Loading...
You are here:  Home  >  ওপেন ফোরাম  >  Current Article

একটা ক্ষণের – চালচিত্র

By   /  May 11, 2017  /  No Comments

অম্লান রায়চৌধুরী

কিছু কিছু ক্ষণ যেন শুধু এক্ষনের নয় – মনে হয় বহু কিছু ক্ষণের যোগফল।
সেই রকমই একটা ক্ষণকে ধরে ফেললাম আজ – ভেসে এল নানান চিত্র – কিছু বলা – কিছু বোঝা , কিছু আবার অব্যক্ত ভাষায় ইলিবিলি কাটা।
ধরে বেঁধে লিখে ফেললামঃ-
এই ক্ষণে– বই মেলায় বন্ধু হওয়া — রম্ভা আর সোহমের প্রথম ডেটিং। জায়গা ঠিক না হলেও ওরা মিট করবে গোলপার্কে – তার পর ঠিক করবে – বেশ চাপা উত্তেজনা ।
ওদিকে– কৃষ্ণনগরের, সেলিম – বিশেষ চিন্তায় পড়ল, সামনেই ওর দাদার বিয়ে এক হিন্দু মেয়ের সাথে । বাড়িতে চরম অশান্তি চলছে। আজকেই ওর দাদা এক সিদ্ধান্ত নেবে– জানাবে ওর মতামত। বোঝা যাচ্ছে না পারবে কিনা সমাজের চোখে নিজের সত্যকে মেলে ধরতে। সেলিমই হল প্রধান পুরোহিত এই যজ্ঞের।
এখানে যাদবপুরে–হোষ্টেলে প্রথম রাত মনিপুরের সোনিয়ার । গতকালই শুনেছে দিল্লিতে ওদেরই এলাকার দুটি মেয়েকে রেপ করে খুন করা হয়েছে। নিজে আতঙ্কিত। রাতটা কাটাবে কেমন করে। বারবার মা–‌র কথা মনে পড়ছে ।
তবে বেহালার মধুর– বেশ নিশিন্ত এখন, বামফ্রন্টের মিছিলের পরে সে সরাসরি বলে দিয়েছে আজ যে এভাবে গনসংগ্রাম চলে না। আমজনতাকে বোঝানোর তরিকায় বেশ গলদ আছে। আছে কিছু অতীত অপরাধীর দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি না দেওয়ার ক্ষোভ জনগণের। সেটা এখনও সম্পন্ন হয়নি। আমজনতা কিছুতেই মানতে চাইছে না। খুব পরিষ্কার করে বলে আজকে ওর বেশ হালকা লাগছে ।
কোচবিহারের সোমালি– আজকেই ওর প্রথম কবিতাটি ছাপার অক্ষরে দেখতে পেল। বেশ কিছুদিনের প্রতীক্ষার পর, ওর কবিতা আজ বের হল। খুব আনন্দিত – বারবার পড়ছে ছাপার অক্ষরে ওর কবিতাটা। আত্মীয় স্বজন—বন্ধু বান্ধব রাও বেশ উৎসাহ দিচ্ছে ।
মেদিনীপুরের এক নেতা– জায়গা বদল করল। অস্বস্তি হচ্ছিল, ভাল লাগছিল না বোধ হয়। সব রকমের সুবিধা আসছিল না বোধ হয়। এটা শুনে ভবানীপুরের সুবীর বেশ আনন্দিত। কারণ ও একটা তালিকা বানাচ্ছিল। পশ্চিমবঙ্গের নেতাদের দলবদলের উপর। হ্যাঁ, সেটা সেঞ্চুরি করল।
সল্ট লেকের বিধান– একটু সমস্যায় এই মুহূর্তে । বাবার রিটায়ারমেন্ট কাল থেকে। এখনও ওর চাকরি হল না। দেশের বাইরে যাওয়াটাও বেশ সমস্যার মার অসুস্থতার কারণে। অথচ এখানে বসে যে কিছু হবে এরকম সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না।
গড়িয়ার অটো ইউনিয়নের সম্পাদক সঞ্জয়– মনে মনে ভাবছিল – যেভাবে গেরুয়া রঙ ছড়াচ্ছে চারিদিকে, আয়ের উৎস–‌র কী হবে, এত পরিবর্তন আর ও মানতে পারছে না – সবে মাত্র বামপন্থীদের কাছ থেকে ইজারাটা পেয়েছে বা দখল করেছে। এখন আবার পাল্টাতে হবে নাকি – এই দুশ্চিন্তায় – একটু বেশি মদ খেল আজ ।
ডোমজুরের এক গ্রামে – সুমনার বিয়ে হল। শুরু থেকেই অত্যাচার। রাজনৈতিক নেতার পারিবারিক অত্যাচার। সুমনার বাবা, ছাপোষা মানুষ, তাই সুমনা বাবাকে বিরক্ত করতে চাইল না। আজকে ঠিক করল মেট্রোতে ঝাঁপ দেবে । কাউকে বলল না ।
জলপাইগুড়ির প্রত্যন্ত গ্রামের আয়েসা– স্কুল যাবে বলে সাইকেল পেল। পঞ্চায়েত প্রধানকে ঘুষ দিতে হল। বেশ কিছু বস্তা ধান ওদের নিজেদের খোরাকি থেকে । মনটা খারাপ হলেও। বিনিময়ের তফাতটা ঠিক বুঝল না ।

special feature3
রায়দিঘীর পারুল– কাজ পেল ১০০ দিনের প্রকল্পতে। বাড়ি ফিরল টাকা নিয়ে। বেশ কিছু টাকা দিতে হল সমীর মন্ডলকে, তোলা হিসাবে। ওটা যে হিসাব জানা ছিল না ।
টালিগঞ্জের সায়নি– প্রদীপের সাথে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করল। সাথে একটা বাচ্চা নিয়ে রাস্তায় বেড়িয়ে পড়ল। জানে না কী হবে। প্রদীপের সাথে বন্ধুত্ত্ব যে স্থায়িত্ত্ব দেবে না, বোঝেনি আগে । নিরুপায় এখন ।
নিউ আলিপুরের পামেলা– সারা রাত নাইট ক্লাবে কাটিয়ে – বেশ ক্লান্ত হয়ে ফিরে এল বাড়িতে – মাকে বলল, আমার সাথে সোহমের সম্পর্কটা ঘেঁটে গেছে, আমি রজতকেই বিয়ে করব। কারণ আমি রজতের ছেলের মা হতে চলেছি ।
বালিগঞ্জের অরুণবাবু– সারাদিন অফিসের নানান মিটিংয়ে কাটিয়ে এসে হুইস্কি নিয়ে বসে আটটার সুমন দেখতে বসে বৌ কে বলল — দেশটা উচ্ছন্নে গেছে , কিচ্ছু হবেনা । ও হ্যাঁ তোমাকে বলতে ভুলেই গেছি আজ মাধোঘরিয়ার কাছ থেকে দু লাখ টাকা পেলাম। পাবোই বা না কেন। এত বড় কন্ট্রাক্টটা পাইয়ে দিলাম। আমি না থাকলে কি হত!‌ ওটা দিয়ে কিছুটা উপকার হবে। সামনেই তো মেয়েরে বিয়ে। ব্রিফ কেসে কাগজের প্যাকেটে রাখা আছে।
শ্যামবাজারের রাজু ও সোমা– ঠিকই করে ফেলেছে মাকে বাড়ি থেকে বিদায় করতে হবে – বাড়ি যখন ট্রান্সফার হয়েই গেছে আর কী দরকার মাকে এখানে রেখে। পাঠিয়ে দেওয়াই ঠিক করল এক ওল্ড এজ হোমে ।
কসবার গগন বাবু– মহা সমস্যায়, কিছুতেই ছেলেটাকে সেই দর্শন থেকে সরাতে পারছে না । এখনও সে মনে করে জনগণতান্ত্রিক বিপ্লবের কথা। এখনও সে মিছিলের পুরো ভাগে, এখনও গলা ফাটিয়ে ঝগড়া করে বিরোধীদের সাথে। পাড়ার কেউ কিছু বলে না। ওর বেড়ে ওঠা দেখে। যে কিনা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে পাশ করেছে। চাকরী করা দাসত্ত্ব মনে করে। কিছু করে না । গগন বাবু অবসর নিয়েছেন বেশ কয়েক বছর হল। একটা মেয়ের বিয়ে হওয়া এখনো বাকি ।
বেহালার খোকাদা– ঠিক করল দল বদল করবে। প্রোমোটারির শুরু সেই বাম জমানার লেজের দিকে। বলার কেউ ছিল না। তখন পুকুর বোজার মতন কাজগুলোর, জোর করে ভাইয়ে ভাইয়ে ঝগড়া বাঁধিয়ে বাড়িটাতে প্রোমোটিং করাটাও হয়েছে অনেক বার, এখন তেমন সুবিধা হচ্ছে না – অনেক বখরা – তার উপর পিঠে বামপন্থী ছাপ থাকা । কথা হয়ে গেছে, নতুন দলে অনেক কাজ, বাঁচতে হবে তো ।
হুগলির নিশ্চিন্দপুরের – শেখ আলী, গ্রামে পরিচিত নাম, বর্গাদারের আওতায় পড়েছে সেই বাম জমানায় । এত অল্প জমি যে তার থেকে কোনও লাভ নেই। সংসার বড় হয়েছে । ছেলেরা কলকাতায় অন্যান্য কাজে । দেখবে কে?‌ ফসল দিয়ে পেট ভরবে না । দিয়ে দিল অলিখিত জোতদার অনিল সামন্তকে। ওটা অবশ্য অনিল সামন্তরই কেড়ে নেওয়া জমি ।
ভবানীপুরের সমরেশবাবু – তাত্ত্বিক নেতা। অবসর জীবন। উপায়হীন অবস্থা। গায়ের ছাপটায় অনেক কথা লেখা। মোছার উপায় নেই । প্রশ্ন উঠবে, কাজেই দল বদল সম্ভব নয় । উপায়হীন অবস্থায় পাড়ার রকে কিংবা ফেসবুকে, এইভাবেই কাটাবে বলে ঠিক করল।
কাকুলিয়ার ছিন্টু– যে কিনা গরমকালে অষ্ট্রেলিয়ায় যেত শীত কাটাতে, শুরুতে একটু মুষড়ে পড়েছিল। এইমাত্র একটা উপায় বার করল। চেনাশোনার দৌলতে, বুদ্ধির কারসাজিতে আবার সেই শুরু করল ক্ষমতার কাছে পৌঁছে দেওয়ার দালালি। শুরুতে একটু গোলমাল বাঁধলেও, বৈজ্ঞানিক উপায়টা আয়ত্ত্ব করাতে কোনও অসুবিধায় পড়ল না । যেমন ছিল সেই সময়ে তেমনই রইল এখনও ।
রাজপুরের সুপ্রিয়– আজকেই প্রথম পাড়ার ক্লাবে ঢুকল। পরিবর্তনের ধ্বজা ধরে প্রথম ব্যাক্তি। নীল আর্মস্ট্রং এর মতন – চাঁদের মাটিতে পা রাখল। পাড়ার কেউ ওকে না চিনলেও এই পরিবর্তনের ধাক্কায় ও প্রেসিডেন্ট হয়ে গেল। বেশ কিছু বাংলা মালের অর্ডার গেল।
আজকেই সমাজ কল্যান দপ্তর – পাড়ার ক্লাবগুলোকে অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করল। ঘন্টুদা
ভীষণ আনন্দিত। অতগুলো টাকা। ক্লাবের সদস্যদের পাড়ার লোকেরাই চেনে না। যাদের গড় বয়স – ষাটোর্ধ। ঘন্টুদার এতেই আনন্দ। তার উপর অনুদান। ঠিক হল দোতালায় ঘর বানিয়ে বিয়ে বাড়ি ভাড়া দেওয়া হবে। কিছু আয় তো হবে। এক প্রকারের সমাজ কল্যাণ তো হল আজকের এই জায়গার অনটনে ।
এক্ষনে, ধর্মতলায় তিন রঙ্গা মিছিলের দেখা। মিছিলের মুখগুলো যেন মাড় ভাঙ্গা পাঞ্জাবি — ভাষাহীন এক অদ্ভুত ব্যঞ্জনা। পাড় উপচে জল ওঠার পূর্বাভাষ। জলকুমীর খেলছে দর্শকরা। মিলবে না বলে বেঁকে গেল। মোড়ের মাথাটায় তখনও ভিখারির পয়সা চাওয়ার মিনতি। কেউ কেউ ইতিমধ্যেই মোবাইলের রিঙ্গ টোনটা পাল্টে নিয়েছে ।
বুঝি উলঙ্গ রাজা পোশাক পরবে আজ ।

728x90

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

sixteen − eleven =

You might also like...

radio3

না বোঝা সেই মহালয়া

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk