Loading...
You are here:  Home  >  জেলার বার্তা  >  উত্তর বঙ্গ  >  Current Article

দরজা খুলেছে, দার্জিলিং জমজমাট হতে কতক্ষণ!‌

By   /  October 1, 2017  /  No Comments

পুজোর মাঝেই হাজির পর্যটকরা। কদিন আগেও যে পাহাড় অবরুদ্ধ ছিল, তা একটু একটু করে ছন্দে ফিরছে। দার্জিলিং থেকে নিজের অনুভূতি জানালেন এমনই এক পর্যটক। পড়ুন জয়ন্ত কুণ্ডুর লেখায়।

দার্জিলিং জমজমাট!‌ না, সত্যজিৎ রায়ের ভাষায় এমনটা বলার সময় এখনও আসেনি। তবে জমজমাট হয়ে উঠতে তেমন সময় লাগবে না। পাহাড়ের আঁকা বাঁকা পথ দিয়ে আবার যেন গাড়ির লাইন। ম্যালে বাঙালি পর্যটকদের সেই চেনা জটলা। পেছনের রাস্তায় হেঁটে গিয়ে আবার ফিরে আসা। একটু একটু করেই যেন ফিরে পাচ্ছি সেই হারিয়ে যাওয়া দার্জিলিংকে।
প্রতি বছরই এই দার্জিলিংয়ে আসার চেষ্টা করি।কিন্তু শুধু আমি চাইলেই তো হবে না। সঙ্গীরা কী চাইছেন, সেটাকেও গুরুত্ব দিতে হয়। ফলে, কোনও কোনওবার সিকিম বা ডুয়ার্স ঢুকে পড়ে। তবু চেষ্টা করি, ফেরার পথে অন্তত এই দার্জিলিং ছুঁয়ে যেতে। এবারেও পাহাড়ে গন্ডগোল শুনে আমার গিন্নি কিছুটা ভয় পেয়েছিল। বলেছিল, আর যেখানেই যাই, দার্জিলিং যাব না। তাকে বারবার বুঝিয়েছিলাম, ভয় নেই, পুজোর পর শান্ত হয়ে যাবে। তবু কেন জানি না, সে ভরসা পায়নি। বলেছিল, সিকিম যেতে পারি। কিন্তু দার্জিলিং নয়।

darjeeling4
কাগজে বেরোচ্ছিল বিনয় তামাংরা বন্‌ধ তুলে নিলেন। পাহাড় নাকি স্বাভাবিক হচ্ছে। কাগজে যাই বেরোক, সেটা যে পাহাড়ের আসল ছবি নয়, এটা কলকাতায় বসেই দিব্যি বুঝতে পারছিলাম। আমার গিন্নি অবশ্য রাজনীতি–‌টাজনীতি বোঝে না। একদিক দিয়ে ভালই হয়েছে। ওকে বোঝাচ্ছিলাম, দেখো, পাহাড় স্বাভাবিক হয়ে আসছে (‌যদিও মনে মনে জানতাম, রাজ্য সরকার যতই বিনয় তামাংদের তোল্লাই দিক, পাহাড়ে শান্তি ফেরানো তাদের কম্ম নয়। )‌
অবশেষে ষষ্ঠীর দিন শুনলাম সেই বার্তা। বিমল গুরুং নাকি বন্‌ধ তুলে নেওয়ার ঘোষণা করেছেন। ব্যাস, আর কোনও চিন্তা নেই। গিন্নিকে বোঝালাম, আর ভয়ের কিচ্ছু নেই। গুরুং যখন বন্‌ধ তুলে নিয়েছে, তখন আর চিন্তা নেই। কী বুঝল, কে জানে!‌ এক এজেন্ট মারফত সপ্তমীর দিনই টিকিট কেটে ফেললাম। ট্রেন অষ্টমীর রাতে। কলকাতার পুজো ছেড়ে যেতে গিন্নির আপত্তি তো ছিলই। কিন্তু আগেই টিকিট কেটে ফেলেছি। নবমীর সকালে নামলাম শিলিগুড়ি জংশনে। আমাদের মতো আরও অনেকেই নামল। কেউ কেউ অবশ্য এনজেপিতেই নেমে গেছে। গাড়ির ভাড়াটা একটু বেশি। জংশন চত্বরেই এক আধা পরিচিত এজেন্টকে ধরে হোটেলের ব্যবস্থাও হয়ে গেল। বেলা বারোটার আগেই পৌঁছে গেলাম স্বপ্নের দার্জিলিংয়ে। আসার পথে অনেক জায়গায় কেমন পোড়া পোড়া দাগ। একটা ভয়ের রেশ যেন এখনও থেকে গেছে। থাকারই কথা। টানা ১০৫ দিন বন্‌ধ পেরিয়ে এসেছে এই শৈলশহর। বাংলার কোনও শহরে এতদিন বন্‌ধ হয়েছে কিনা জানা নেই।
ভিড় কম। ম্যালে হাতো গোনা কিছু পর্যটক। নেটও চালু হয়ে গেছে। ফলে, ছবি তুলে অনেকেই খাঁচিয়ে দিচ্ছে ফেসবুকে। কখনও মেঘ, কখনও হালকা বৃষ্টিও আছে। তবে এই ফাঁকা পাহাড় মন্দ লাগছে না। আমরা যেমন আসতে পেরেছি, ভয় কাটিয়ে বাকিরাও নিশ্চয় আসবে। লক্ষ্মী পুজোর আগেই আরও কিছুটা জমজমাট হয়ে উঠবে। আমাদের অবশ্য তার আগেই চলে যেতে হবে। কিছুটা ঝুঁকি নিয়েই এসেছিলাম। এখন মনে হচ্ছে, ভালই করেছি। বেঙ্গল টাইমস মারফত আবেদন জানাচ্ছি, যাঁরা আসতে চাইছেন, চলে আসুন। দেরি করবেন না। সবাই এলে তো তবে দার্জিলিং জমজমাট হবে।

(‌সাক্ষাৎকারভিত্তিক অনুলিখন)‌

darjeeling3

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

18 + seven =

You might also like...

shimultala2

শীতের ছোট্ট ছুটিতে শিমূলতলা

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk