Loading...
You are here:  Home  >  ওপেন ফোরাম  >  Current Article

কেজরি বাবা ও ৬৬ চোর

By   /  May 9, 2017  /  No Comments

অনেক সম্ভাবনা ছিল। দেশের রাজনীতিকে হয়ত নতুন দিশা দেখাতো পারতেন। তার বদলে দিন দিন হাসির খোরাক হয়ে উঠলেন কেজরিওয়াল। এবার এসে গেল দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ। এখন দিল্লির রায় নিলে নিশ্চিতভাবেই ধরাশায়ী হবে আপ। লিখেছেন সব্যসাচী কুণ্ডু।।

সহস্র এক আরব্য রজনীতে আমরা আলি বাবা ও চল্লিশ চোরের গল্প পড়েছি। কিন্তু সে তো সেকেলে, পুরানো। আজ ৪ জির যুগে এই সব কল্প কাহিনী কি আর চলে!‌ আমাদের ভারতীয় রাজনীতিতে এমন অনেক আলিবাবার আবির্ভাব হয়েছে। তাঁরা যেমন পরাক্রমী, তেমনি চতুর। আইনের ফাঁক গলে সসম্মানে বেঁচেবর্তে আছেন। দিল্লির রাজনীতির অলিন্দে কান পাতলে আর এক নতুন আলিবাবার নাম শোনা যাচ্ছে। তিনি আমাদের সবার প্রিয় শ্রীমান কেজরিওয়াল। উনি নাকি দু কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছেন নিজেরই দলের বিধায়কের কাছ থেকে। এক্ষেত্রে ব্যাপারটা তেমন জটিল নয়। মহাশয় নিজে নিজের হাতে নিজের দলের বিধায়কের কাছে দক্ষিণা নিয়েছেন এবং হাটে হাড়ি যিনি ভেঙেছেন তিনিও সেই একই দলের বিধায়ক। তাই এই ক্ষেত্রে সি বি আই কিম্বা সি আই ডির কোনও দরকার নেই। ব্যাপারটা খুব তাড়াতাড়ি মীমাংসা হয়ে যাওয়া উচিত। টুইটারের ময়দান সকাল থেকেই খুব গরম। পক্ষে বিপক্ষে অনেক টুইট চোখে পড়ছে। এক কেজরিওয়ালের শুভাকাঙ্ক্ষী টুইট করেছেন যে, “কেজরিওয়াল ঠগ প্রবঞ্চক একনায়ক ও ক্ষমতা লোভী হতে পারেন কিন্তু উনি ঘুষ নেবেন এটা আমি বিশ্বাস করি না।” এটা সেই শোলে সিনেমার অমিতাভের সেই বিখ্যাত সংলাপটার মতো হয়ে গেলো, “ লড়কা বিড়ি পিতা হ্যয়, দারু ভি পিতা হ্যায়, জুয়া ভি খেলতা হ্যায় লেকিন হ্যায় বড়ি শেরিফ।”
ভারতীয় রাজনীতিতে প্রায় ধূমকেতুর মতো যখন কেজরিওয়ালের উদয় হয় তখন দিল্লির আমজনতার সাথে সাথে দেশের আমজনতার প্রতি তাঁর একটা দায়বদ্ধতা ছিল। একক সংখ্যা গরিষ্ঠ দল হিসাবে যে ভাবে তিনি সরকার গঠন করেছিলেন তাতে তিনি চাইলে রাজনীতির ইতিহাসে এক অনন্য নজীর সৃষ্টি করতে পারতেন। কিন্তু যত দিন গেল ততই তাঁর ঝুলি থেকে একটার পর একটা দুর্নীতিগ্রস্থ ভূত বেরতে লাগলো। সীমিত ক্ষমতার মধ্যেও অনেক কাজ করা যেত। সেদিকে না গিয়ে তিনি সারাক্ষণ সস্তা প্রচারের রাজনীতি করে গেলেন। পাঞ্জাবে ভরাডুবি, দিল্লি পুরসভায় ভরাডুবি। তবু হার স্বীকার না করে দায় চাপিয়ে দিচ্ছেন ইভিএমের ঘাড়ে। মায়াবতীর সঙ্গে তাঁর তফাত থাকছে না। নিজেকে ক্রমশ হাসির খোরাক করে তুললেন। যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইকে হাতিয়ার করে উনি রাজনীতির অঙ্গিনায় আত্মপ্রকাশ করেছিলেন আজ তিনি স্বয়ং সেই একই দোষে জর্জরিত। যারা ঠগ প্রবঞ্চক তাঁরা নিজেদের সাধু বলে বেশি প্রচার করেন। কেজরিওয়ালের ক্ষেত্রে এই কথাটা কিন্তু সঠিক প্রযোজ্য। উনি যখন ক্ষমতায় এসে ছিলেন তখন কথায় কথায় বলতেন , “আমি জনতার রায়ে এই জায়গায় এসেছি, তাই আমি যা কিছু সিদ্ধান্ত নেব তা জনতাকে জিজ্ঞেস করে নেব, তাঁরা যা বলবেন সেটাই হবে আমার কাছে আদেশ।” আজ যদি উনি জনতার রায় নিতে চান তাহলে জনতা তাঁকে বলবে যে, “বাবা অনেক করেছ এই তিন বছরে, মুখ্যমন্ত্রীর পদটিকেও তুমি কালিমালিপ্ত করেছ, আর না বাবা এবার মানে মানে কেটে পড়ো।” কিন্তু উনি কি তা করবেন? যাই হোক ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে কেজরিওয়ালের এই উত্থান পতন কিন্তু স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। বর্তমান প্রজন্ম এর থেকে যেমন অনেক অভিজ্ঞতা লাভ করল, তেমনি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এর থেকে অনেক শিক্ষা গ্রহণ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

10 + 7 =

You might also like...

mukul roy2

সবুজ সংকেত?‌ মুকুলকে এত বোকা মনে হয়!‌

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk