোগ্যতা আমার অন্তত নেই। এবং, একথা স্বীকার করতে কোনও কুণ্ঠাও নেই। তবে আমরা, সাধারণ মানুষ কতগুলো বিষয় দিয়ে, আমাদের মতো করে বোঝার চেষ্টা করি। ১)‌ প্রত্যেকটি রোগীকে অত্যন্ত যত্ন নিয়ে চিকিৎসা করেন। ২)‌ কী সমস্যা, রোগীর বাড়ির লোককে ঠাণ্ডা মাথায় বুঝিয়ে বলেন। ৩)‌ রোগীর বাড়ির লোক অনেক সময় অযাচিত জ্ঞান দিয়ে থাকেন (‌যেন তাঁরা চিকিৎসার ব্যাপারটা ডাক্তারদের থেকেও ভাল বোঝেন)‌। এসব ক্ষেত্রে রেগে যাওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু এই তিনজনকে দেখেছি, কঠিন পরিস্থিতিতেও অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামাল দিতে। ৪)‌ একগুচ্ছ ওষুধ লিখে হয়রানির মধ্যে ফেলা নয়, একেবারেই অল্প ওষুধ লেখেন। ৫)‌ ওষুধ কোম্পানির প্রলোভনে পা দিয়ে দামী ওষুধ নয়, একেবারেই কম দামের, সাধারণ ওষুধ লেখেন।

ecl

৬)‌ অহেতুক পরীক্ষা–‌নিরীক্ষা নয়, কার কী সমস্যা, অভিজ্ঞতা থেকেই বোঝেন। ৭) অনেকেই বাইরে চেম্বার খুলে বসেন। কিন্তু এই তিনজনের কোথাও কোনও চেম্বার আছে বলে শুনিনি। ‌ ৮) ‌অনেকেই রেফার করে নিজেদের দায় এড়িয়ে যান। কিন্তু এই তিনজন দায়িত্ব নিয়ে চিকিৎসা করেন। যেখানে নিজেদের পরিকাঠামো নেই, যেখানে একান্তই রেফার দরকার, শুধুমাত্র সেখানেই রেফার করেন। আসলে, দায়িত্ব এড়িয়ে না গিয়ে চ্যালেঞ্জ নেওয়ার মানসিকতা দেখান। ৯)‌ খোঁজখবর নিয়ে আরও একটা কথা জেনেছি। তা হল, কারও অবস্থা খুব সিরিয়াস হলে এঁরা বাড়িতেও চলে যান। না, এর বিনিয়ময়ে কোনও অর্থ নিয়েছেন, এমনটা শুনিনি। ১০)‌ এমন কাজে বাধা আসেনি?‌ আসতেই পারত। কিন্তু আশার কথা, হাসপাতাল প্রশাসন এই তিন উদ্যমী চিকিৎসকের পাশেই আছেন। শোনা যায়, সিএমও ডা. পঙ্কজ মণ্ডল এই তিন তরুণ চিকিৎসকের তৎপরতায় খুবই খুশি। ‌বাধা দেওয়া তো দূরের কথা, বরং উৎসাহই দেন।

এইসব বিষয়গুলো সত্যিই মন ছুঁয়ে যায়। সবাই হয়ত তলিয়ে দেখেন না। কিন্তু কেন জানি না, ভাল কিছু দেখলে প্রাণ খুলে দশজনকে বলতে ইচ্ছে করে। বলতে গিয়েই দেখেছি, বাকিদের মুগ্ধতাও অনেকটা আমার মতোই। তখন সেই মুগ্ধতা আরও বেড়েছে। বুঝতে পারি, এই তিন চিকিৎসক অনেকের মনেই গভীর এক ছাপ ফেলেছেন। ভাবতে অবাক লাগে, এখনও এমন বিরল প্রজাতির মানুষ তাহলে আছেন!‌ তাই হয়ত এই আকালেও আমরা নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখতে পারি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

16 − twelve =

You might also like...

amstrong3

চাঁদে কি সত্যিই মানুষ গিয়েছিলেন ?

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk