Loading...
You are here:  Home  >  জেলার বার্তা  >  উত্তর বঙ্গ  >  Current Article

ফল যাই হোক, ইতিবাচক বার্তা অন্তত দিয়ে গেলেন শতরূপ

By   /  August 12, 2017  /  No Comments

(ধূপগুড়িতে কী হবে?‌ ড্যাং ড্যাং করে জিতবে তৃণমূল। কিন্তু চারদিন মাটি কামড়ে পড়ে থেকে অন্য এক বার্তা দিলেন শতরূপ ঘোষ। পায়ে পায়ে, পাড়ায় পাড়ায়, চায়ের দোকানে, বাড়ির দাওয়ায় একেবারেই ভিন্ন মেজাজে। এই ছবিটা সারা বাংলায় ছড়িয়ে দেওয়া যায় না?‌ জলপাইগুড়ি থেকে লিখেছেন কৌশিক রায়।)

একদিকে বন্যা পরিস্থিতি। অন্যদিকে ভোট। ধূপগুড়ি যেন দ্বিধায়। ফল নিয়ে বিশেষ অনিশ্চয়তা নেই। তৃণমূল জিতবে, এখন থেকেই বলে দেওয়া যায়। তবে কিছু ইতিবাচক দিক দেখলাম। সেই বিষয়গুলি বেঙ্গল টাইমসে তুলে ধরতে চাই।
বামেরা শুরুর দিকে তেমন লড়াই দিতেই পারেননি। মনে মনে হয়ত ভেবে নিয়েছিলেন, হারতেই যখন হবে, তখন লড়াই করে লাভ কী?‌ রাজ্য পর্যায়ের নেতাদের উপস্থিতি দেখা গেল না। এমনকী জেলাস্তরও যেন খানিকটা উদাসীন। একেবারে শেষদিকে এসে হাল ধরলেন যুবকরা। তাঁরা ঠিক করলেন, হারতেই যদি হয়, লড়ে হারাই ভাল। তাঁরা ক্রমাগত চাপ দিলেন। তারপর আসতে দেখা গেল তাপস সিনহা, আমজাদ হোসেন, শতরূপ ঘোষদের। হ্যাঁ, তারপর লড়াইয়ের একটা আবহ তৈরি হল।
তাপস সিনহা দুদিন ছিলেন। বিভিন্ন ওয়ার্ডে সভা করলেন। পান্ডুয়ার বিধায়ক আমজাদও বেশ কয়েকটি সভা করেন। তবে সবথেকে বেশি সাড়া ফেলেছিলেন যুবনেতা শতরূপ ঘোষ। টানা চারদিন পড়ে ছিলেন ধূপগুড়িতে। গাড়িতে চড়ে নয়। চারদিনে পায়ে পায়ে পাড়ায় পাড়ায় চষে বেড়ালেন। প্রার্থীদের নিয়ে বিভিন্ন ছোট ছোট পাড়ায় ঢুকে পড়লেন। কখনও চায়ের দোকানে চুটিয়ে আড্ডাও দিলেন। সবমিলিয়ে অন্যরকম একটা পরিবেশ তৈরি হল।

shatarup
একটা মজার ঘটনা বলা যাক। চায়ের দোকানে চা খাচ্ছিলেন বাম কর্মীরা। মধ্যমণি অবশ্যই শতরূপ। হঠাৎ তৃণমূল প্রার্থীর স্বামী এসে হাজির। তাঁর আবদার, তিনি শতরূপের সঙ্গে ছবি তুলবেন। হাসিমুখে সেই আবদার রাখতে হল শতরূপকে। গত পাঁচ ছ বছরে টিভির পর্দায় অনেকটাই চেনামুখ, তার ওপর সুদর্শন, ভাল কথা বলেন। সবমিলিয়ে শতরূপকে ঘিরে একটা আলাদা আগ্রহ বাংলার নানাপ্রান্তেই আছে। ধূপগুড়িতেও সেই ছবিটাই দেখা গেল। অনেকেই এগিয়ে এসে কথা বলছেন, ছবি তুলছেন। শতরূপও জানেন, কোথায় রাজনীতির কথা বলতে হয়, কোথায় রাজনীতির রঙ দূরে সরিয়ে রেখে মিশে যেতে হয়। বেশ সাবলীল সেই মিশে যাওয়া। চারদিনে অন্তত কুড়িটি সভা করতে হয়েছে। বড় জনসভা যেমন আছে, তেমনি পাড়ার মোড়ের সভাও আছে। পথচলচতি মানুষ থেমে যাচ্ছেন, কথা শুনে যাচ্ছেন।
বাম কর্মী সমর্থকদের একটা আক্ষেপ বারেবারেই শোনা গেল, যদি আরও কিছুদিন আগে আনা যেত!‌ যদি ১৬ টা ওয়ার্ডেই তাঁকে ঘোরানো যেত!‌ মনে হল, শতরূপ কি এতটাই জনপ্রিয় যে পুরভোটের ফল বদলে দিতে পারেন?‌ তা নয়। শতরূপ টানা চারদিন ধূপগুড়ির মাটি কামড়ে পড়ে আছেন, এই বার্তাটা সবজায়গায় ছড়িয়ে গিয়েছিল। সব ওয়ার্ডের প্রার্থীরাই চাইছিলেন, তাঁদের ওয়ার্ডে অন্তত একটিবার যেন যান এই যুবনেতা। সবার আবদার রাখা সম্ভবও ছিল না। তাছাড়া, সেখানে নিজে সিদ্ধান্তও নিতে পারেন না। কোথায় যাওয়া দরকার, সেটা স্থানীয় নেতৃত্বের উপরেই ছাড়তে হয়েছে।
তফাতটা আরও প্রকট হল তৃণমূলের হেভিওয়েটদের দেখার পর। তারকা নেতার–‌মন্ত্রীরা আগে–‌পিছে গাড়ির মিছিল নিয়ে এলেন। বক্তৃতা করলেন। চলে গেলেন। সায়ন্তিকা গ্ল্যামার ছড়িয়ে চলে গেলেন। লকেট আসছিলেন বিমানে, চলে যেতে হল গুয়াহাটি। শেষমেষ গুয়াহাটি থেকে ফের শিলিগুড়ি হয়ে ধূপগুড়ি পৌঁছতে রাত হয়ে গেল। অন্যদিকে শতরূপরা সাধারণ স্লিপার ক্লাসে গিয়ে, পার্টিকর্মীদের বাড়িতেই রাত কাটালেন। পাড়ার দোকানেই দিব্যি টিফিন, চা সহযোগে আড্ডা। একেবারে পাড়ার ছেলের মতোই কয়েকটা দিন কাটানো। সব জড়তা ভেঙে সুন্দরভাবে মিশে যাওয়া। এই তফাতটাই যেন আরও বেশি করে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছিল।
হ্যাঁ, এরপরেও তৃণমূল জিতবে। ড্যাং ড্যাং করে জিতবে। এমনকী সন্ত্রাস না করলেও জিতবে। বিজেপি কি দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসবে?‌ এলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। বামেরা নিশ্চয় আত্মসমালোচনা করবেন। যুবকদের যদি পাঠানো হয়, তাঁরা যদি মাটি কামড়ে পড়ে থাকেন, তাঁরা যদি একেবারে সাধারণভাবে মিশে যেতে পারেন, একটা ইতিবাচক ছাপ অন্তত ফেলা যায়। কর্মীদের অনেক বেশি করে উজ্জীবিত করা যায়। এমনটা কেন হয় না?‌ যে ছবিটা ধূপগুড়িতে দেখা গেল, সেই ছবিটাই তো অন্যান্য জায়গাতেও দেখা যেত। সাসপেন্ড হওয়ার পর ঋতব্রতকে বাইরে পাঠালে বিড়ম্বনা বাড়বে। কিন্তু সিপিএমে বা বাম শিবিরে তো যুব মুখের অভাব নেই। তাঁদের কলকাতায় আটকে রাখা কেন?‌ দেবজ্যোতি, মধুজা, সায়নদীপরাও তো বিভিন্ন জেলায় জেলায় যেতে পারেন। তাঁদেরও তো বিভিন্ন জেলায় কয়েকদিনের জন্য পাঠানো যেতে পারেন। কোনও ভাষণ দেওয়ার দরকার নেই। ভাষণ দেওয়ার জন্য বহু লোক আছে। তাঁরা একেবারে সাধারণ কর্মীদের বাড়িতে থাকুন। পাড়ার দোকানেই কয়েকদিন ঘুগনি–‌পাউরুটি খান। একেবারে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরুন। এতে মানুষের মনে ইতিবাচক ছাপ পড়তে পারে। বামেদের রুচি ও সংস্কৃতি যে বাকিদের থেকে আলাদা, অন্তত এই বার্তাটা তো যাবে। শতরূপ ঘোষ আর শঙ্কুদেব পান্ডাদের রুচি যে আলাদা, সেটা তো মানুষ বুঝতে পারবেন। এই যুবরাই আগামীদিনের হাল ধরবেন। তাঁদেরকেও তো গ্রাম বাংলা চিনতে হবে। বিভিন্ন জেলার ছবিটা বুঝতে হবে। শুধু ভোটের সময় নয়, এই প্রক্রিয়াটা চলতেই থাকুক। প্রতি জেলায় প্রতিমাসেই কেউ না কেউ আসুক। কয়েকিদন ধাকুক। ধূপগুড়ির ফল যাই হোক, শতরূপ একটা ইতিবাচক বার্তা অন্তত দিয়ে গেলেন।

sejuti-banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eighteen − seven =

You might also like...

radio3

না বোঝা সেই মহালয়া

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk