Loading...
You are here:  Home  >  ওপেন ফোরাম  >  Current Article

খেলা ও সমর্থন বিষয়ে দু এক পিস

By   /  June 17, 2017  /  No Comments

কৃতিষ্ণু সান্যাল

খেলা ভালবাসেন দাবি করেন। খেলাটাকে সম্মান করতে শিখুন। নিজের মধ্যে খেলোয়াড়ি মানসিকতার জন্ম দেবার চেষ্টা করুন।

প্রতিদিন পারফর্ম করতে সক্ষম পারফর্মার কোনওদিন জন্মাবে না। কোনও গায়ক প্রতিটি অনুষ্ঠানে একই মানের গান গাইতে পারেন না। কোন শিক্ষক প্রত্যেকটা ক্লাস প্রত্যেকদিন সমান দক্ষতায় নিতে পারেন না। একজন ব্যর্থ খেলোয়াড়ের ব্যর্থতার কারণ হিসেবে তার ধর্ম-বর্ণ-জাতীয়তা ইত্যাদি কারণ খোঁজা বন্ধ করুন। এগুলোকে নোংরামি বলে। হতেই পারে আপনার আশপাশে আরও নোংরা মানসিকতাসম্পন্ন লোকজন আছে যারা এটাকে সমর্থন করবে। তার দরুণ আপনি যে অমানুষ সেটা চাপা পড়ে না।

মানুষের ভুল হয়ই। যন্ত্রেরও ভুল হতেই পারে। ভুলকে যেমন আমরা জীবনের অঙ্গ হিসেবে মেনে নিই, খেলার ক্ষেত্রেও সেই বুদ্ধিটুকু দেখান। ছেষট্টির বিশ্বকাপ ফাইনালে রেফারির ভুল ইংল্যান্ডের পক্ষে গেছিল। ছিয়াশির কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গেছিল। এগুলো খেলার অঙ্গ। কখনও আপনার দল তার ফলে লাভবান হবে কখনও ক্ষতিগ্রস্ত। তা নিয়ে সাময়িক শোক-দুঃখ-রাগ-হতাশা সবই স্বাভাবিক। সেটাকে নিয়ে বছরের পর বছর ধরে রগড়ে যাওয়া অপরিণত মানসিকতার লক্ষণ।

derby3

আগ্রাসন খেলার অত্যাবশ্যকীয় অঙ্গ। সমস্ত খেলাতেই অপরিহার্য। একটু খোঁজখবর নিয়ে দেখুন, শারীরিকতামুক্ত মস্তিষ্কনির্ভর ইনডোর গেম যেমন দাবা সেখানেও লাগে। আগ্রাসী হওয়াটা একটা ক্ষুরের ওপর হেঁটে যাওয়ার মত। বেশি হলে সব ঘেঁটে ঘ হয়ে যাবে, আর কম হলে মশলা থাকা সত্ত্বেও – জ্বলবে না। একই খেলায় কোন খেলোয়াড় কীভাবে তার আগ্রাসন নিয়ন্ত্রণ ও প্রদর্শন করবেন সেটা তাঁর ব্যাপার। কোনও একজন খেলোয়াড়ের বা সার্বিকভাবে একটা দলেরই আগ্রাসী মনোভাব আপনার পছন্দ নাই হতে পারে। সেটাকে নিয়ে শোরগোল তুলে আদৌ কী লাভ সেটা ভাবুন। অনেকসময়েই আগ্রাসনটাও পরিকল্পনারই অঙ্গ। সেটাও বুঝুন। পরিকল্পিত ও নিয়ন্ত্রিত আগ্রাসন একটা দলকে কতটা সাহায্য করতে পারে সেটা জানতে একটু খেলার ইতিহাস পড়ুন। মাথা খাটিয়ে খেলা দেখুন। স্রেফ আপনার কিম্বা আপনাদের ব্যক্তিগত কিম্বা সমষ্টিগত পছন্দ অপছন্দের চাপে যে ক্রীড়াবিজ্ঞানের অভিমুখ পাল্টে যাবে এমন ভ্রান্ত আশা নিশ্চয়ই আপনার মধ্যে নেই?

আবেগ ভাল। আবেগী সমর্থন দামী জিনিস। সেই আবেগকে ইতিবাচক, গঠনমূলক ভাবে কাজে লাগাবার চেষ্টা করুন। ইউরোপিয়ান ফুটবলে দেখবেন, কুচো কুচো ক্লাব, বহুদিন ট্রফি আসেনি আর এবারেও আসবার সম্ভাবনা নেই, সমর্থকেরা কী উৎসাহে উৎসবের মেজাজে মাঠে আসছেন। শেষমুহুর্তে দল নিশ্চিত হারছে, কান্নাভেজা চোখে গান গেয়ে প্রিয় দলকে ভালবাসা জানাচ্ছেন। উল্টোদিকে তাকান ভারতীয় ফুটবলের দুটি বিখ্যাত বাঙালি ক্লাবের দিকে। ক্লাবদুটির পরিচালকবর্গের ভাষাতেই সেদুটি নাকি “সমর্থকদের ক্লাব” এবং তাদের “সমর্থক সারা দেশে ছড়ানো”। তো এই ক্লাবপ্রেমী সমর্থকেদের অধিকাংশই ফেসবুকে বিরোধীপক্ষীয় সবকিছুকেই খিল্লি ও খিস্তি করতে করতেই এত ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন যে আজ যখন এই দুটি ক্লাবের সামনেই অনিশ্চয় ভবিষ্যৎ তখন এই ক্লাবগতপ্রাণ সমর্থকেরা কিছু করছেন বা করবার কথা ভেবেছেন বলে বাজারে কোনও গুজব নেই। আপনি আপনার দলের কীরকম সমর্থক হতে চান ভেবে দেখুন।

পরিশেষে, অন্ধ সমর্থন কখনই কাজের কথা নয়। জীবনের সবক্ষেত্রেই একটু যুক্তিবাদী হবার চেষ্টা করুন। আপনার ও আপনার আশপাশের সকলের পক্ষেই আরেকটু বেশি উপকারী হয়ে উঠবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

thirteen + one =

You might also like...

amitabh2

কী ভেবেছিলেন, গুরুং খাদা পরিয়ে বরণ করবেন!‌

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk