Loading...
You are here:  Home  >  ওপেন ফোরাম  >  Current Article

‌অ্যামাজন অভিযান

By   /  December 8, 2017  /  No Comments

সন্দীপ লায়েক
————————-
ভয় ব্যাপারটা মানুষের মজ্জাগত। তবে সবার ক্ষেত্রে সেটা একভাবে খাটে না। কারও সাঁতার, তো কারও পাহাড়, কারও ছারপোকা, তো কারও টিকটিকি, কারও ভূত তো কারও ব্রহ্মদত্যি, কারও বৌ তো কারও গার্লফ্রেন্ড, কারও জাম্বুবান তো কারও হনুমান, কারও দিদি তো কারও মোদি। মোটকথা, কোনও না কোনও বিষয়ে ভয় আপনার থাকবেই।

আমারও আছে..কিন্তু সবকটা ডিসক্লোজ করব না। চাণক্য বলে গেছেন, নিজের ফুটো টায়ারের কথা কাউকে বলতে নেই..লোকজন টায়ারটাই খুলে নিতে পারে। এমন কি দুষ্টু মিস্টি বৌটিকেও না। তবু নিজের রিস্কে আজ আমি সিনেমা ও সিনেমা ব্যক্তিত্বদের প্রতি আমার ভীতির কথা জানাচ্ছি।

এমনিতে হিন্দি সিনেমা আমি দেখিনা। খুব ভালো রিভিউ শুনলে দেখি অথবা মুড খারাপ হলে মিঠুন ও রজনীভাইয়ের দু–‌চারটা ফাইট সিকোয়েন্স দেখে জীবন ধন্য করি। মূলত হলিউড ও টলিউডের ছবি দেখে নিজেকে বিজ্ঞ আর স্মার্ট ভাবতেই আমি অভ্যস্ত। আর্ট বা কমার্সিয়াল নিয়ে বাছবিচার করার সাধ্যও আমার নেই। শুধু এটুকুই বুঝতে চেষ্টা করি সিনেমাটা ভালো না মন্দ, থুড়ি আমার আয়ত্তের মধ্যে আছে কি না!

kamaleswar

তবে আজ যেটা বলতে চাইছি সেটা তিনজন ব্যক্তিত্বকে নিয়ে। প্রথম দুজন বলিউড কাঁপানো ভাইবোন সাজিদ ও ফারহা খান এবং তৃতীয়জন টলিউড কাঁপানো কমলেশ্বর। এঁদের নাম শুনলেই আমার বক্ষ দুরুদুরু করতে শুরু করে। ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় জানান দেয় একটা অদৃশ্য বিপদ চুপিসারে এগিয়ে আসছে। পেটটা খালি খালি লাগে, ইয়ে পেয়ে যায়।

আসলে এই তিনজন ডিরেক্টরই ভীষণ প্রতিভাবান। ওঁদের সিনেমার বিষয়গুলো ও গল্প বলার ধরন এত কঠিন ও এতটাই স্বতন্ত্র যে আমার মত দুর্বল লজিকসম্পন্ন মানুষের মাথার ছয়ফুট ওপর দিয়ে বাউন্ডারির বাইরে যায়। তখন নিজেকে বড় দুর্বল ঠেকে। ভয় চেপে ধরে। নিজেকে সান্ত্বনা দিতে ভাবি এগুলোই হয়ত আর্টফিল্ম!

আসলে আর্ট ব্যাপারটাই আমার কাছে ধোঁয়াশার মতো। কেউ হয়ত রং দিয়ে কিছু একটা আঁকলেন। আমি ভাবলুম শীতের তাজা ফুলকপি, ছোট বাচ্চা বাবা–‌মায়ের অন্যমনষ্কতার সুযোগ নিয়ে রং–‌পেন্সিল দিয়ে রঙচঙে করে দিয়েছে। কিন্তু সেটা যে আধুনিকা মোনালিসা বুঝতেই পারি না।

amazon

এই তো কিছুদিন আগেকার কথা। সে যে কী ভয়ংকর উইক এন্ড অপেক্ষা করছিল কী বলবো! একে তো সারা সপ্তাহ ধরে অফিসের আদরেই সইতে নারি, তারপর আবার এদের কেলো কেস।

প্ল্যান ছিল শনিবার সাজিদের হিম্মতবালা দেখব আর রবিবার দেখব ফারহার হ্যাপি নিউ ইয়ার। কিন্তু দেখতে বসে সে কি নাকানি চোবানি! বিরতির আগে বউকে লুকিয়ে গন্ধমাদন (ঔষধের বাক্স) থেকে একটা করে প্যারাসিটামল ও মেট্রোজিল 400 একসঙ্গে সাবাড় করতে তবেই স্বস্তি। নিজের নির্বুদ্ধিতার জন্য কান থেকে পা সব মল্লুম। তারপর থেকে.. পাগল নাকি? আর ওই খান বংশের দিকে পা মাড়াইনি। বাপরে বাপ! সিনেমা তো নয় যেন ঢ্যামনা সাপ।

একবার এক ট্যালেন্টেড বন্ধু (এর আগে সমগোত্রীয় ভাবতাম) বলল চাঁদের পাহাড় সিনেমাটা দেখিস। অপূর্ব সিনেমা। বাংলা সিনেমার একটা মাইলস্টোন। একে তো বিভূতিবাবুর টানটান গল্পটা প্রচুর বার পড়া, আমিও দিব্যি বার খেয়ে স্নান পুজো সেরে, ঘরদোর অন্ধকার করে, দরজা জানলা ভেন্টিলেটরের চোরা ফুটোগুলোতে পেপার গুঁজে দেখতে বসলাম (অ্যাডভেঞ্চার থ্রিলার সিনেমা বলে কথা)।

কমলেশ্বর কাকুর আগের সময়ের থেকে এগিয়ে থাকা ক্ষত সিনেমাটার ক্ষত তখনও শুকায়নি। তবু সিনেমাটা দেখতে দেখতে অনুভব করলাম, আসল গল্পে বিভূতিবাবু কত ঢপ দিয়েছেন। সাদা শার্ট না পরলে কি শংকরকে মানায়? নিজের গায়ে রক্ত ঢেলে সিংহ শিকার না করলে হিরোইজম ফলানো যায়? আগে ডক্টর পরে ডিরেক্টর কমলেশ্বর কাকু এমন ঠুসে দিলেন না বিভূতিবাবুকে সে কি বলবো! থ্রিলিং সিকোয়েন্স গুলোকে কমিক করে দিলেন। ব্যাটা ব্ল্যাকমম্বাকে হেলেসাপ করে দিলেন, আফ্রিকার জঙ্গলটাকে মরুভূমি করে ছাড়লেন, আর সবশেষে ভিলেন বুনীপভায়া নিজের গোয়ার্তুমির জন্য শংকর তথা দেবদার কাছে বেঘোরে প্রাণ হারালো।

সাহিত্য ও সিনেমার ধস্তাধস্তিতে আমার মত উলুখাগড়ার প্রাণ তখন যায় আর কি! মাথার পেঁচানো ঘিলু যেটুকু ছিল বুঝি সোজা হয়ে গেল। ভার্টিগো হয়ে মাথা বনবন ঘুরতে লাগলো, ভয় আমার টুঁটি চেপে ধরলো। সেবার সুস্থ হতে বেশ কয়েক সপ্তাহ লেগেছিল। কলিগরা চোখমুখের অবস্থা দেখে জিগ্গেস করল—গার্লফ্রেন্ডের খবর বউ জেনে গেছে নাকি?
নিজেকে বাঁচাতে বললাম—ঠিক তা না। আসলে আমার একটা বউ আছে সেটা গার্লফ্রেন্ড জানতে পেরেছে!

আজ বাসে অফিস যাচ্ছি, দেখি চারদিকে পোস্টার। বিভূতিভূষন বন্দোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় চাঁদের পাহাড়ের সিকোয়েল অ্যামাজন অভিযান। এই না হলে সিকোয়েল? সেই সাদা শার্ট পরে দেবদা। দোনলা বন্দুক দিয়ে কুমীর না ইয়েতি কিছু একটা খতম করছে। আর ডিরেক্টর? সেই কমলেশ্বর কাকু। ঘামতে শুরু করলুম।

পাশের যাত্রীকে বললাম জানালার ধারের সিটটা একটু দিন না। কনকনে ঠান্ডায় জানালার ধারের সিটটায় বসে জানালা খুলে দিলাম। শরীরের ঘামটা শুকোতে সব পরিষ্কার হয়ে এল।

কমলেশ্বর কাকুর সাহস আছে বটে। অনুপ্রেরণার কপিরাইটস অন্য কোনও বন্দ্যোপাধ্যায় কিনে নিয়েছে দেখেও বিভূতিভূষন বন্দোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণা কথাটা লিখে ফেললেন। শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে এল। কত ভালো মানুষ হলে নিজের লেখা গল্পে বিভূতিভূষন বন্দোপাধ্যায়ের মত লোককে স্মরণ করলেন! এই না হলে জাত!

বিভূতিবাবুর চাঁদের পাহাড়ের মত ভুলভাল গল্পকে যিনি নিজের মত করে ফ্যান্টাস্টিক করে সাজাতে পারেন নিজের লেখা গল্পে কিই না করবেন! পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো পোস্টার যিনি বানিয়েছেন তার সিনেমা আবার দেখবো না তা হতে পারে না। ঠিক করলাম আবার দেখব। হৌক ভার্টিগো, পাক ইয়ে..‌

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × 4 =

You might also like...

somnath4

‘সৌজন্য প্রতিরোধী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’

Read More →
error: Content is protected !!
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk