Loading...
You are here:  Home  >  জেলার বার্তা  >  উত্তর বঙ্গ  >  Current Article

পাহাড়ে গণভোটের কথা ভেবে দেখতে পারেন

By   /  August 7, 2017  /  No Comments

সরল বিশ্বাস

পাহাড় সমস্যার সমাধান কোথায়?‌ কারও কাছেই এর স্পষ্ট উত্তর নেই। রাজ্য সরকার আগে এত তৎপর হলেও আপাতত পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। কেন্দ্রীয় সরকার কী করবে, বুঝে উঠতে পারছে না। অন্য রাজ্যের দাবিতে সায় দেবে নাকি বিরোধীতা করবে, তারা নিজেরাও জানে না। রাজ্য সরকারকে খুব একটা চটাতেও চান না রাজনাথ সিংরা। তাই রাজ্যকে বাদ দিয়ে কোনও বৈঠকই যে হবে না, তা পরিষ্কার করে দিয়েছেন রাজনাথ সিং। বামেরাও যেন দ্বিধায়। নীতিগতভাবে তাঁরা আলাদা রাজ্যের বিরুদ্ধে। কিন্তু যেহেতু আন্দোলনটা কার্যত রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে, তাই তাঁরাও যেন কিছুটা মজাই দেখছেন। পাহাড়ের দলগুলিও স্পষ্ট অবস্থান নিতে পারছে না। মোর্চা অনেকদিন ধরেই আলাদা রাজ্যের দাবিতে সোচ্চার। কিন্তু জিএনএলএফ বা হরকা বাহাদুরের দল?‌ কদিন আগেও তাঁরা আলাদা রাজ্যের বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতির চাপে তাঁরাও মোর্চার সঙ্গেই সুর মিলিয়েছেন। মোর্চার সঙ্গে যৌথ আন্দোলনও করছেন।

gorkhaland3

এই যখন পরিস্থিতি, তখন পাহাড়ের মানুষের মতামতটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা কী চাইছেন, সেই দিকে নজর দেওয়া উচিত। সত্যিই কি পাহাড়ের মানুষ আলাদা রাজ্য চান ?‌ নাকি এই রাজ্যের সঙ্গেই থাকতে চান?‌ তৃতীয় একটা বিকল্পের কথাও ভেবে দেখা যেতে পারে। সিকিমের সঙ্গে দার্জিলিংকে জুড়ে দেওয়া যায় কিনা। তাতে পাহাড়বাসীর সমর্থন আছে কিনা।

মুখ্যমন্ত্রী জোরের সঙ্গে বলে চলেছেন, বাংলা ভাগ হতে দেব না। পাহাড়কে আলাদা হতে দেব না। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি রাজ্যের অখণ্ডতা চাইতেই পারেন। কিন্তু জোর করে আলাদা করা যেমন উচিত নয়, তেমনি জোর করে আটকে রাখারও যুক্তি নেই। পাহাড়ের মানুষ কি আদৌ বাংলার সঙ্গে থাকতে চান?‌ বাংলার সরকারের ওপর তাঁদের কি সত্যিই আস্থা আছে?‌ তাঁরা কি নিজেদের বাংলার মূলস্রোতের অঙ্গ বলে মনে করেন?‌ বাংলার রুচি–‌সংস্কৃতির সঙ্গে সত্যিই কি একাত্মতা অনুভব করেন?‌ এই বিষয়গুলিও ভাবা দরকার। এবং কোনও গোঁয়ার্তুমি নয়। একেবারে খোলা মনে এই মৌলিক বিষয়গুলি ভাবা হোক। পাহাড়ের মানুষের গণভোট নেওয়া হোক। তাঁরা যদি সত্যিই বিচ্ছিন্ন হতে চান, তবে সেই দাবিকে মান্যতা দেওয়া হোক।

darjeeling5

প্রশ্ন উঠতেই পারে, দার্জিলিংয়ে যদি গণভোট হয়, তাহলে আরও নানা জায়গায় এই দাবি উঠবে। অনেকেই বিচ্ছিন্ন হতে চাইবে। সেক্ষেত্রে বলা যেতেই পারে, এটা অন্তত একশো বছরের পুরনো দাবি। লোকসভাতেও পঞ্চাশ বছর আগে এই দাবি উঠেছিল। তিরিশ বছর আগেও এই দাবিকে ঘিরে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হয়েছিল। ভবিষ্যতেও যদি রাজ্যের দাবি ওঠে, তবে অন্তত ২৫ বছর অপেক্ষা করতে হবে। একমাত্র ২৫ বছরের পুরানো দাবি বিবেচিত হবে। হঠাৎ করে ওঠা কোনও দাবিকে বিবেচনার মধ্যে আনাই হবে না। বরং সেই দাবিতে আন্দোলন করলে তা দেশদ্রোহীতা হিসেবে গণ্য হবে। এরকম একটা শর্ত রাখা যেতেই পারে। আরও একটা শর্ত দেওয়া যেতে পারে, যাঁরা পৃথক রাজ্যের দাবিতে আলোচনা চালাবেন, তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী বা অন্য কোনও মন্ত্রী হতে পারবেন না। তাহলে হুটহাট দাবিগুলো কমবে।
এগুলো একেবারে প্রাথমিক স্তরের প্রস্তাব। সংবিধান বিশেষজ্ঞরা ভেবে দেখতে পারেন। কীভাবে এই গণভোট আয়োজন হতে পারে, সেই প্রক্রিয়া নিয়েও বিতর্ক হোক। অহেতুক জেদাজেদি না করে খোলামনে সবাই সেই রায় মেনে নিন।

sejuti-banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

8 − 2 =

You might also like...

bandhabgarh3

বান্ধবগড়ে জঙ্গলের মধ্যে এক হোটেল

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk