Loading...
You are here:  Home  >  সাহিত্য  >  অনু গল্প  >  Current Article

অণু গল্প:‌ শব্দ

By   /  September 10, 2017  /  No Comments

অণু গল্প

অম্লান রায়চৌধুরী

শব্দ
বেশ রাত। রাস্তাঘাট একদম নির্জন। আশেপাশে কারুরই থাকার কথা নয়! নির্জন গলিতে শুধু রাস্তার কুকুরগুলো আরাম করে শহুরে জোছনা খাচ্ছে। আমার কানটা খাড়া হয়ে গেল – এক শব্দ! আবার, ওই তো! ওই যে শব্দটা ! ওদিক থেকেই আসছে মনে হচ্ছে।
একটা বাচ্চার গোঙ্গানির শব্দ কি? তাই তো মনে হচ্ছে।
মানুষের?
কুকুরগুলোর?
বেশ বিরক্ত হয়ে তেড়ে যাই সামনের দিকে। কুকুরদের উদ্দেশ্যেই বলি, চিনিস আমাকে? আমার হাতে কিছু নেই, আতিপাতি করে খুঁজতে থাকি একটা কিছু। একটা ইটের টুকরো হলেও চলবে। চোখগুলো গেলে দিলে শান্তি লাগতো। ইস, যদি কয়েকটাকে বেঁধে ইচ্ছে মতো সকাল পর্যন্ত পেটাতে পারতাম!
‘চলে গেছে মনে হল —। চোখগুলো আরেকটু বড় বড় করতেই দেখি শেষ নেড়িটাও দৌড়ে কানা গলির ওপাশে গিয়ে গজরাচ্ছে।

শহর চুপ। গলি চুপ। ল্যাম্পপোস্ট চুপ। নেড়িগুলো চুপ। আমিও তো চুপ, কিন্তু গোঙ্গানির শব্দটা তো থামে না।
‘কোন বাচ্চা রে ?’ থাকতে না পেরে চিৎকার করে উঠলাম।‘কেন এই ভাবে কাঁদছিস কেন ?’
গোঙ্গানি থামে। হঠাৎ খসখস শব্দ হয়। কাগজে কাগজ ঘষার শব্দ। বেশ কিছুক্ষণ, থেমে থেমে। উৎস ধরে আমি এগুতে থাকি। একটা ডাস্টবিন। পেছনে জমাট নর্দমা। তীব্র গন্ধটা নাকে আসতেই মনে হল এই মুহূর্তে মগজটা কে যেন ফালি ফালি করে দিল।

dustbin

‘বাঁচাও! বাঁচাও !!’ একটা গলা শোনা যায়।
-‘কে ভাই ?’ গলাটা বাড়িয়ে দিই।
-‘আমি, আমি। খুব অন্ধকারে আছি, বাঁচাও।’ বাচ্চা বাচ্চা গলাটা বলে উঠে।
-‘আরে বেআক্কেল, আকাশে চাঁদ দেখিস না, অন্ধকার কই ?’ মেজাজটা আবার গরম হয়ে যায়।
– ‘এখানে অনেক অন্ধকার, কিছু দেখা যায় না। আমাকে আলোর কাছে নিয়ে যাবে?’ ওপাশ থেকে ভেসে আসে কথাগুলো।
– ‘দেখ ভাই, আমিও এই মাত্র অনেকটা মদ খেয়ে এসেছি’ খেক খেক করে হেসে ফেলি। ‘ সরে যা এখান থেকে — ডাস্টবিনে কী করছিস? বাইরে আয়।’
– শ্বাস নেওয়া যায় না ! দম বন্ধ হয়ে আসছে। আর দুর্গন্ধটা!
– আরে বলদ ড্রেনের সামনে বসে কীসের গন্ধ পাবি?

আমার আর সহ্যসীমা কুলায় না। ডাস্টবিনের পাশে কী ভেবে যেন এতক্ষণ বসে ছিলাম। এক লাফে সামনে যাই। ভিতর থেকে বাইরে বের করে আনা উচিত বোধহয়।
এমন সময় হঠাৎ মাথার উপর যেন অনেকগুলো আলো এসে পড়ে। চোখ ছোট ছোট করে তাকাতেই দেখি ঠিক পেছন থেকে টর্চ জ্বালিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে দুজন।
-‘বড় বাড়ির মদখোরটা না ?’ মাথার পেছনে টর্চের গোড়ার সপাৎ একটা বাড়ি পড়ে। তীব্র ব্যাথায় চিৎকার করে ওঠার সামর্থ্যটা হারিয়ে ফেলি। ‘এইখানে কী করে এতক্ষন?’ কণ্ঠটা ফিসফিসিয়ে কাকে যেন জিজ্ঞেস করে।
– ডাস্টবিনের পাশে বসে ছিল বস্তির সুবল – আমার চেনা। এতক্ষণে দ্বিতীয়জনের অস্তিত্ব টের পাওয়া যায়।
– কি করে দেখি। প্রথমজনের টর্চের আলো আমার মাথার পেছন থেকে সোজা সামনে নোংরা আবর্জনার স্তূপের উপর গিয়ে পড়ে।
একটা নবজাতক। সুবলেরই – অভাবী ঘরের চতুর্থ সন্তান – আস্তাকুঁড়ে ফেলেও দেখতে এসেছে – পারেনি। তাই এই ভাবে।
মৃতদেহের ছোট্ট হাতটা একটু আগেই বোধহয় কুকুরগুলো চিবিয়েছে।

মাথার পেছনের ব্যথাটা এতক্ষণে কমে গেছে অনেকখানি। এবার গলাটা ছিঁড়ে আমার ভীষণ চিৎকারটা বেড়িয়ে যেতে থাকে……..অনেক কিছু বলার থাকে-
পেছনে ছুঁয়ে যায় জোছনা খাওয়া পোড়া শহরটাকে !
(‌বেঙ্গল টাইমসের সাহিত্য বিভাগকে আরও সমৃদ্ধ করার চেষ্টা চলছে। এই উদ্যোগে আপনারাও স্বাগত। আপনারাও অণু গল্প পাঠাতে পারেন। ঠিকানা:‌ bengaltimes.in@gmail.com)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × 3 =

You might also like...

taxi

হাওড়া স্টেশন নিয়ে প্রশাসনের হেলদোল নেই

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk