Loading...
You are here:  Home  >  খেলা  >  Current Article

মেসি নয়, রোনাল্ডোই সেরা

By   /  October 10, 2017  /  No Comments

সুগত রায়মজুমদার

ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে এখন নিঃসন্দেহে বিশ্বের সেরা ফুটবলার বলা যায়। পর পর ব্যালন ডি ও’‌র পুরস্কার এবং দু’‌বার পর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রিয়েল মাদ্রিদকে চ্যাম্পিয়ন করা অসাধারণ সাফল্য। এখন তাঁর বয়স ৩২। এই বয়সেও তিনি যে ফর্মে খেলছেন, সেই ফর্মে কোনও খেলোয়াড়কে আদৌ দেখা গেছে কিনা সন্দেহ আছে। আমরা ব্রাজিলের রোনাল্ডো, রিভাল্ডো, ফ্রান্সের জিদান, আর্জেন্টিনার মারাদোনা, মেসি, ব্রাজিলের রোনাল্ডিনহোকে ফুল ফর্মে অনেকেই দেখেছি। কিন্তু এত দীর্ঘ ধারাবাহিকতা কারও মধ্যেই দেখা যায়নি। দীর্ঘদিন খেলার পর প্রত্যেকেরই একটা ক্লান্তির ছাপ দেখা গেছে। যাঁদের নাম উল্লেখ করেছি, তাঁরা সকলেই তাঁদের সময়ের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন। ব্রাজিলের রোনাল্ডোর মতো স্ট্রাইকার বিশ্বে খুবই কম জন্মেছেন। ওরকম গোল করার দক্ষতা খুব কম খেলোয়াড়ের মধ্যেই দেখা যায়। জিদান, রোনাল্ডিনহো, মেসিরা ব্যতিক্রম। এঁরা তিনজনই শুধু স্কিল–‌নির্ভর খেলোয়াড়। তাঁদের ড্রিবলিং করার ক্ষমতাও ছিল অসাধারণ। এঁরা তিনজনই একাই বহু ম্যাচ বের করে ক্লাব ও দেশকে জিতিয়েছেন। এখনও তাঁদের সেরা সময়ের খেলা চোখের সামনে ভাসে।

ronaldo2

২০০২ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের রোনাল্ডো হয়ে উঠেছিলেন অপ্রতিরোধ্য। সেই বছরই তিনি বিশ্বকাপে বিশ্বের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন। অবশ্য সেই রেকর্ডও এখন ভেঙে দিয়েছেন জার্মানির ক্লোজে। ২০০৬ সালে জিদানকে দেখে অবাক হয়েছে সকলেই। ২০০৬–‌এর ব্রাজিলের মতো দুর্ধর্ষ দলকে জিদান নাচিয়ে হারিয়েছিলেন। রোনাল্ডিনহো বার্সিলোনায় যখন খেলতেন, তখন তাঁর সাপের ভঙ্গিতে ড্রিবলিং ভোলা যায় না। সেই সময় ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের মতো দলকেও কি অনায়াসেই না হারাতেন!‌ মারাদোনা তো আমাদের কাছে ইতিহাস। যে দাপটে তিনি ১৯৮৬–‌র বিশ্বকাপে খেলে আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন, সেই দাপট পরবর্তীকালে এখনও মেলেনি তাঁর উত্তরসূরিদের কাছ থেকে। মারাদোনা ১৯৮৬ সালে যে ফর্মে দেশকে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন করছেন, সেই ফর্ম ১৯৯০ সালে আর দেখা যায়নি। ধারাবাহিকতা তিনি রাখতে পারেননি নেশায় আসক্ত হয়ে। ১৯৯৪ সালে তো নয়ই। আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসিও দীর্ঘদিন তাঁর দুরন্ত ফর্ম বজায় রেখেছেন। তিনিও বার্সিলোনাকে খুব ভাল সার্ভিস দিয়েছেন। তাঁর প্রাক্তন সতীর্থ জাভি একসময় মেসিকে বিশ্বের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় বলে উল্লেখ করেছিলেন। যদিও এটা তাঁর ব্যক্তিগত মত। মেসিকে একসময় বার্সিলোনায় অপ্রতিরোধ্য মনে হত। কয়েকবার বার্সিলোনাকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে চ্যাম্পিয়ন করেছেন। স্প্যানিশ লিগেও চ্যাম্পিয়ন করেছেন কয়েকবার। ২০০৯–‌২০১২ পর পর চারবার ব্যালন ডি ও’‌র পেয়ে মেসি প্রমাণ করেছেন, তিনি কত বড় খেলোয়াড়। মোট ৫ বার পেয়েছেন ব্যালন ডি ও’‌‌র। ফিফা বর্ষসেরাও হয়েছেন। তবে মেসি এখন মাঝেমাঝে ধারাবাহিকতা রাখতে পারছেন না। তাঁর এখন ৩০। শারীরিকভাবে মেসি রোনাল্ডোর চেয়ে পিছিয়ে। তাঁর অধিনায়কত্বে দু’‌বার কোপা ফাইনালে উঠেও একবার দেশকে চ্যাম্পিয়ন করেছেন। বিশ্বকাপ ফাইনালেও তিনি অধরা থেকেছেন। দেশকে চ্যাম্পিয়ন করতে পারেননি একবারও। মারাদোনা, জিদান, বড় রোনাল্ডোরা পেরেছিলেন। সেজন্য এখনও মেসিকে তাঁদের জায়গা দেওয়া হয় না। কিন্তু ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো তাঁর দীর্ঘ ফুটবল জীবনে তাঁর প্রতিভার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন। এরকম শক্তিশালী ফুটবলার সারা বিশ্বে এখন কেউ নেই। তিনি একাধারে যেমন সেরা অ্যাথলিট, সেরকম দক্ষ ফুটবলার। এই বয়সেও তিনি যে লোড নিতে পারেন, তা দেখে বিস্মিত হতে হয়। সারা মাঠ দৌড়ে প্রতিভা বিচ্ছুরিত করে বেড়ান। এটা সম্ভব হয়েছে রোনাল্ডোর দেশের সমর্থকদের জন্যই। সমর্থকরা মেসিকে দেখে তাঁকে নানারকম কটূক্তি করে তাঁর জেদ বাড়িয়ে দিয়েছেন। এই জেদ বজায় রেখেই পর পর ২ বছর নিজের দল রিয়েল মাদ্রিদকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে চ্যাম্পিয়ন করেছেন। এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগও তিনি গত বছরের ফর্ম দিয়েই শুরু করেছেন। তাঁর গোল করার দক্ষতা দেখে বিশেষজ্ঞরাও মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকেন। এখনও এই বয়সে এত দ্রুত মাঠে ওঠা–‌নামা, বাঁ প্রান্ত থেকে ডান প্রান্ত ছুটে বেড়ানো এবং নিখুঁত পাস দিয়ে সতীর্থদের দিয়ে গোল করানো, জুড়ি মেলা ভার। মেসিও ২০০৯–‌১৪ দুর্ধর্ষ খেলে বার্সিলোনাকে অনেক ট্রফি দিয়েছেন। এই দুই ফুটবলারের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুবই দৃষ্টিনন্দন। দু’‌জনেই এখন নিজেদের সম্বন্ধে সজাগ। একজন খুব ভাল খেললে আর একজনও ভাল খেলার সঙ্কল্প নিয়েই মাঠে নামেন। তবে রোনাল্ডোর এখন আরও সুবিধে হয়েছে। তাঁর পাশে মডরিচ ও ইস্কোর মতো দুই মিডফিল্ডার আসায় তাঁর ফর্মে ফেরাটা নিশ্চিত করতে পেরেছে। পাশাপাশি মেসি দীর্ঘ কয়েক বছর জাভি ও ইনিয়েস্তাকে পেয়ে তাঁর ফর্মকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছিলেন। গত বছর পর্যন্ত নেইমার ও সুয়ারেজকে পেয়েও গত তিন বছর এই ত্রয়ী বহু রেকর্ড গড়ে গেছেন। মেসির মতো রোনাল্ডোও এখন ৫ বার ব্যালন ডি ও’‌র দাবিদার। তিনিও পর পর তিনবার যদি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি চ্যাম্পিয়ন করতে পারেন, তা হলে মেসিকে ছুঁয়ে ফেলতে পারবেন পর পর তিনবার চ্যম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের। এই অসাধারণ ক্ষমতা রোনাল্ডোর আছে। সেজন্য তাঁকেই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন বর্তমানে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়।

ronaldo1
ক্রিশ্চিয়ানো মাত্র ১৭ বছর বয়সে আসেন ইংল্যান্ডের ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডে। তখনকার কোচ ফার্গুসনের নজরে পড়ে যান। তাঁর কোচিংয়েই শুরু প্রথম শ্রেণীর ক্লাব ফুটবল খেলা। সে সময় রোনাল্ডো একদম অন্য জাতের ফুটবলার ছিলেন। তখন তাঁর পায়ে ছিল খুব ভাল ড্রিবলিং ও গতি। তখন থেকেই তিনি তাঁর শরীর সম্পর্কে সজাগ ছিলেন। তিনি জানতেন, শুধু ড্রিবলিং দিয়ে বেশিদিন টেকা যাবে না। সেজন্য শরীর সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। আরও নাম করার জন্য কয়েক বছর কাটানোর পর ম্যাঞ্চেস্টার থেকে চলে আসেন রিয়েল মাদ্রিদে। তিনি জানতেন, এখান থেকেই বিশ্বের সেরা ফুটবলার হতে পারবেন। রিয়েলে এসে প্রথমে খুব ভাল ফর্মে খেলেননি। সেই সময় রিয়েল মাদ্রিদ মেসির বার্সিলোনার কাছে নাস্তানাবুদ হত বারবার। সেই হারগুলিই রোনাল্ডোকে আরও কঠিন করে তোলে। এর পর থেকে তিনি হতে থাকেন অপ্রতিরোধ্য। তিনিও ভাবতেন মনে মনে, মেসিকে টেক্কা দেবই। টার্গেট না থাকলে কখনও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হওয়া যায় না। মেসি ৫ বার ব্যালন ডি ও’‌র পেয়েছেন আগেই। কিন্তু সেই মেসিই দেশের হয়ে খেলার সময় এই দাপট কখনই দেখাতে পারেননি। এমনকি গত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়নের তকমা পাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি। দুর্বল দল পেয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোও। নিজের দেশ পর্তুগাল বিশ্ব ক্রমপর্যায়ে কোনও দিন প্রথম দশে আসে না। তা সত্ত্বেও সেই দলকে ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন করেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর কৃতিত্বেই। পর পর দু’‌বার রিয়েলকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন করার অসাধারণ রেকর্ডের অধিকারীও তিনি। এতেই আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায় তাঁর। আসা করি, এবার তিনি স্বপ্ন দেখতে শুরু করবেন দেশকে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন করার। এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রোনাল্ডো যে ফর্মে খেলেছেন, সেই ফর্মে খেলা কোনও খেলোয়াড়কেই খেলতে দেখা যায়নি। এ বছরেও তাঁরই প্রাপ্য ব্যালন ডি ও’‌র। তিনি তাঁর গোল করার দক্ষতা, খিদে ও নিজের ফিটনেস বাড়িয়ে এমন জায়গায় নিজেকে এনেছেন, যা অবিশ্বাস্য। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এ বছরে তাঁর স্বপ্নের ফর্মকে স্মরণ করেই বলা যায় ভবিষ্যতে ক্রিশ্চিয়ানো যদি নিজের দেশকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করেও ফেলেন, অবাক হব না। অস্বাভাবিক নয়, যে দেশ ইউরোতে ইউরোপের সেরা দেশগুলিকে হারাতে পারে, তারা বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নও হতে পারে। স্পেন একবার ইউরো ও বিশ্বকাপ দুটিই জিতেছিল। স্পেন পারলে পর্তুগাল না পারার কী আছে। রোনাল্ডো পর্তুগাল দেশকেও ফুটবল–‌বিশ্বে অনেক ওপরে নিয়ে গেছেন। অনেক বিশেষজ্ঞও এখন এটা মনে করেন, রোনাল্ডো ক্লাবের হয়েও সফল। দেশের হয়েও সফল। দু’‌জায়গায় মেসি সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি গত বিশ্বকাপে। একটা বা দুটো মরশুম নয়। বিশেষজ্ঞদের মত, সাফল্যের এই ধারাবাহিকতাই তাঁকে বর্তমানে বিশ্বের সমস্ত খেলোয়াড়দের চেয়ে এগিয়ে রাখছে। তাঁর জেদই তাঁকে এই জায়গায় পৌঁছে দিতে পেরেছে। সেজন্য আমরাও অপেক্ষা করব সামনের বিশ্বকাপ পর্যন্ত। রোনাল্ডো দেশকে বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন করতে পারেন কিনা। যেটা মেসি পারেননি।
‌‌bigdiwalisale-strip

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × two =

You might also like...

kashmir5

আমার কাশ্মীর, আমার কলকাতা

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk