Loading...
You are here:  Home  >  ওপেন ফোরাম  >  Current Article

প্রফেসর শঙ্কুর মতো সাহসী পরিচালক এই দেশে নেই

By   /  August 12, 2017  /  No Comments

রবি কর

অনেকদিনের অভিজ্ঞতা থেকে বুঝেছি, বেঙ্গল টাইমস একটি চালের মিডিয়া। এখানে যারা লেখে, তারা খালের রিপোর্টার। আর এর এডিটর!‌ একজন তালের এডিটর। আমি নিজে এই কাগজে কাজ করি। নেহাত বউ বাচ্চা আছে, তাই পেটের দায়ে করি। কিন্তু এখানে যা লেখা হয়, সবকিছুই ভুল। সবকিছুই অপপ্রচার। আপনাদের প্রতি আমার উপদেশ, এই মিডিয়ায় যদি কারও নিন্দা করা হয়, তাহলে জানবেন, তাঁর মতো ভাল লোক দুনিয়ায় নেই। আর যদি কারও প্রশংসা করা হয়, তাহলে জানবেন, তিনি শয়তানের শিরোমণি।
এই উপদেশ শুধু আপনাদের দিচ্ছি না। নিজের জীবনেও আমি এই কথাগুলো মেনে চলি। কিছুদিন আগেই বেঙ্গল টাইমসে শঙ্কুদেব পন্ডা পরিচালিত কমরেড ছবির সমালোচনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এটি অতি বাজে সিনেমা। এই সিনেমা কেউ দেখছে না, ইত্যাদি ইত্যাদি। লেখাগুলো পড়েই বুঝেছি, এর সবই অপপ্রচার। আসলে, সিনেমাটি অতি উচ্চমানের। তাই আমি উঠে পড়ে লাগলাম সিনেমাটি দেখার জন্য। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের ষড়যন্ত্রে এবং ৩৪ বছরের অপশাসনের কুফলে কলকাতার প্রায় কোনও সিনেমা হলেই ছবিটি দেখা যাচ্ছে না। হলের মালিকরা নিশ্চয় সিপিএমের হারমাদদের ভয়ে সিঁটিয়ে আছে। তাই এমন একটি সুপারহিট হওয়ার যোগ্য সিনেমা বক্স অফিসে ধুঁকছে। অনেক খুঁজে পেতে একটা হলে কমরেড–‌এর খোঁজ পাওয়া গেল (‌হলের নাম বলছি না, কারণ মালিক আক্রান্ত হতে পারে)‌। বেঙ্গল টাইমস লিখেছিল, এই সিনেমা দেখতে হলে লোক হচ্ছে না। এই কথা ইয়োলো জার্নালিজমের আদর্শ উদাহারণ। লোক হচ্ছে না ঠিকই, কিন্তু কেন লোক হচ্ছে না, তা বেঙ্গল টাইমস আপনাদের জানায়নি। নিশ্চয় আপনারা জানেন এই সিনেমায় সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। সেই সময়ে আমাদের তৎকালীন রাজ্যপালের শিরদাঁড়া দিয়ে যেমন ঠান্ডা স্রোত বয়ে গিয়েছিল, সিনেমাটি দেখতে দেখতেও দর্শকদের মেরুদন্ড দিয়ে ঠান্ডা স্রোত হয়ে যায়। প্রতিমুহূর্তে মনে হয়, এই সিনেমার সঙ্গে হার্মাদদের গুলির কোনও তফাত নেই। হার্মাদদের অত্যাচারে গ্রামগুলো যেমন জনশূন্য হয়ে গিয়েছিল, শঙ্কুদেবের অত্যাচারেও হলগুলি সেরকম দর্শকশূন্য হয়ে যায়। এটা ব্যর্থতা নয় মশাই, এটা চরম সাফল্য। পর্দায় উত্তম–‌সুচিত্রার প্রেম দেখে যদি আপনার প্রেম পায়, তাহলে সেটা ভাল সিনেমা। আর জনশূন্য গ্রামের ছবি দেখে হল যদি দর্শকশূন্য হয়, সেটা খারাপ সিনেমা?‌ এ কেমন বিচার?‌

shankudeb2
বেঙ্গল টাইমসের কথায় আসি। তারা তো উঠতে বসতে দিদিমণির দোষ দেখে। দিদিমণির কবিতা খারাপ, আঁকা খারাপ, ভাই খারাপ, ভাইপো খারাপ। আমি, মানে রবি কর, একা দিদির হয়ে কথা বলি, তাই আমিও খারাপ। আমাকে লিখতে দেয় না। কিন্তু ভালকে ভাল আমি বলবই। মাকু এডিটর আমাকে দাবায়ে রাখতে পারবা না। এই যে কমরেড সিনেমার এত নিন্দা করলি— সিঙ্গুরের ওসি নন্দীগ্রাম থানায়, নন্দীগ্রামের ধর্ষিতা সিঙ্গুর হাসপাতালে, প্রতি সপ্তাহে পলিটব্যুরোর মিটিং, পলিটব্যুরোতে টাটার উপস্থিতি— এইসব বলে খিল্লি করলি। ভাল কথাটা তো বললি না।
সিনেমায় সবাই বলে, সব চরিত্র ও কাহিনী কাল্পনিক। কিন্তু আমাদের শঙ্কুদেব ওইসব ন্যাকামির ধার ধারেন না। তিনি বীরদর্পে বলেছেন, এই সিনেমা সত্য ঘটনা অবলম্বনে। ভাবুন, সবাই ঝামেলা এড়ানোর জন্য বলে এই কাহিনী কাল্পনিক। কিন্তু শঙ্কু বুক ঠুকে বললেন, এগুলি সত্য ঘটনা অবলম্বনে। এই ঘোষণা করার পর শঙ্কু কী দেখালেন?‌ গোটা সিনেমায় একবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম নেই। বুদ্ধ আছে, সোমনাথ আছে, গৌতম আছে, টাটাও আছে, সিঙ্গুরের মাস্টারমশাই আছেন।। কিন্তু মমতা নামের কোনও চরিত্র নেই। ভাবুন। কতবড় সত্য ঘটনা শঙ্কু তুলে ধরলেন। তিনি বুঝিয়ে ছাড়লেন, সঠিক–‌বেঠিক যাই হোক, এটা ছিল জনগণের আন্দোলন। কলকাতা থেকে যাওয়া কোনও নেতা–‌নেত্রীর ভূমিকা এখানে ছিল না। শুভেন্দু বা বেচারামের ভূমিকা থাকলেও থাকতে পারে। কিন্তু নন্দীগ্রাম–‌সিঙ্গুরের আন্দোলন সংগঠনে মমতার কোনও ভূমিকা ছিল না। আমি বলছি না মশাই, আমি বলছি না। এই কথা বলছেন, পরিচালক শঙ্কুদেব পন্ডা। এই ঘটনা যখন ঘটে, তখন শঙ্কুদেব ছিলেন একজন সাংবাদিক। তিনি নিজের চোখে ঘটনাগুলি দেখেছেন। তারপর সত্য ঘটনা অবলম্বনে এই সিনেমা বানিয়েছেন। সুতরাং তাঁর দাবি আমাদের মেনে নিতেই হবে।

comrade
নিন্দুকরা বলে, তৃণমূলে একটাই পোস্ট। বাকি সবাই ল্যাম্পপোস্ট। আরও বলে, দিদি অখুশি হয়, এমন কথা বলার সাহস তৃণমূলে কারও নেই। আমরা দেখি, পাড়ায় একটা তুলসী মঞ্চ স্থাপন করলেও লিখতে হয়, মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায় তুলসীমঞ্চটি নির্মিত হইল। কিন্তু শঙ্কুর সিনেমায় অনুপ্রেরণার কোনও সিন নেই। এমনকী এমনকী অনু্প্রেরণাদাত্রীর চরিত্র তো নেই–‌ই, নামও নেই। ভাবুন কত বড় সাহস। আইজেনস্টাইনের পর এতবড় সাহসী পরিচালক আর দেখা যায়নি। বাম–‌বিজেপি নেতারাও মমতার নাম না করে জল খান না। কিন্তু শঙ্কু তৃণমূলে থেকেও তাঁকে পুরোপুরি অবজ্ঞা করলেন। পার্থ, সুব্রত, মুকুল, শুভেন্দু যা পারে না, শঙ্কু তাই করে দেখালেন। প্রমাণ করলেন, তিনি হার্মাদদের ভয় পান না, বজরং দলকে ভয় পান না, এমনকী দিদিকেও ভয় পান না।
বেঙ্গল টাইমস এই সাহসের মর্যাদা দিক বা না দিক, আমি দেব। সবাইকে বলব, এই ঐতিহাসিক ছবিটি দেখুন। জোর গলায় বলুন, মেদিনীপুরের দামাল ছেলে শঙ্কু পন্ডা জিন্দাবাদ। সাবাস প্রফেসর শঙ্কু সাবাস। আশা করব, শঙ্কুর এই সাহস দেখে তৃণমূলের অন্যান্য নেতারাও অনুপ্রাণিত হবেন। তৃণমূলের ভেতরে এই গণতন্ত্রের হাওয়া বইছে, এমন গণতন্ত্র বামফ্রন্ট, বিজেপি, কংগ্রেস কোত্থাও নেই। আগামীদিনে এই গণতন্ত্র আরও বিকশিত হোক। তৃণমূলের জোড়াফুলের চারিদিকে শত শঙ্কু বিকশিত হোক।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

12 + 17 =

You might also like...

radio3

না বোঝা সেই মহালয়া

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk