Loading...
You are here:  Home  >  ওপেন ফোরাম  >  Current Article

সিআইডি প্রতিমাসেই গৌতম দেবকে ডাকুক

By   /  August 11, 2017  /  No Comments

স্বরূপ গোস্বামী

রাজ্যের সেরা গোয়েন্দা কে?‌ বইয়ে পড়া ফেলুদা বা ব্যোমকেশের কথা ভুলে যান। আপনি যাঁদের চেনেন, তাঁদের কথা ভাবুন। যদি বলি, তাঁর নাম গৌতম দেব, খুব কি অতিরঞ্জন হয়ে যাবে?‌
গোয়েন্দা বলতেই এসে যায় সিবিআই এর কথা। রাজ্যস্তরে এসে যায় সিআইডি–‌র কথা। কিন্তু কেন জানি না, এই সংস্থাগুলোকে এখন বড়ই অকেজো মনে হয়। সিবিআই মানে, যেটা সাতদিনে হয়ে যায়, সেটা দশবছর ধরে টেনে নিয়ে যাওয়া। তারপর আইনের ফাঁক গলে অপরাধী বেকসুর খালাস। বিশেষ করে সারদা–‌নারদা কাণ্ডে সিবিআইয়ের ভূমিকা মনে করার চেষ্টা করুন। দিল্লির নির্দেশে দু–‌একজনকে জেরা বা গ্রেপ্তার করা। তারপর আবার কর্তাবাবুদের হুকুমে শীতঘুমে চলে যাওয়া। এটাই মোটামুটি নির্যাস। পিছিয়ে চলুন বছর তিনেক আগে। সুদীপ্ত সেন ধরা পড়ার পরই গৌতম দেব সারদার নানা বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খ বলে দিয়েছিলেন। মাত্র দুদিনের চেষ্টায় গৌতম দেব যা যা তথ্য পেয়েছিলেন, তিন বছরের চেষ্টায় সিবিআই সেখানেও পৌঁছতে পারেনি।

goutam deb5
‌সত্যি করে বলুন তো, ২০১০ এর আগে কজন চিনতেন গৌতম দেবকে?‌ কোনও টিভি চ্যানেলে তাঁর ইন্টারভিউ শুনেছিলেন?‌ একক ইন্টারভিউ না হোক, প্যানেলের আলোচনায় দেখেছিলেন?‌ ঘটা করে প্রেস কনফারেন্স করতে দেখেছিলেন?‌ বড়সড় কোনও বিতর্কে তাঁর নাম উঠে এসেছিল?‌ নিঃশব্দে নিজের কাজ করে গেছেন। রাজারহাটের মতো আধুনিক একটা উপনগরী তৈরি করে ফেলেছেন। রাজ্যের লোক জানতেও পারেনি। জমি নিয়ে তেমন সমস্যা হয়নি। আলাপ–‌আলোচনার মাধ্যমে সেই সমস্যা মিটিয়েছেন। তথাকথিত সিন্ডিকেট নিয়ে রোজ রোজ খবর হত না। নিম্ম মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষ কার্যত জলের দরে ফ্ল্যাট পেয়েছেন। ফ্ল্যাট বন্টন নিয়েও তেমন অনিয়ম উঠে আসেনি। পরেও অনেক অনিয়ম খোঁজার চেষ্টা হয়েছে। তাতেও বিশেষ সুবিধা হয়নি।
এই গৌতম দেবকে আপনি কখন চিনলেন?‌ মোটামুটি ২০১০ এর পর থেকে। একের পর এক নোঙরা আক্রমণ চলছিল। আত্মপক্ষ সমর্থনে এগিয়ে এলেন। এমন তথ্য–‌পরিসংখ্যান তুলে ধরলেন, পাল্টা তেমন কিছু বলার রইল না। ফ্ল্যাট বন্টনের তালিকা চাওয়া হল। তুলে ধরলেন। দেখা গেল, বামেদের চেয়ে তৃণমূলই বেশি অস্বস্তিতে পড়ে গেল। এরপর শুরু হল নতুন এক অধ্যায়। যেখানেই তিনি, সেখানেই কাতারে কাতারে মানুষ। টিভি চ্যানেলে গৌতম দেব মানেই চড়চড় করে বাড়ছে টিআরপি। নির্বাচনের আগে তিনি নির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ এনেছিলেন। কুপন পোড়ানো থেকে প্রার্থীদের টাকা দেওয়া। অনেকে বিশ্বাস করেছিলেন, অনেকে করেননি। যিনি মানহানির মামলা করলেন, পরপর কুড়িবার তিনি নিজেই আদালতে গরহাজির।

goutam deb3
চিটফান্ড কান্ডে সুদীপ্ত সেন ধরা পড়ার দুদিনের মাথায় প্রেস কনফারেন্স করে তুলে ধরলেন অকাট্য সব তথ্য। গত চার বছর ধরে সিবিআই তদন্তে দেখা যাচ্ছে, যা যা বলেছিলেন, সবগুলোই সত্যি হয়ে বেরিয়ে আসছে। গৌতম দেব মাত্র দুদিনের চেষ্টায় যা বের করেছিলেন, চার বছরের চেষ্টাতেও সিবিআই করা করে উঠতে পারেনি। তাঁর হাতে গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা ছিল না, জেরা করার অধিকার ছিল না, ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট দেখার সুযোগ ছিল না। তদন্তের প্রায় কোনও পরিকাঠামোই ছিল না। তবু তিনি যা করার, দুদিনেই করে দেখিয়েছিলেন।
সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপোকে নিয়ে সর্বভারতীয় একটি চ্যানেলে হইচই হল। এটাও গৌতম দেব দু বছর আগে সুনির্দিষ্ট তথ্যসহ জানিয়েছিলেন। পরিবারের লোকেরা কোথায় কোথায় সম্পত্তি কিনেছেন, প্রমাণসহ বছর দুই আগে জানিয়ে দিয়েছিলেন। কোন জমি কার নামে কেনা হয়েছে, কবে কেনা হয়েছে, কোন তারিখে রেজিস্ট্রেশন হয়েছে, সবকিছু নথিসহ তুলে ধরলেন। তাঁর যুক্তি বা তাঁর দেওয়া তথ্যকে খণ্ডন করার রাস্তায় কেউ হাঁটেননি। শাসকদলের একটাই জবাব ছিল, মানুষ মমতা ব্যানার্জির পাশে আছেন। দুর্নীতির সঙ্গে, তদন্তের সঙ্গে ভোটকে ঘেঁটে দেওয়ার চেষ্টা। সেটাই যদি যুক্তি হয়, তাহলে তো বলতে হয়, ৩৪ বছর ধরে বামেরা কোনও অন্যায়ই করেনি, কারণ প্রতিবার তাঁরা মানুষের ভোটে জিতে এসেছেন।
গৌতম দেব সম্পর্কে নানা নেতিবাচক প্রচার আছে। আসলে, যাঁরা তাঁর যুক্তির পাল্টা যুক্তি খুঁজে পান না, তাঁরা অশ্লীল আক্রমণের রাস্তাই বেছে নেন। এমনকী তাঁর স্নায়ুর রোগ নিয়েও কটাক্ষ করেন। কেউ তাঁর হাত বেঁকিয়ে কথা বলা নিয়ে কটাক্ষ করেন। কেউ বলেন পাগল। এমনকী রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীও এই নিম্নস্তরের আক্রমণই করে থাকেন। কিন্তু গৌতম দেব যে বিষয়গুলো তুললেন, সেটা নিয়ে আলোচনা করার বা খণ্ডন করার মতো সৎসাহস দেখাতে খুব একটা দেখা যায় না। আজকে তাঁর যে কথাগুলো ‘‌ফালতু’‌ বলে মনে হবে, তিন–‌চার বছর পর দেখবেন, সেই কথাগুলোই বড় বেশি সত্যি মনে হচ্ছে।
তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরই পুলিশ তাঁকে ডেকে পাঠায়। সামান্য একটি সুযোগ পেয়ে হেনস্থার চেষ্টাও করে। জেরায় গৌতম দেব যা যা বলেছিলেন, পুলিশই অস্বস্তিতে পড়ে গিয়েছিল। আবার সিআইডি নাকি তাঁকে তলব করেছে। চার মাস আগে ছাত্রদের কোন সভায় তিনি নাকি মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করেছিলেন। ‘‌কুরুচিকর’‌ মন্তব্য করেছিলেন। অর্থাৎ, গৌতম দেবকেও মুখ্যমন্ত্রীর প্রশস্তি করতে হবে। ধরেই নিলাম, গৌতম দেব শালীনতা ছাড়িয়েছিলেন। তাহলে তো দু–‌একজন বাদ দিয়ে তৃণমূলের প্রায় সবাইকেই ডেকে পাঠাতে হয়। এমনকী স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীকেও তো রোজ ডেকে পাঠাতে হয়। কারণ, তাঁর আক্রমণের নিশানা থেকে কারও রেহাই মেলেনি। প্রধানমন্ত্রী থেকে প্রধান বিচারপতি–‌সবার নামেই তিনি অমৃতভাষণ দিয়ে চলেন। বিরোধী নেত্রী থেকে মুখ্যমন্ত্রী হয়েও এই ধারাবাহিকতায় কোনও ছেদ পড়েনি।
গৌতম দেবকে অবশ্যই জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। কিন্তু তিনি কী বলছেন, সেটাও রেকর্ড থাকুক। এই নিয়ে তিনি আগেই দুঃখপ্রকাশ করেছেন, দলও দুঃখপ্রকাশ করেছে। তারপরেও এটাকে টেনে নিয়ে যাওয়ার কোনও যুক্তি ছিল না। কিন্তু তাঁবেদারি আর যুক্তি দুটো তো একসঙ্গে চলতে পারে না। চলার কথাও নয়।

একবার নয়, সিআইডি বরং প্রতিমাসে গৌতম দেবকে ডেকে পাঠাক। কারণ, এই রাজ্যে তাঁর চেয়ে বড় গোয়েন্দা সত্যিই নেই। সিবিআই যা চার বছরে করতে পারে না, সেই তদন্ত গৌতম দেব দুদিনে করে দেখিয়েছেন। সিআইডি কর্তারা বরং গৌতম দেবের কাছে ক্লাস করুন। কিছু শেখার চেষ্টা করুন। এত ভাল শিক্ষক সত্যিই পাবেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

18 − ten =

You might also like...

taxi

হাওড়া স্টেশন নিয়ে প্রশাসনের হেলদোল নেই

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk