Loading...
You are here:  Home  >  ওপেন ফোরাম  >  আশির দশক  >  Current Article

টিভিতে দেখা, স্বপ্নে দেখা সেই রাজকন্যা

By   /  June 21, 2017  /  No Comments

ময়ূখ নস্কর

সরোবরের জলে সাঁতার কাটছে একটি রাজহংসী। হঠাৎ সে গলা বাঁকিয়ে দিকবদল করল। শব্দ হল না। ঢেউ উঠল না। একটা পালকও বাঁকল না। শুধু জলের ওপরে কয়েকটা রেখা আঁকা হয়ে গেল।
দেখেছেন এমন দৃশ্য? দেখে কী মনে হয়েছে?‌ সরস্বতী ঠাকুরের কথা?‌ দূর মশাই, তাহলে আপনি আশির দশকে কৈশোর কাটাননি।
এখন আপনার বয়স কত?‌ চল্লিশ পেরিয়েছে?‌ আকাশে লঘুভার সাদা মেঘ দেখে আপনার কী মনে হয়?‌ কী মনে হয় এলোমেলো হাওয়ায় কাশফুলের ওড়াউড়ি দেখে?‌ শরৎকাল, দুর্গাপুজো?‌ দূর, তাহলে আপনি স্টেফি গ্রাফ বলে কাউকে দেখেননি। দেখেননি তাঁর সাদা স্কার্টের ছন্দময় ওড়াউড়ি।
আটের দশক। ঘরে ঘরে ঢুকে পড়ছে টিভি। সাদা কালো, তবু তার দৌলতেই বাইরের পৃথিবী উকিঝুকি মারছে বাঙালির ঘরে। পা রাখছে টেনিস নামক এক ভিনদেশি খেলা। বিটকেল তার নিয়ম কানুন। পনেরোর পরে তিরিশ, তারপরেই চল্লিশ। ডিউজ, অ্যাডভান্টেজ, ডাবল ফল্ট, আনফোর্সড এরর–‌ বোঝা যায় না, কিছুই বোঝা যায় না।
তবুও এই না বোঝার মধ্যেই জার্মানি থেকে উঠে এল দুটি ছেলে–‌মেয়ে। একজন ফুটবলের গোলকিপারের মতো ড্রাইভ দেয়–‌সদ্য কৈশোর ছাড়ানো বরিস বেকার। আরেকজন স্টেফি গ্রাফ। তাঁর টিকালো নাক, তাঁর পনিটেল, সে জিতলেও কাঁদে, হারলেও কাঁদে। সেই প্রথম জানলাম, আনন্দেও কাঁদা যায়।

steffi2
জার্মানি বললাম বটে। কিন্তু আসলে পশ্চিম জার্মানি। পৃথিবীর মানচিত্র তখন অন্যরকম ছিল। সোভিয়েত ইউনিয়ন তখনও মধ্যাহ্ন সূর্যের তেজে জ্বলছে। জার্মানির পূর্বে সমাজতন্ত্র, পশ্চিমে ধনতন্ত্র। মাঝে বিশাল এক পাঁচিল। ভারতীয়রা মনেপ্রাণে জানে, সোভিয়েত আমাদের বন্ধু। বাংলা তখন লালে লাল।
কিন্তু কী বিস্ময়, কী বিস্ময়। ধনতন্ত্রী পশ্চিম জার্মানির এক মেয়ের জন্য আকুল হল আমার সমাজতন্ত্রের দিকে ঝুঁকে থাকা মন। চেকোস্লাভাকিয়ার মার্টিনা নাভ্রাতিলোভা, যুগোস্লাভিয়ার মনিকা সেলেস–‌কমিউনিস্ট দেশ থেকে উঠে আসা দুই মেয়ের বদলে সমর্থন করলাম হিটলারের দেশের মেয়েকে। প্রেম আর কবে তত্ত্বকথা মানে!‌
হ্যাঁ, প্রেম। কৈশোরের প্রেম। ইংরেজিতে যাঁরে বলে ইনফ্যাচুয়েশন। কে শ্রীদেবী, কে মাধুরী, কে জুহি চাওলা!‌ আমার স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা থাকে ব্ল্যাক ফরেস্ট আর রাইন নদীর পারে। বন্ধুরা সিনেমা দেখে, সলমন–‌ভাগ্যশ্রী, কবুতর যা যা যা। আমি উইম্বল্ডন দেখি। দেখি সবুজ ঘাসে এক সফেদ কবুতরি উড়ে বেড়াচ্ছে, ছুটে বেড়াচ্ছে। নিখুঁত ফার্স্ট সার্ভে উড়ে যাচ্ছে তাঁর পনিটেল। যেন স্বর্ণালী শস্যগুচ্ছ। ফোরহ্যান্ডের মসৃণ পেলবতায় জার্মানি তরুণীর স্কার্ট যেন ইরানি কিশোরীর ঘাঘরা–‌ঘূর্ণি হাওয়ায় দোলে।

স্টেফির পাশে আগাসি!‌ এক্কেবারেই মানাইছে নাই রে।

স্টেফির পাশে আগাসি!‌ এক্কেবারেই মানাইছে নাই রে।

আশির দশক পেরিয়ে নব্বই এল। সোভিয়েত ইতিহাস হয়ে গেল। এক হয়ে গেল দুই জার্মানি। আর আমার ঝুলি থেকে বেড়াল বেরিয়ে পড়ল। মানে, স্কুল ব্যাগ থেকে একগাদা স্পোর্টসস্টার বেরিয়ে পড়ল। তার সবগুলোতেই ছিল স্টেফি গ্রাফের ছবি। একটা বই চুরি গিয়েছিল। কে চুরি করেছিল, জানতে পারিনি। স্কুলের বন্ধু বাপ্পাদিত্য খুব সাহায্য করেছিল। টিফিন টাইমে সবাই যখন মাঠে, আমি আর বাপ্পাদিত্য সবার ব্যাগ খুলে খুলে সার্চ করেছিলাম। চোরাই মাল পাওয়া যায়নি।
নতুন শতাব্দী এল। বিশ্বাসঘাতিনী স্টেফি বিয়ে করল আগাসিকে। এবং লজ্জা– ‌ঘেন্নার মাথা খেয়ে বাচ্চা–‌কাচ্চার জন্মও দিল। আমিও মনের ব্যথা মনে চেপে খাঁটি বাঙালি মেয়ের সঙ্গে প্রেম করতে উদ্যোগী হলাম।
এরপরেও কয়েক বছর কাটল। স্কুলের রি–‌ইউনিয়নে আবার দেখা হল বাপ্পাদিত্যর সঙ্গে। কথায় কথায় উঠল আমার স্টেফি প্রেমের কথা। উঠল আমার সেই বই চুরির কথা। বাপ্পাদিত্য হাসতে হাসতে বলল, বইটা আসলে সে–‌ই চুরি করেছিল। সবার ব্যাগ সার্চ করা হলেও তার ব্যাগটাই আমি সার্চ করিনি।
হৃদয় কী বিচিত্র। বাপ্পাদিত্যর হাসিতে আমিও হো হো করে যোগ দিলাম। অথচ, আটের দশকে হলে তার সঙ্গে আমার হাতাহাতি অবশ্যম্ভাবী ছিল। ‌

(‌হ্যাঁ, এটাই আশির দশক। এমন অনেক লুকোনো অনুভূতির ভিড় এই দশকজুড়ে। আপনার প্রিয় কোনও চরিত্রকে নিয়ে আপনিও লিখতে পারেন। লেখা পাঠানোর ঠিকানা:‌ bengaltimes.in@gmail.com) ‌

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five − 2 =

You might also like...

amitabh2

কী ভেবেছিলেন, গুরুং খাদা পরিয়ে বরণ করবেন!‌

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk