Loading...
You are here:  Home  >  বিনোদন  >  Current Article

চেনা ভিলেন, অচেনা কাহিনি

By   /  April 25, 2017  /  No Comments

পর্দার ভিলেন। তাই কারও হয়ত পাত্রী জোটেনি। কাউকে বাড়ি ছাড়তে হয়েছে। জীবনে কত বিড়ম্বনা! চার ভিলেনের অজানা অনেক কাহিনি তুলে আনলেন পারমিতা ব্রহ্মচারী।।

প্রাণ

৭০ এর দশকে, অভিনেতা প্রাণ এর পরিবার একটি সমীক্ষা করে। তাতে দেখা যায়, তাঁর অভিনয় জীবনের সুদীর্ঘ ৫০ বছরে কেউ নিজের সন্তানের নাম প্রাণ রাখেনি। বদনামের ভয়ে। টিনু আনন্দ এক বার প্রাণ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে জানান, ‘সেই সময়ে যখন সিনেমা হল এ নাম দেখানো হতো, টাইটেল কার্ড এ আসতো “অ্যান্ড প্রাণ”। হলে উপস্থিত দর্শক একটা চাপা ভয়ের আওয়াজ করে উঠত’।

photo-pran2

ক্রমশঃ ‘লার্জার দ্যান লাইফ’ হয়ে ওঠা প্রাণ এর জীবন ঘিরে রয়েছে এরকমই অজস্র ঘটনা। রাস্তায় তাঁর সিনেমার পোস্টার পড়লে, তা ছিঁড়ে দেওয়া হত। কখনও তাঁর ফটোর উপর কালি ছেটানো থাকত। একবার দিল্লিতে বন্ধুর বাড়িতে গিয়েছিলেন তিনি। ড্রয়িং রুমে আড্ডা চলছে। বন্ধু তাঁর বোনকে অনেকবার ডাকাডাকি করলেন। সে কিছুতেই সামনে আসতে রাজি  নয়। পরে দাদাকে অভিযোগ জানায়, কেন সে এরকম একটা বাজে জঘন্য লোক এর সঙ্গে বন্ধুত্ব রেখেছে। ঘটনাটি জানতে পেরে প্রাণ খুব হেসেছিলেন।

তাঁর এই ইমেজকে ঋষিকেশ মুখোপাধ্যায় ব্যবহার করেছিলেন তাঁর “গুড্ডি” ছবিতে। একটা দৃশ্যে প্রাণ স্বনামে উপস্থিত ছিলেন। তিনি একটি ঘড়ি ধর্মেন্দ্রকে উপহার দেন। পরে জয়া ভাদুড়ি সেটি ধর্মেন্দ্রকে নিতে বারন করেন। কারন, তিনি দুষ্টু লোক। অথচ বাস্তবে প্রাণ ছিলেন দয়ালু এবং পরোপকারী। সারা জীবনে প্রচুর দান-ধ্যান করেছেন। ইন্ডাস্ট্রিতে কান পাতলে শোনা যায় নানা ঘটনা। অমিতাভ বচ্চন এবং ইন্ডাষ্ট্রির অনেক, ছোট বড় বহু মানুষ তাঁর থেকে উপকৃত হয়েছেন।  তিনিই ছিলেন বলিউড এর ‘হায়েস্ট পেইড ভিলেন’।

 

রঞ্জিত

প্রথম ছবি। তাই অনেক আশা নিয়ে ছবিটা দেখতে পরিবারের সবাইকে হল এ নিমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু যখন রেপ-সিন এলো, লজ্জায়, রাগে হল থেকে উঠে বেরিয়ে গেলেন পরিবারের প্রত্যেকে। সেদিন রাত্রে তিনি বাড়ি ফিরলে, মা দূর দূর করে তাড়িয়ে দিলেন তাঁর অভিনেতা ছেলে ‘রঞ্জিত’কে। ছবির নাম “শর্মিলী”। মুখ্য ভূমিকায় শশী কাপুর, রাখি গুলজার। খলনায়ক এর চরিত্রে ‘রঞ্জিত’। বহুদিন পর্যন্ত তাঁর পরিবার তাঁর সঙ্গে কোনও সম্পর্ক রাখেনি। শেষ পর্যন্ত, ‘পর্দায় ধর্ষণের শিকার’ নায়িকা রাখি নিজে গিয়ে তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন।এবং বোঝাতে সক্ষম হন যে, ওটা শুধু মাত্র অভিনয় ছিল। এমনই প্রাণবন্ত ছিল ‘রঞ্জিত’ এর অভিনয়। যে কারণে বলিউড এর বেশিরভাগ পরিচালকরা তাঁকে ভিলেন ছাড়া অন্য কোনও চরিত্রে ভাবতেন পারতেন না।

photo-rajnit

 

২০টির মতো ছবিতে তিনি স্বনামে অভিনয় করেছেন। যে কারণে অনেকেই তাঁকে বাস্তবের সত্যিকারের ভিলেন বলে ভাবতেন। একটা সময়, তাঁর বিয়ের জন্য পাত্রী পেতে রীতিমতো হিমসিম খেতে হয়েছিল তাঁর পরিবারকে। শুধু এই ইমেজ এর জন্য। একবার এক সাংবাদিককে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে একটি মজার ঘটনার উল্লেখ করেন। কন্যা দিব্যাঙ্কাকে সঙ্গে নিয়ে এক রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে উপস্থিত প্রত্যেকে এমন ভাবে তাকিয়ে ছিল তাঁদের দিকে, যে তিনি উঁচু স্বরে বলতে বাধ্য হন-“মেয়েকে নিয়ে এসেছি কি খাওয়াবে খাওয়াও”।কথা শেষ করে হাসতে থাকেন রঞ্জিত। অথচ বাস্তব জীবনে রঞ্জিত আদ্যোপান্ত নিরামিষাশী। কোন দিন মদ-সিগারেট স্পর্শ করেননি।

    

অজিত  

           ফ্লপ হিরো থেকে হিট ভিলেন। সাদা-কালোর জমানায় তিনি ছিলেন ব্যর্থ নায়ক। রাজেন্দ্র কুমার এর উপদেশে তাঁর ছবি “সূরজ” দিয়ে তাঁর খলনায়ক জীবনের যাত্রা শুরু। স্টাইলিশ থ্রি পিস স্যুট, ব্যাকব্রাশ চুল আর সিগার। এই ছিল তাঁর ভিলেনি স্টাইল স্টেটমেন্ট।

photo-ajit2

এক ফিল্মি পার্টিতে তিনি, সেই সময়ের মুম্বই কাঁপানো ডন বরদারঞ্জন ও হাজি মস্তানকে দেখেন। লক্ষ্য করেন, তাঁরা অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথার এবং শান্ত স্বভাবের মানুষ। পরনে কেতাদুরস্ত পোশাক। মুখে আলগা হাসি। তাঁর বাবা ছিলেন হায়দ্রাবাদ নিজাম এর ঘনিষ্ঠ কর্মচারী। তাঁর খলনায়ক রূপের ব্লু-প্রিন্ট তিনি এদের থেকেই আমদানি করেন। ইনি ‘মোনা’র ‘ডার্লিং’ যাকে সারা শহর “লায়ন’ নামে চেনে। অর্থাৎ হামিদ আলি খান ওরফে অজিত।

পরিচালক নাসির হুসেন তখন “তুমসা নহি দেখা” বানাবার তোড়জোড় করছিলেন। তিনি নায়কের রোলটা অজিতকে অফার করেন। ডেট নিয়ে সমস্যার কারনে অজিত তাঁকে সেই সময় ফিরিয়ে দেন। নাসির তখন শাম্মীকাপুরকে তাঁর ছবিতে নেন। পরেরটা, ইতিহাস। বহুদিন পর এক সাক্ষাৎকারে নাসির বলেন, ‘ভাগ্যিস অজিত সেদিন অভিনয় করেননি। তাহলে আমরা “কিং অফ ভিলেন”কে পেতাম না’। অনস্ক্রিন তাঁকে স্বয়ম্ খুব কমই দুঃস্কর্ম করতে দেখা গেছে। শুটিং এর ব্রেক এ তিনি মজার মজার গল্প, ধাঁধা শুনিয়ে সবাইকে মাতিয়ে রাখতেন। একবার মুম্বইয়ের এক স্থানীয় তোলাবাজ এর সঙ্গে তাঁর ঝামেলা হয়। রেগে গিয়ে তিনি, তাঁকে মারধর করেন। তখনও খলনায়ক রূপে তিনি পর্দায় উপস্থিত হননি। জানা যায়, পরদিন থেকেই তিনি হয়ে যান সেই এলাকার অঘোষিত ‘দাদা’। এক আলাপচারিতায় তাঁর ছেলে শেহজাদ বলেন, তাঁর বিয়ের সময় বাবার নাম শুনে পাত্রীপক্ষ প্রথমেই তাঁকে বাতিল করে দিত। ছেলেও যদি বাবার মতো হয়! এখনও পর্যন্ত তিনি একমাত্র ভিলেন যার ওপর জোকস তৈরি হয়।

 

প্রেম চোপড়া

সিলভার স্ক্রিনে যার উপস্থিতিতে সবাই আতঙ্কে তটস্থ, সেই খলনায়ক নিজে সব সময় তটস্থ থাকতেন তাঁর তিন মেয়ের কাছে। মেয়েরা তাদের স্নেহশীল, হাসি-খুশি মজাদার মানুষ বাবার সঙ্গে সিনেমার কুৎসিত ভিলেনটাকে কিছুতেই মেনে নিতে পারত না। প্রত্যেকবার মানুষটাকে বোঝাতে হত যে, তিনি অভিনয় করছেন। যে ভিলেন যত বেশি দর্শক এর ঘৃণা পাবে সে তত বড় মাপের অভিনেতা।

 photo-prem-chopra3

ভেতরে ভেতরে তিনি আসলে অসম্ভব এক ভীতু মানুষ। তাই ছবিতে নকল সাপ নিয়ে অভিনয় করেছেন। মারপিটের দৃশ্য থাকলে প্রতিবার কাট এর পর নায়ক/সহ অভিনেতাদের কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করতেন, তাঁদের লেগেছে কিনা। তাঁরা বার বার তাঁকে বোঝাতেন তিনি কোনও অন্যায় করছেন না। এরকমই মাটির মানুষ অভিনেতা প্রেম চোপড়া।

 এক পাকিস্তানি সাংবাদিক এর প্রশ্ন ছিল রেপ সিন করার সময় নায়িকাদের প্রতিক্রিয়া কেমন হত। উত্তরে তিনি বলেন, বেশিরভাগ নায়িকা ইমেজ খারাপ হওয়ার ভয়ে এই ধরনের দৃশ্য করতে চাইতেন না। স্ক্রিপ্ট এর কারণে রাজি হলেও শট দেওয়ার সময় অস্বস্তি বোধ করতেন। তাতে রীতিমতো ঘাবড়ে যেতেন প্রেম চোপড়া। অস্বস্তি গোপন করে শট দিতেন। এতে অনেক সময় শটটি এন জি হয়ে যেত। ইদানিং বয়েস বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজ করা কমিয়ে দিয়েছেন প্রেম চোপড়া।বহুদিন ধরে তিনি সমাজসেবা মূলক কাজকর্মের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন অতীতের এই ব্যাড বয়।।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

20 − nine =

You might also like...

radio3

না বোঝা সেই মহালয়া

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk