Loading...
You are here:  Home  >  সাহিত্য  >  অনু গল্প  >  Current Article

অণু গল্প:‌ অবস্থান্তর

By   /  November 23, 2017  /  No Comments

শর্মিলা চন্দ

কাজের সূত্রে এবার চললাম মস্কো। এর আগেও বার কয়েক গিয়েছি, ঘটনাচক্রে তা ছিল জুন-জুলাই। এবার জানুয়ারির শুরুতে, ভেবেই গুগল খুলে টেম্পারেচার দেখতে গেলাম। আর তা দেখার পরে দেখে হার্টে একটা হালকা চিনচিন অনুভব করলাম, মাইনাস টোয়েন্টি এইট ডিগ্রি সেলসিয়াস!‌
আর ইউ সিরিয়াস! গুগলকে অবিশ্বাস করার ধৃষ্টতা দেখালাম, আরও বার দশেক অন্য সাইট চেক করলাম, ড্যাম, একই রেজাল্ট।
প্লাস ফিফটিনের কলকাতায় বসে মাইনাস টোয়েন্টি এইট কল্পনা করা অসম্ভব জেনেও চেষ্টা করতে গিয়ে বিষম খেলাম। হার্টে চিনচিনের সঙ্গে এবার মাথা ভোঁ ভোঁ, পেট গুড় গুড় শুরু হল। টেম্পারেচার অ্যানালিসিস করতে গিয়ে জানলাম রাশিয়া পৃথিবীর শীততম দেশগুলির মধ্যে একটি। যাই হোক, যেতে যখন হবেই, ভাণ্ডার থেকে খুঁজে বার করা গেল কলকাতা-অনুপযোগী সেই সব ন্যাপথলিনের গন্ধ মাখা শীতের পোশাক। দুটি নিতেই বাক্স-পেটরা ফুল। পোঁছলাম “মস্কোভা”।
এয়ারপোর্টে দাঁড়িয়ে বোঝার উপায় নেই বাইরে ঝড় না ঝাপ্টা। “জয় মা কালী” বলে ব্যাগপত্তর গুছিয়ে বাইরে আসতে আসতেই রাত, মানে টেকনিক্যালি সকাল ২:৩০। অ্যারাইভ্যালে আমার নাম ওয়ালা সাইন খুঁজছি। মানে সেরকমই কথা হয়ে আছে। নাম ওয়ালা সাইন দেখতে পেলাম, কিন্তু যিনি ধরে আছেন তার মুখই খুঁজে পাইনা। ঘাড় উঁচু করে ৯০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে শেষে তার মুখ খুঁজে পেলাম। ঢোক গিলতে গিলতে ভাবলাম, এনার হাইট পেলে লং জাম্পে গোল্ড একদম পাক্কা ছিল। ভদ্রলোকের লুকটা বেশ টম ক্রুস-ওয়ালা, নিজেকে বেশ অ্যাঞ্জেলিনা মনে হল। গটগট করে এগিয়ে গেলাম, বলতে পারেন, ভেসে গেলাম। হঠাৎ মনে পড়ল টাকা চাই। টমবাবাজি কি ছেড়ে কথা বলবে ভাড়া না দিলে? এ ব্যাপারে পাড়ার ফুচকাকাকু হোক বা টম, সব সেম। এটিএম এ কার্ড ঢুকিয়ে এদিক ওদিক টেপাটেপি করতেই দুমদাম রাশিয়ান ফরফে কি সব এসে সব শান্ত। মানে? টাকা? কার্ড? ক্যানসেল টেপাটেপি করি, নাথিং। মানে যা দাঁড়ালো তা হল এটিএম এর খিদে পেয়েছিল মাঝরাতে, খেয়ে নিল আমার কার্ড। আমার মাথায় হাত, চোখ কপালে। একেই বোধহয় কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থা বলা হয়ে থাকে। চোখ ফেটে কান্না বেরিয়ে আসে প্রায়, টমবাবু আন্দাজ করে ছুটে আসেন ঠিকই, কিন্তু রাশিয়ার অধিকাংশের মতো উনিও ইংরিজি বলেন না। মনে হল, এর থেকে মাইনাস টোয়েন্টি এইট ডিগ্রি সেলসিয়াস তবু বোধহয় সহনশীল। ইশারা ইঙ্গিতে বোঝাতেই টমবাবু ছুটলেন কোথায়, আমি ভাবি, হায় মানে মনুষ্যত্ব হারানোর কম্পেটিশনে এরাও তাহলে সমান প্রতিযোগিতায়। নিজেকে একদম অসহায় মনে হল। প্রথমে হায় হায়, তারপর নেক্সট কী করা উচিত, আর তারও পরে ব্রেনটা ব্ল্যাঙ্ক হয়ে গেল। ঠিক সেই মুহূর্তে হঠাৎ হাজির টম। ইশারায় বোঝালেন ব্যাঙ্কের কোনও লোক এত রাতে নেই। আরও অনেক কিছু বোঝাতে চাইলেও পারছিলেন না, তাই সঙ্গে নিয়ে এলেন আধো ইংরিজি বলা পথ চলতি প্যাসেঞ্জারকে। তিনিও সবটা মন দিয়ে শুনলেন এবং বেশ কয়েকটা পটাপট ফোনও করলেন, সাদা কাগজে খসখস লিখে দিলেন একটা ঠিকানা। আর আমাকে জানালেন, উপযুক্ত প্রমাণসহ এই ঠিকানায় গেলেই পাওয়া যাবে কার্ড। আর টম বাবাজির টাকা নাকি পরে দিলেও চলবে। ঠিক কয়েক মিনিট আগে এই দেশটাকেই মনুষ্যত্বহীন ঠাওরেছিলাম। এখন লজ্জায় অধোবদন। চোখ ফেটে জল বেরিয়ে এল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fourteen − 12 =

You might also like...

amalkanti2

ওরা আজও আছে

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk