Loading...
You are here:  Home  >  কলকাতা  >  Current Article

ফুলে ফুলে, ঢলে ঢলে

By   /  May 26, 2017  /  No Comments

সত্রাজিৎ চ্যাটার্জি

গতকাল ২৪ ঘণ্টা চ্যানেলের নিউজে একটি হেডলাইন চোখে পড়লো ।“হাত দিয়ে মেরে, মুখ দিয়ে বলছে লাগেনি তো”? প্রসঙ্গ গতকালের বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের লালবাজার অভিযান। মিছিল-জমায়েত শেষে বিজেপির বিধায়ক মনোজ টিগ্গাকে উর্দিধারী পুলিশের প্রশ্ন, “তখন লাগেনি তো”। তারপরে একগাল হাসি, একে একে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মচারীর সঙ্গে করমর্দন করার পরে মনোজ টিগ্গা পুলিশদের বললেন, “পরে,দেখা হবে”…–(http://zeenews.india.com/bengali/kolkata/roller-coaster-of-bengal-politics_167934.html)
এক অতিনাটকীয় চিত্রনাট্য লেখা হল গতকালের এই “লালবাজার অভিযান” ঘিরে।
সেই কত যুগ আগে রবি ঠাকুর লিখে গিয়েছিলেন “ফুলে ফুলে ঢলে ঢলে”। আজকের দিনে যদি বিশ্বকবি জীবিত থাকতেন, তাহলে চারপাশের অবস্থা দেখে নিশ্চয় মনে মনে খুশি হতেন, কারণ সত্যিই বাংলাতে আজ জোড়া ফুল আর পদ্ম ফুলে ঢলাঢলি। বাইরে যতই বিষোদ্গার থাকুক, মিছিল থাকুক, “প্রতিহিংসার রাজনীতি করতে সি.বি.আই কে লাগিয়ে দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার” বা “সংখ্যালঘু তোষণের নামে জামাতি-দেশবিরোধী কার্যকলাপ চলছে পশ্চিমবঙ্গে” গোছের মারাত্মক সব অভিযোগ থাকুক একে অপরের বিরুদ্ধে, তলে তলে জোড়াফুল আর পদ্মফুলের সখ্যতার ছবিটা আজকে জলের মত পরিষ্কার। আর সেই কারণেই মনে হয়, সারদা মামলাতে একে একে সব অভিযুক্তের জামিন হয়ে গেল, রোজভ্যালি মামলাতেও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জামিন তো পেয়েই গেলেন, উপরন্তু সি.বি.আই গত পরশুদিন সেই জামিনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও কোনও এক অজ্ঞাত কারণে শেষ পর্যন্ত সেই কর্মসূচী স্থগিত রাখল। সর্বোপরি, সারদা বা রোজ ভ্যালি নিয়ে সি.বি.আই তদন্ত প্রক্রিয়াটাও যেন কীসের মন্ত্রবলে বন্ধই রাখল শেষমেশ। উল্টোদিকে রামনবমীর মিছিলে সশস্ত্র মিছিল করার অপরাধে দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করেও দিলীপবাবুকে একটিবারের জন্যও পুলিশি হেফাজতে নেওয়া গেল না বিগত এক মাসের মধ্যেও।

bjp3আসলে এই “অঘোষিত সেটিং” টা অনেকদিন ধরেই চলে আসছে। আজকের বিজেপির “লালবাজার অভিযান” টাও বাস্তবিকই বাংলার মানুষজনের কাছে একটা ব্রেন ওয়াশ। কারণ এই “লালবাজার অভিযানের” কোনও ইসুই ছিল না। একটু ভুল বললাম। একটাই উদ্দেশ্য ছিল। নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করা। বামপন্থী দলগুলো ১৮ দফা দাবি নিয়ে গত ২২ তারিখে “নবান্ন অভিযান” করেছিল। মিডিয়াতে, কাগজে কলমে “ক্ষয়িষ্ণু”, “মৃতপ্রায়”, “অপ্রাসঙ্গিক” ইত্যাদি বিশেষণে বিভূষিত একটি দলের কর্মী-সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করতে কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য পুলিশকে যে সেদিন বিস্তর বেগ পেতে হয়েছিল, তা বাংলার প্রায় প্রতিটি সংবাদপত্রেই, এমনকী ট্যাগ লাইনে “কারো তাঁবেদারি না করা”-( বাস্তবটা সবাই জানেন, আশা করি) বরুণ সেনগুপ্তের “বর্তমান” পত্রিকা তেও প্রথম পাতায় ছবি সমেত প্রকাশিত হয়েছিল। সর্বোপরি সেই দলটি “মৃতপ্রায়”, “অস্তিত্ব সঙ্কটাপন্ন”, “দূরবীন দিয়ে খুঁজে দেখতে হয়”জেনেও মুখ্যমন্ত্রী সেই দলের কর্মীদের ১৮ দফা দাবি শোনার মতো সাহস না দেখিয়ে বীরভূমে চলে গিয়েছিলেন। আর যে রাজ্য পুলিশ এর কার্যকলাপ নিয়ে তিনি এত গর্বিত, তাদের ওপরও তাঁর ভরসা মনে হয় ছিল না, “ক্ষয়িষ্ণু” বামশক্তির মিছিলকে ঠেকানোর, তাই কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য পুলিশ ছাড়াও সেদিন বামকর্মীদের ওপর মধ্যযুগীয় বর্বরতা চালিয়েছিল সিভিক পুলিশ থেকে পুলিশের ছদ্মবেশধারী তৃণমূল কর্মী-সমর্থক, এমনকী র‍্যাফ বা কমব্যাট ফোর্সকেও সেদিন বামেদের মিছিলে লাঠি, রড, চালাতে, জলকামান, টিয়ার গ্যাস ছুঁড়তে দেখা গিয়েছিল। হাজারের কাছাকাছি বাম কর্মী-সমর্থক সেদিনের সেই বর্বরোচিত হামলাতে আহত হয়ে, বেশিরভাগই এখনও বিভিন্ন হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি। এ হেন বামেদের একটা কর্মসূচীর পরে স্বভাবতঃই কেন্দ্রের শাসক দল তথা বিজেপিও চেয়েছিল বাংলার জনগণের সামনে নিজেদের শক্তির পরীক্ষা দিতে। বিশেষতঃ কিছুদিন আগের পুরসভা নির্বাচনে বা একটি বিধানসভার উপনির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের নিরিখে বামদের পিছলে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে বিজেপির উত্থানের পরে এক শ্রেণীর মানুষ যখন বিজেপি কে নিয়ে বেশ আশাবাদী, তখন তো নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করতে হবে বৈকি ? এ ছাড়াও উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজপির জয়ের পরে, বাংলা যে তাদের “পাখির চোখ”, তা দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ তো স্পষ্টই করে দিয়েছেন। তাই বিজেপির গতকালের মিছিলের উদ্দেশ্য একটাই। বামেদের মিছিলের পরে তাদেরও রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শন। সেখানে না ছিল কোনও দাবি, না ছিলো কোনও ইসু।

bjp2
আর সেই মিছিল শেষ এরকম “সৌজ়ন্য “ মনে হয় প্রত্যাশিতই, যখন সেটিংটা তলে তলে এতো গভীর হয়ে গেছে। কাকতালীয়ভাবে গতকালই ছিল দিল্লিতে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী আর দেশের প্রধানমন্ত্রীর মিটিং। সেই মিটিংয়ের দিনেই বিজেপির “লালবাজার অভিযান” কর্মসূচীটাই পারতপক্ষে অনেকগুলো প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল বৈকি? আসলে বাম বিরোধিতাই দুই দলের এই “গোপন সখ্যতার” মূলে। তৃণমূল বাংলাতে বামশক্তিকে সরিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। তাই বিজেপি এখনও তৃণমূলের প্রীতিমুগ্ধ, কারণ সারা ভারতবর্ষে বিজেপির মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা আসলে বামপন্থীদের সাথে। যে কটি রাজ্যে বামশক্তি দুর্বল সেখানেই বিজেপির বাড়বাড়ন্ত। এর বিপরীতটাও কেরালা বা ত্রিপুরা বা তামিলনাড়ুতে প্রকট। সুতরাং বিজেপির এই তীব্র বাম বিদ্বেষই তাঁকে তৃণমুলের এত কাছে এনে ফেলেছে। বিজেপির প্রথমসারির নেতারা বিলক্ষণ জানেন যে, এই মুহূর্তে বিজেপি বাংলাতে যতই ভোট বৃদ্ধি করুক, বাংলার মসনদ দখল করার মতো পরিস্থিতি এখনও তাদের নেই। তাই তৃণমূলকে সুবিধে দিয়ে বামশক্তি বা তাদের জোটসঙ্গী কংগ্রেসকে দুর্বল রাখা আর মাঝে মাঝে নিজেদের কর্মদক্ষতা প্রমাণের জন্য সি.বি.আই কে দিয়ে দু একজন তৃণমুলের নেতাকে ধরপাকড় করে কয়েকমাস পরে সেই নেতার বিরুদ্ধে উপযুক্ত প্রমাণ যথাসময়ে আদালতে পেশ না করে তার জামিনের পথ সুগম করা— তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপির এখন এটাই কর্মসূচী। আর বাংলাতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ তো ২০১৬ এর বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পরে বলেই ফেলেছিলেন যে অন্ততঃ ৭০ টি আসনে তারা তৃণমূল কে সুবিধে দিয়েছিলেন। তার দলের একটা আনুগত্য তো থাকবেই তৃণমূল দল তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি, যিনি দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে ফুলের তোড়া পাঠিয়ে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছিলেন, সেই ভয়াবহ গুজরাট দাঙ্গার পরে, যখন দেশে-বিদেশে গুজরাটের তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্তমানে দেশের প্রধানমন্ত্রী প্রবলভাবে সমালোচিত ও নিন্দিত হয়েছিলেন—ভারতের অন্য কোনও রাজনৈতিক দল নয়, কেবল বাংলার তৎকালীন বিরোধী নেত্রীই গুজরাট দাঙ্গার সেই নেপথ্য নায়ককে মুখ্যমন্ত্রী পদে অভিষেকের সময় ফুলের তোড়া পাঠিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। সেই ঋণ শোধটা মনে হয়, এই সেটিং এর মাধ্যমেই চলেছে!
যাই হোক, আমার দুজন বন্ধুকে গতকালের ২৪ ঘন্টা চ্যানেলের সেই সংবাদটি ওয়েবসাইটের লিঙ্ক খুলে দেখিয়েছিলাম। একজন বর্তমানে তৃণমূল সমর্থক, আর একজন বেশ কিছুদিন হল বিজেপি সমর্থক। বলা বাহুল্য দুজনেই আগে বাম সমর্থক ছিল । আশ্চর্যজনকভাবে দুজনেই প্রায় একই ব্যাখ্যা দিল পুলিশের এই “সৌজন্যের”।
“কোন চ্যানেলে বেরিয়েছে ? ২৪ ঘণ্টা ? ও তো সি.পি.এমের চ্যানেল। ওখানেই এসব খবর দেবে”।
এরাই প্রকৃত বুদ্ধিমান। সময়ে, সুযোগে ঠিক পাল্টে গেছে। আর আমার মত কিছু বামপন্থীরাই আসলে বোকা, যারা সময়ে রঙ পাল্টাতেও জানে না, আর মিছিলে গিয়ে পুলিশের লাঠি খেয়েও এখনও দলটাকে ছেড়ে যেতে পারিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eight + two =

You might also like...

chhabi biswas

শুধুই উত্তম ? বাকিরা ? তাঁদের কথা ভুলে যাবেন ?

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk