Loading...
You are here:  Home  >  কলকাতা  >  Current Article

দোহাই, খেলোয়াড়দের স্বাধীন থাকতে দিন

By   /  May 6, 2017  /  No Comments

রাজ্যের দিকপাল ফুটবলার। একসময় বুক চিতিয়ে লড়াই করেছেন। আজ তাঁরা জো হুজুরের দলে। নিজেদের লড়াইকে নিজেরাই বড্ড ছোট করে দিচ্ছেন। লিখেছেন স্বরূপ গোস্বামী।।
দড়ি টানাটানির খেলা থেকে বাদ পড়ছে না খেলার মাঠ। বাদ পড়ছে না যুবভারতী। বাদ পড়ছে না অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপ।

এই প্রথম যুব বিশ্বকাপের আসর বসছে ভারতে। যার ফাইনাল হবে আমাদের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে। কিন্তু তাকে নিয়েও নোঙরা রাজনীতি করতেই হবে। কেন্দ্র সরকার, রাজ্য সরকার কেউই পিছিয়ে নেই। শুধু নিজেরা নোঙরামিতে সামিল, তাই নয়। অন্যদেরও সামিল করার নির্লজ্জ চেষ্টা। ফুটবল সমাজও যেন অসহায়। কার কথা শুনবেন, ভেবেই পাচ্ছেন না দিকপাল ফুটবলাররা।

বিষয়:‌ কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রীর যুবভারতী পরিদর্শন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী যুবভারতী পরিদর্শনে আসতেই পারেন। প্রাক্তন খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনায় বসতেই পারেন। রাজ্য সরকারও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে, ন্যূনতম সৌজন্য দেখাবে, সেটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু দেখা গেল, রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী নেই। রাজ্যের দিকপাল প্রাক্তন খেলোয়াড়রাও নেই। খবরের কাগজের দৌলতে এটুকু অনেকেরই জানা। কিন্তু একটু তলিয়ে দেখুন। আরও অনেক প্রশ্ন উঠে আসবে।

আগে কেন্দ্রের কথাতেই আসি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আসবেন, খুব স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু এর সঙ্গে রাজনীতির রঙ জড়ানো খুব দরকার ছিল?‌ সাইয়ে বিজেপি নেতাদের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করতে হল কেন?‌ আসলে, রাজ্য বিজেপি চাইছে, এই বিশ্বকাপকে ঘিরে নিজেদের পালে হাওয়া টানতে। যুবভারতী সংস্কারে যে কেন্দ্রেরও টাকা আছে, সেটা আরও বেশি করে বোঝাতে। যেমনভাবে অমিত শাহ কদিন আগে রাজ্যের বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন, ক্রীড়ামন্ত্রীও তেমনভাবেই খেলোয়াড়দের সঙ্গে বৈঠক করুন, যেন আগামীদিনে খেলোয়াড়দেরও মিটিং মিছিলে পাওয়া যায়, নানা রকম দাক্ষিণ্য দিয়ে বা টোপ দিয়ে নিজেদের শিবিরে আনা যায়। প্রাক্তনদের আমন্ত্রণ জানানো হল, ভাল কথা। কিন্তু এলেন কারা?‌ অলোক মুখার্জি, অতনু ভট্টাচার্য সত্যজিৎ চ্যাটার্জি। তিনজনই কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মী। দুজন এফসিআইয়ের, একজন কোল ইন্ডিয়ার। শুধু কি আমন্ত্রণ পেয়েই এঁরা এসেছেন?‌ একেবারেই নয়। অফিসের মাধ্যমে চাপ দেওয়া হয়েছিল। না এলে অফিসে কী কী হয়রানির শিকার হতে হবে, এঁরা জানেন। তাই সবাই যখন বয়কটের রাস্তায়, তখন অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাঁদের আসতে হল। খেলোয়াড়দের আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন, ভাল কথা। অফিস থেকে এই চাপ দেওয়াটা কি খুব জরুরি ছিল?‌ এঁদের মধ্যে কয়েকজনকে আগে তৃণমূলের রাজনৈতিক মঞ্চেও দেখা গিয়েছে। নিশ্চিত থাকুন, এঁদের মধ্যে কেউ কেউ তৃণমূল নেতাদের ফোনে জানিয়েছেন, ‘‌দাদা ভুল বুঝবেন না, অফিস থেকে চাপ দেওয়া হয়েছিল, তাই যেতে হয়েছিল।’ এবং যে কোনওদিন মুখ্যমন্ত্রী তা ফাঁস করলেন বলে। সাই কেন্দ্রেই গোপন বৈঠক করতে হল বিজেপি–‌র দুই রাজ্য নেতার সঙ্গে। সরকারি সফরে এসেছেন। এই বৈঠক না হলেই ভাল হত। অন্তত সফরটা বিশ্বাসযোগ্য হত।

bijay goyelএবার রাজ্যের কথা আসা যাক। অসৌজন্য মোটামুটি নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সফর। রাজ্যের মন্ত্রী আমন্ত্রিত। কিন্তু তাঁর ঘাড়ে কটা মাথা?‌ দিদি নেই, অতএব, জিজ্ঞেস না করে যাওয়ার ক্ষমতাও নেই। তাছাড়া গেলে তো লোকে বুঝে যাবে, এতে কেন্দ্রেরও টাকা আছে। অতএব, যাওয়ার দরকার নেই। পরে নিজেরা আলাদা করে পরিদর্শন হবে, প্রাক্তনদের সঙ্গে বৈঠক হবে, প্রেস কনফারেন্স হবে, যেন লোকে বুঝতে পারে, এটাও রাজ্য করাচ্ছে। স্টেডিয়াম সংস্কার চলছে। সাদা রঙ এর মধ্যেই হয়ে গিয়েছে। নীল রঙও লাগল বলে। যে যাই বলুন, ওটা নীল সাদা হবেই। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ক্ষমতা নেই আটকানোর। এমনকী ফিফারও ক্ষমতা নেই। এতবড় বিজ্ঞাপনের সুযোগ রাজ্য সরকার ছাড়বে?‌ এটা বিশ্বাস করেন?‌ কে স্টেডিয়ামের উদ্বোধন করবেন?‌ এক্ষেত্রেও বিজয় গোয়েলকে হতাশ হতে হবে। যদি কেন্দ্র তারিখ ঠিক করেও থাকে, হয়ত সেইদিন সকালে বা তার আগের দিন অন্য কেউ ফিতে কেটে দেবেন। এবার আসি প্রাক্তনদের প্রশ্নে। কেন্দ্র না হয় অফিসের ওপর চাপ তৈরি করিয়ে তিনজনকে হাজির করিয়েছিল। কিন্তু যাঁরা এলেন না। নিশ্চিত থাকুন, তাঁদের ওপর চাপটা আরও বেশি। প্রাক্তনদের অনেকেই সম্মতি জানিয়েছিলেন। তখন হয়ত ভেবেছিলেন, রাজ্য সরকারের মন্ত্রীও থাকবেন। কিন্তু যখনই বুঝলেন হাওয়া গোলমাল, তখনই বুঝলেন কী করতে হবে?‌ ফোন করে করে যদি বলা হয় ‘‌যাবেন না’‌, তাহলে আসবেন এমন কজন আছেন?‌ এমন নির্দেশ এলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। আর যদি নির্দেশ নাও আসে, আমাদের রাজ্যের প্রাক্তনরা ‘‌হ’‌ বললে ‘‌হাওড়া’‌ ঠিক বুঝে যান। দিদি রেগে যাবেন, এমন জায়গায় তাঁরা যাবেন না। তাই এলেন না। কেউ কেউ কথা দিয়েও এলেন না। সেই তালিকায় পিকে ব্যানার্জি, চুনী গোস্বামী, সুভাষ ভৌমিকের মতো তারকারাও আছেন। রাজ্য সরকার যদি ডাকে, দেখবেন এঁদের অধিকাংশই হাজির হয়ে গিয়েছেন।

তাহলে, মোদ্দা কথাটা কী দাঁড়াল?‌ বিজেপি চাইল চাপ দিয়ে খেলোয়াড়দের হাজির করতে। আর তৃণমূল চাইল, যেন কেউ হাজির না থাকেন। মাঝখান থেকে পড়ে ফুটবলারদের অবস্থাটা একবার ভাবুন। অলোক, অতনুদের বাধ্যবাধকতা ছিল, তাঁরা গিয়েছেন। যাঁরা গেলেন না, তাঁদের কী বাধ্যবাধকতা, তাঁরাই জানেন।

pk chuni

ফুটবলাররা চাইলে বিজয় গোয়েলের ডাকে না যেতেই পারেন। কিন্তু কোনও এক বিশ্বাসের কোনও এক অনুচরের কাছ থেকে একটা এস এম এস আসুক। এঁরাই পিলপিল করে ছুটবেন। কেবা আগে প্রাণ করিবেক দান, তারি লাগি কাড়াকাড়ি। বিজেপি বা তৃণমূল নয়, প্রশ্ন ফুটবলারদের কাছে। সামান্য অনুগ্রহের আশায় নিজেদের আর কত নিচে নামাবেন?‌ সংস্কৃতি জগৎ আগেই মেরুদণ্ড গচ্ছিত রেখে বসে আছে। খেলার মাঠও ব্যতিক্রম নয়। এখানেও জো–‌হুজুরের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। একসময় বুক চিতিয়ে ফুটবল খেলেছেন। তাই বাঙালি মনে রেখেছে। এখন কোনও সিদ্ধান্ত নিজেরা নিতে পারেন না। সবসময় ভয়ে ভয়ে থাকতে হয়, পাছে কেউ রেগে যায়!‌ সেদিনের সেই লড়াই আর আজকের এই ভীরুতা, একসঙ্গে কী করে মেলাই বলুন তো!‌

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

10 + 10 =

You might also like...

mukul roy2

সবুজ সংকেত?‌ মুকুলকে এত বোকা মনে হয়!‌

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk