Loading...
You are here:  Home  >  কলকাতা  >  Current Article

পুজোর আগে বড় ম্যাচ!‌ কার পুজো বিবর্ণ হবে, কে জানে!‌

By   /  September 1, 2017  /  No Comments

কুণাল দাশগুপ্ত

‌বন্যা, বর্ষার লাল চোখের দাপটে কিছুটা ব্যাকফুটে শারদোৎসব। আশঙ্কা, প্রকৃতি নির্মম হবে না তো ওই দিনগুলোয়?‌ আপামর বাঙালির প্রার্থনা, ভাসানের আগেই যেন ভেসে না যায় মনের মধ্যে গচ্ছিত থাকা আবেগগুচ্ছ। প্রকৃতি যদি সদয় হয়, তবুও পঞ্চাশ শতাংশ বাঙালির কাছে পুজো তেতো হয়ে উঠতে পারে। ওই যে, বড় ম্যাচ, সম্ভবত চতুর্থীর দিন।

পুজোর দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে বড় ম্যাচ এই প্রথম নয়। ১৯৭৯ সালে, পুজোর ঠিক আগে আগেই ছিল আইএফএ শিল্ডের ফাইনাল ম্যাচ। মুখোমুখি ইস্টবেঙ্গল আর মোহনবাগান। হেভিওয়েট দল গড়েও শিল্ড পায়নি লাল হলুদ। তাই ইস্টবেঙ্গল প্রেমীদের নজর ছিল ওই ম্যাচটায়। বর্ষার ভ্রুকুটি ছিল না। বিলকূল ব্যকরণ মেনে চলা শরৎ। তবু লাল হলুদ সমর্থকদের আশায় জল ঢেলে দিয়েছিল মোহনবাগান। সম্ভবত ৩৫ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলের জাল কাঁপিয়ে দেন গৌতম সরকার। ব্যাস, ওই দিনই যেন ইস্টবেঙ্গলের বিজয়া দশমী।

derby3

দু বছর যেতে না যেতেই ফিরে এল একই পরিবেশ। ১৯৮১ সালের দার্জিলিং গোল্ড কাপের ফাইনাল। ষষ্ঠীর দিন। সেবার আবার মোহনবাগান ওজনদার দল। আর পাহাড়ি পরিবেশে শ্যাম থাপাকে রোখে কে?‌ হাফটাইমের আগেই দু দুবার দুলে উঠল ইস্টবেঙ্গলের জাল। দুবারই গোল করলেন সেই শ্যাম থাপা.‌.‌.‌ হাসেন অন্তর্যামী। লাল হলুদের সেই অন্তর্যামী মজিদ বাসকার। বিরতির পর খেলাটাই বদলে দিলেন সুধীর কর্মকার, মজিদরা। সুধীরের কড়া ট্যাকলে শ্যাম চলে গেলেন মাঠের বাইরে। আর মাঠে রাজার মতো দাপিয়ে বেড়ালেন মজিদ। ৩–‌২ গোলে ম্যাচ জিতল ইস্টবেঙ্গল। সিডি ফ্রান্সিস, সোমনাথ ব্যানার্জি আর জামশিদ নাসিরি গোল করলেন। শারদোৎসব লাল হলুদ সমর্থকদের পকেটে। এক্কেবারে সাদা–‌কালো পুজো গেল মোহনবাগানিদের।
মনে পড়ছে ১৯৮৪ সালের কথা। চতুর্থীর দিন ছিল আই এফ এ শিল্ডের ফাইনাল। আবার সেই পুজোর মুখে রক্তচাপ বৃদ্ধি। কেমন কাটবে পুজো?‌ যে পক্ষ হারবে, তাদের কাছে পুজোর অকালমৃত্যু সেদিনই। প্রশ্ন তখন একটাই, মা দুর্গা, তোমার জার্সির রঙ কী?‌ ম্যাচের বয়স তখন প্রায় ৮০ মিনিট হবে। সম্ভবত মিহির বসুর কাছ থেকে বাঁদিকে বল পান সুদীপ চ্যাটার্জি। বেশি কিছুটা দৌড়ে মাপা সেন্টার। কার্তিক শেঠের পা হয়ে প্রতাপ ঘোষকে হতচকিত করে বল জালে। আই এফ এ শিল্ড, দুর্গাপুজো দুটোই এল লাল হলুদে।

derby4
এবার এই শতাব্দী। ইস্টবেঙ্গলের সেরা বছর কোনটা?‌ কোনও সন্দেহ নেই, ২০০৩। সুভাষ ভৌমিকের কোচিংয়ে সে বছরই এসেছিল জাতীয় লিগ। এবং অবশ্যই আসিয়ান। লাল হলুদে যেন শরতের শিউলির গন্ধ। মুসা, ডগলাস, ওকোরো। কী বিদেশি ব্রিগেড!‌ আর এদেশিদের মধ্যে সন্দীপ, দীপক, মহেশ, সুরেশ, সুরকুমার, দেবজিৎ, কুলুথুঙ্গ, চন্দন, আলভিটোরা ফুল ছড়িয়ে চলেছেন মাঠজুড়ে, হৃদয়জুড়ে। একেবারে সোনায় বাঁধানো ফ্রেম। আর ব্রিগেডিয়ার সুভাষ ভৌমিক তো ছিলেনই। ঠিক পুজোর আগে, আই এফ এ শিল্ডের ফাইনাল। হারতে হল সেই টাইব্রেকারে। একাই যেন রুখে দিলেন প্রশান্ত ডোরা। আসিয়ান জয়ের বছরে যদি এমন বিবর্ণ পুজো আসে, কার ভাল লাগে!‌ কিন্তু সেবার সেটাই হয়েছিল।
এবারও তেমনই পরিস্থিতি। পুজোর মুখে বড় ম্যাচ। শুধু কি লিগের রঙ?‌ প্রশ্ন পুজোর রঙ কী হবে, তা নিয়েও। দুই প্রধানই ব্যাপক খেলছে। জল এবং গোল, দুটোতেই ভাসছে ময়দান। তাহলে?‌ প্রকৃতি যদি দয়াও করে, তবুও প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ বাঙালির কপাল তো পুড়বেই। পুজো প্রাঙ্গনে যেতে হবে মাথা নিচু করে। শরতের ঝলমলে আকাশের নিচে কারও কারও জাতীয় সঙ্গীত হয়ে উঠতে পারে, ‘‌আকাশে আজ রঙের খেলা, মনে মেঘের মেলা।’‌

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × three =

You might also like...

yeti abhijan

ইয়েতির চেয়ে ঢের ভাল ছিল মিশর রহস্য

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk