Loading...
You are here:  Home  >  ওপেন ফোরাম  >  Current Article

আই এস এল:‌ অনেক প্রশ্ন, উত্তর নেই

By   /  May 25, 2017  /  No Comments

সুজাত্র ব্যানার্জি

আমাদের কত্তাবাবুদের দাবি ‘১৫ কোটি দেব না’ পুরোপুরি অযৌক্তিক নয়। আইএসএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো এই টাকাটা আইএমজিআর-কে দিয়েছে মূলত সিকিওরিটি মানি হিসেবে, যাতে লস খেয়ে হঠাৎ করে টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করলে (যেমন পুনে ওয়ারিয়র্স আইপিএল থেকে করেছিল) আইএমজিআর বড়সড় কোনও ক্ষতির সম্মুখীন না হয়। কিন্তু সেখানে মোহনবাগান ইস্টবেঙ্গলের মতো ফুটবল ক্লাবগুলোর কাছ থেকে কোন্‌ যুক্তিতে ওরা এই টাকাটা দাবি করছে জানি না, কারণ কোনও পরিস্থিতিতেই এই দুটো ক্লাব উঠে যাবে না। তবে হ্যাঁ, আইএসএল-এর মার্কেটিং তথা ফুটবলের সঙ্গে বিনোদন আর বাণিজ্যমিশ্রিত এই লিগের বিশ্বায়নের স্বার্থে এই ধরনের ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি দেওয়ার ব্যাপারে তো একটা আপোষ করার জায়গায় আসতেই হবে, ভারতীয় ফুটবলে আমাদের অবদানের কথা মাথায় রেখে টাকার পরিমাণটা কমানো যায় কিনা। সমাধান হচ্ছে কোনো শাঁসালো স্পনসর এনে তাদের দাবিমত স্টেক ছেড়ে দেওয়া, যাতে টাকাপয়সার ব্যাপারে কোনও সমস্যা না থাকে। কিন্তু গদির লোভ, মোহনবাগান ক্লাবে পরিবারতন্ত্র কায়েম করার চেষ্টায় ওঁরা সেটা করছেন না। সবাই তো আর ইউবি গ্রুপ নয় যে শুধু টাকা ফেলে গেলাম, কোনও হিসেব নেওয়ার বালাই নেই, অতএব নয়ছয় করা বা লুটেপুটে খাওয়ার সুযোগটা হারাতে হবে।
কত্তাবাবুরা বলেছেন আমাদের কলকাতা থেকেই খেলতে দিতে হবে, অন্য কোনও শহরে গিয়ে আমরা খেলব না। দাবিটা ন্যায়সঙ্গত, কারণ কোথাকার এক কালকা যোগী প্লাস্টিকো এসে কলকাতা ফুটবলের সর্বেসর্বা হয়ে উঠবে, আর আমাদের জেলায় ঠেলে দেওয়া হবে, এমনটা মানা কঠিন। কিন্তু কত্তাবাবুদের এই দাবিটা কতটা নিজেদের শিরদাঁড়া সোজা রাখতে, সম্মানের প্রশ্নে আর কতটা তাঁরা শুধু অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছেন, সন্দেহ থেকেই যায়। যাতে স্পনসর আনার ঝামেলা না পোহাতে হয়, তাই আগেভাগেই অজুহাতটা তৈরি রাখা হল আর কী, যেটা আগেই লিখলাম।

isl logo

হ্যাঁ, আমাদেরও মনের ইচ্ছে মোহনবাগান কলকাতা থেকে খেলুক, কিন্তু সবসময় কি নিজেদের ইচ্ছেতে দুনিয়া চলে? এবারেই খোদ কলকাতা শহরে রবীন্দ্র সরোবরে আমাদের খেলায় উপস্থিতির হার কমল কেন? শহর কলকাতায় কি মোহন-ইস্টের গুরুত্ব বা জনপ্রিয়তা আর ততখানি আছে যতটা তিরিশ বছর আগে ছিল? আইএসএল না খেললে ভারতীয় ফুটবলের মূলস্রোত থেকে আমরা বেশ কিছুটা দূরে সরে যাব, কথাটা খারাপ লাগলেও সত্যি, সেখানে দরকারে বাংলার অন্য কোনও শহর থেকে বিড করে খেলা যেত। এটা তো সত্যি যে মোহনবাগান শুধু কলকাতার ক্লাব নয়, সারা বাংলার ক্লাব। বরং হাওড়া হুগলি চব্বিশ পরগণায় কলকাতা ফুটবল নিয়ে উন্মাদনা কলকাতার চেয়ে বেশি। কত্তাবাবুরা গেট সেলের একটা নির্দিষ্ট অংশ দাবি করেছেন। জানি না, ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি দেব না এই গোঁ ধরে বসে থাকার পরেও এই চাহিদা কতখানি যুক্তিসঙ্গত।
কত্তাবাবুদের একটা যুক্তি শুনেছিলাম, আইএসএল যদি এএফসি কাপের যোগ্যতা অর্জন করার মাপকাঠি না হয় কী লাভ আইএসএল খেলে! তাই? ঠিক কতটা গুরুত্ব দেন আপনারা এএফসি কাপকে? সবাই কি ঘাসে মুখ দিয়ে চলে যে কেউ কিচ্ছু বুঝবে না?

মমতা ব্যানার্জী বলেছেন তিনি মোহনবাগান ইস্টবেঙ্গলের স্বার্থ দেখবেন, দরকারে আলাদা পেরেন্ট বডি তৈরি করে ‘বাংলা কাপ’ জাতীয় কিছু একটা টুর্নামেন্ট শুরু করবেন, আর পড়ে থাকবে ধ্যাদ্ধেড়ে আই-লিগ। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্য হয়তো সৎ,
কিন্তু তাতে লাভ কী? এএফসি সেই বাংলা কাপকে স্বীকৃতি দেবে? আই-লিগে কোনও নামকরা প্লেয়ার খেলতে চাইবে একই সময়ে চলা আইএসএল-এর বৈভব উপেক্ষা করে? খেলবটা কাদের নিয়ে? পঙ্কজ মৌলা রাম মালিক মণীশ ভার্গব? প্রশ্ন আসতে পারে, আইএসএল-ও তো এএফসি স্বীকৃত প্রতিযোগিতা নয়। কিন্তু স্বীকৃতি পেতে কতক্ষণ? প্রফুল প্যাটেল বর্তমানে এএফসির সহসভাপতিদের মধ্যে একজন। রিলায়েন্স যেরকম প্রভাবশালী গোষ্ঠী, তাতে প্রফুলকে ব্যবহার করে আইএসএল-কেই ভারতের এএফসি স্বীকৃত এক নম্বর লিগ বানাতে কতক্ষণ?

সবশেষে বাবুন ব্যানার্জী, যিনি রীতিমত হুমকির স্বরেই বলেছেন যুবভারতীতে মোহনবাগান ইস্টবেঙ্গলকে খেলতে না দিলে অ্যাটলেটিকোকেও মাঠ দেওয়া হবে না। ক্ষমা করবেন বাবুনদা, ঠিক আশ্বস্ত হতে পারলাম না। জানি আপনি মুখ্যমন্ত্রীর নিজের ভাই, আপনার দাবিদাওয়ার একটা গুরুত্ব তাঁর কাছে থাকবে। কিন্তু গোয়েঙ্কা নেওটিয়া পারেখদের ধুরন্ধর ব্যবসায়িক বুদ্ধি আর ট্যাঁকের জোরের সামনে আপনার দাবি ধোপে টিকবে তো? বাবুনদার কি তৃণমূলে অতটাই ক্ষমতা আছে যে রাজ্য ক্রীড়া দপ্তর এইসব মারোয়াড়ি ঘুঘুদের সামনে মাথা নোয়াবে না, আপনার বক্তব্যকে অতটা গুরুত্ব দিয়ে? বা আপনিও সময়মত ওপর মহলের চাপে সুর বদলাবেন না তো? আসলে অনেক নাটক দেখলাম তো, ভয় হয়।

এবার মাঠে উপস্থিতির হার কমেছে, কেরালা ব্লাস্টার্স বা নর্থইস্ট ইউনাইটেডের মতো তিন বছরের ফ্র্যাঞ্চাইজিদের কাছেও নগণ্য। জানি না, এখনও ঠিক কতটা বলার জায়গায় আমরা আছি! কেনই বা আইএসএল কর্তৃপক্ষ মোহন-ইস্টকে এত গুরুত্ব দিতে যাবে! কীভাবে নতুন প্রজন্ম মোহনবাগানের দিকে আকৃষ্ট হবে আইএসএল-এর চাকচিক্য ফেলে, বেশ চিন্তার বিষয়।

সব মিলিয়ে একটা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সামনে দাঁড়িয়ে আমরা। প্রশ্ন অনেক, উত্তরের অপেক্ষায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one + eight =

You might also like...

chhabi biswas

শুধুই উত্তম ? বাকিরা ? তাঁদের কথা ভুলে যাবেন ?

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk