Loading...
You are here:  Home  >  সাহিত্য  >  অনু গল্প  >  Current Article

‌শিশুমনে – যৌথ থেকে নিউক্লিয়ার পরিবার

By   /  November 25, 2017  /  No Comments

অম্লান রায়চৌধুরী

যৌথ পরিবার প্রায় শেষ। নিউক্লিয়ার পরিবার গুলোতে শিশুর প্রতি সময় দেওয়াটা এখন লাক্সারির পর্যায়ে। ভার পড়ে কাজের মাসি, আয়া বা ক্রেশ। ফলে শিশুদের চাহিদার সৃষ্টি, হঠাৎ কিছু ভাবনার যথাযথ বা পছন্দমাফিক উত্তর, আধো বোঝা ঘটনার মূল্যায়ন – কিছুরই হদিশ আসেনা কচি কচি শিশু মনগুলোর।
সাধারনভাবে দেখা যায় শিশুরা বিক্ষিপ্ত মনা , খুব সহজেই এক জিনিষ থেকে অন্য জিনিসের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। কাজেই জানার ইচ্ছেগুলোর স্থায়িত্ত্বও খুবই কম। সেই মুহূর্তে কোনও সমাধান না পেলে হারিয়ে যায়। কিন্তু একেবারে হারিয়ে যায় না, হয়ত বেশ কিছু দিন বাদে কোনও এক সময়ে আবার জেগে ওঠে। শিশু মনস্তাত্ত্বিকরা এই ব্যাপারটাকে মেনে নেন এবং বলেন যে এই ইচ্ছাগুলোর না জানার কৌতূহল ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে ভবিষ্যতে দেখা দেয় । এটা সমস্যা ।
এগুলো বোঝার মতন সময় বা সুযোগ কোনোটাই নিউক্লিয়ার পরিবারে জোটেনা। এটা মেনে নেওয়া যায় যে আজকের আর্থ সামাজিক পরিস্থিতিতে নিউক্লিয়ার পরিবার ছাড়া ভাবা যায়না। যৌথ ভাবনায় আর আমরা আস্থা রাখতে পারছিনা । আমদের আস্থা নেই যৌথ পরিবারে।

family
কেঊ কেঊ বলেন বটে যে যৌথ ভাবনা শিশুর মনের ভাব প্রকাশ করার জায়গা থাকে। কিন্তু স্বাধীন ভাবে অনেক ইচ্ছাই যৌথ ব্যবস্থার বাঁধনে নষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময়ই শিশুর ইচ্ছা হতে পারে শুধু মা বাবাকে নিয়েই সে বেড়াতে যাবে, আইসক্রিম খাবে, নানান জায়গায় ঘুরবে – কিন্তু সেটা সম্ভব হয়ে ওঠে না। এর কারন কিন্তু যৌথ ব্যবস্থার কিছু সর্বজনীন নিয়ম কানুন। এটা বোধ হয় সবারই জানা পূজোর সময় সমস্ত ভাই বোনেদের একই দর্জিকে ডেকে একই রকমের জামাকাপড়ের ব্যবস্থা। কারুর মনে এই ইচ্ছা টা হতেই পারে – একটু অন্যরকমের কিছু পরার। কিন্তু বিধি বা নিষেধকে মান্যতা দিতে গিয়ে সেটা সম্ভব হয় না। এটা পরবর্তীকালে জেগে থাকে বলে অনেকে মনে করেন ।
আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি , নিজেকে সেই যৌথ ব্যবস্থার সঙ্গে বেড়ে ওঠার কথা মাথায় রেখে যে ওই ইচ্ছাটা খুবই সাময়িক এবং কেমন যেন একটা অবস্থায় সে দাঁড়িয়ে যায় – ওটা কে যেন একটা পাওয়া হিসাবেই দেখে, কারণ মনে করি আমার চাহিদার একটা বাঁধা আছে , কেন না সবার চাহিদার সঙ্গে তাল মিল রাখার জন্য, ফলে গড়ে ওঠে একটা যৌথ ভাবনা – যে গুলোর প্রকাশ পায় বিভিন্ন আচরনে। খুড়তুতো ভাইয়ের একটা অসুবিধায় বেশ কষ্ট পাই – আজ ও পাই – কাছে না থাকলেও। এটা সমাজের পক্ষে কতটা জরুরি সেটা আজ বুঝতে পারি, যখন দেখি নিউক্লিয়ার পরিবারের বাচ্চাদের – অন্তহীন চাহিদা মেটানোর খেলায় বাবা ও মায়েদের কেমন উদভ্রান্তের মতন ছুটে বেড়ানো – শুধু তাদের ইচ্ছাকে মান্যতা দিতে ।
সমাজ যদি মানি, সমাজের সুযোগ সুবিধা যদি একটুও নিয়ে থাকি, নিজের ভাবনাটাকে কিছুটা হলেও একটা সর্বজনীনতার আকার দিতে হবে – সেই ভাবনার কাছে যেতে হবে – না হলে স্বার্থপরতা দানা বাঁধে, যেটা আজ ঘরে ঘরে দেখা যায়, পরিনতি জানা নেই – সমাজবদ্ধতার সব চাবিকাঠিগুলোকে কি একেবারে মন থেকে উড়িয়ে দেওয়া যায় ।
যৌথ ব্যবস্থা আজ একেবারেই সেকেলে ভাবনা – এটা না হয় মানলাম, কিন্তু নিউক্লিয়ার পরিবারেও শিশু মনকে এমন ভাবনা কি দেওয়া যায় না যে – তুমিও সমাজের, তোমার পাশের বাড়ির মানুষও তোমার প্রতিবেশী, মানে প্রায় আত্মীয়ের মতন, কাজেই তাদের সঙ্গে মেলামেশাটা তোমার কর্তব্য, তাদের বিপদে–‌ আপদে পাশে দাঁড়ানোটাও তার মধ্যে পড়ে।
মানছি নিউক্লিয়ার পরিবারে – বাবা এবং মা দুজনেই কর্মজীবন নিয়ে অত্যধিক ব্যস্ত এটাও আজকের যুগে প্রয়োজনের মধ্যে পড়ে কিন্তু একটু সময় বের করে নেওয়া বা শিশুদের সামনে এমন একটা পরিবেশ তুলে ধরা যেটা থেকে তারা শিক্ষা পায় – আর পাঁচটা চাহিদার মতন — যেখানে শিশু মনও চাইবে মিশতে , কারন শিশু বুঝবে যে ওখানে মিশলে ওর প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়া যায় , নিজেকে জানতে পারবে । অবশ্যই বাবা এবং মায়ের নিজেদেরকেও এই ভাব ধারাটা বজায় রাখতে হবে নিজেদেরও সামাজিক আচরণগুলোর সঙ্গে মানিয়ে নিতে, পড়শীর সঙ্গে মেলামেশার আবহাওয়াটা তৈরি করে।
একটা শিশুর কাছে , যদি দেখে বাবা সন্ধ্যার পর অফিস থেকে ফিরে এক ঘন্টা হলেও পাশের বাড়ির কাকুর সঙ্গে গল্প করে, কিংবা পাড়ার ছোটো ক্লাবটা তে গিয়ে একটু বসে, পাড়ার কোনও অনুষ্ঠানে বাবারও বেশ ভালো ভুমিকা আছে – এগুলো সবটাই শিশুর শিক্ষা। এগুলো করা যেতেই পারে। কারণ এগুলো করতে তেমন কোনো সময়ের প্রয়োজন হয়না, হয় কেবল ইচ্ছা বা সামাজিক হওয়ার বাসনা।

যেটা আজ আর নেই। অফিস ফেরতা নামী দামী ক্লাবে বাবা ও মা কাটিয়ে আসে কিছু সময়, শিশু বাড়িতে কাটায় একা – বেশ দেখা ঘটনা, শিশুর মনের উপর বেশ ছাপ ফেলে।
এই প্রজন্মে আমরা দেখি মানুষ ক্লাব খোঁজে যেটা প্রতিষ্ঠিত, যেখানে গেলে সামাজিকতার থেকে নিজের অবস্থানটাকে সবার সামনে তুলে ধরা যায়। তুলে ধরাটাকে একটা স্ট্যাটাস বলে মনে করা হয়, অথচ বাড়ির পাশে ছোটো ক্লাবে গিয়ে বসি না, ওটা অপ্রতিষ্ঠিত, ওটার সদস্য পদের কথা কাউকে বলা যায় না, ওখানে যে সামাজিকতার বীজ মন্ত্রটা আছে সেটা ওদের জীবনে কোনও প্রয়োজন নেই ।
তাই কোনও সময় তাদেরই বড় একা মনে হয়, সবি দূরত্ত্বে, কাছের মানুষগুলোও অচেনা হয়ে গেছে হয় অদেখাতে না হয় অসাক্ষাতে, কিংবা এখন সংকোচে।
এগুলকে আমরা এখন অনেকেই বেশ স্বাভাবিক বলে মেনে নিচ্ছি কারন, উপায়ের অভাব , বাবা বা মা সামাজিকতার কথা ভাবে না, কর্মজীবনের সঙ্গী – কিংবা জীবিকার উন্নতির স্তম্ভের কাছে–সব বোধগুলোকে জলাঞ্জলি দেওয়ার এই যে প্রবণতা কেবল মোহের আধার, আর ভাল করে বেঁচে থাকার সমাহার, আর চাহিদার সৃষ্টি, সুবিধা আর সুযোগের সবরকমের চেষ্টা – প্রয়োজনটার কথা একেবারেই উহ্য – মান্যতা পায় না। সামাজিকতার ছোঁয়া আসবে কোথা থেকে – সমাজ তো এক নাম, সামাজিকতা কেবল কর্তব্য, আত্মিক টানটার কোনও দেখা নেই, গড়ে ওঠে না – পরিবেশ থাকলেও ব্যবহার করার ইচ্ছার অভাব। আমরা বড় বেশি আত্মকেন্দ্রিক এই ব্যাপারগুলোতে। কিন্তু আবার ভাল লাগে আমাদেরও পুজোয় একসঙ্গে ভোগ খাওয়া, কিছুক্ষণ আড্ডা দেওয়া, কিন্তু এগুলোর জন্য যে সময় বা ইচ্ছার দরকার সেটার অভাব – কাজেই সমস্ত উতসবই আজ বড় মেকি মনে হয়। শিশুমন এগুলো দেখে বড় হচ্ছে। পাড়ার কাছের মাঠে গিয়ে একটু সময় কাটানো বা উদ্যোগ নিয়ে কোনও খেলাধুলোর ব্যবস্থা করা নিয়মিত ভাবে – হয়ে উঠছে না। এটা দুঃসময় – এই দুঃসময়ের শিকার সব শিশুমন – ওদের কাছে বিস্তার বলতে স্কুল, টিউশন, বাবা মায়ের উচ্চাকাঙ্খার প্রভাব, ইচ্ছার উপর বিধি নিষেধ, বাঁধারও নানান রকম ব্যবহার।
এই শিক্ষা শিশুর মনের ভিতর গেড়ে বসে, ফলে সেও সেই পথই অনুসরন করে – পাশের বাড়ির সন্টু বা বাবলুকে সেভাবে চেনা হয়ে ওঠে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eight + 7 =

You might also like...

kashmir5

আমার কাশ্মীর, আমার কলকাতা

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk