Loading...
You are here:  Home  >  ওপেন ফোরাম  >  Current Article

দেশ থেকে মুসলিমদের তাড়ালেই কি সব সমস্যা মিটে যাবে?‌

By   /  February 18, 2018  /  No Comments

সত্রাজিৎ চ্যাটার্জি

সম্প্রতি বিজেপির জনৈক নেতা বিনয় কাটিহার মন্তব্য করেছেন, “মুসলিমরা এদেশে কেন ? তারা পাকিস্তান বা বাংলাদেশে চলে যাক”। তিনি মনে করেন দেশবিভাগ হয়েছিল ধর্মের ভিত্তিতে, তাই ইসলাম ধর্মের লোকেদের পাকিস্তানে বা বাংলাদেশে চলে যাওয়াই শ্রেয়। এদেশে তারা “অবাঞ্ছিত”। ভারতবর্ষ শুধুমাত্র হিন্দু ধর্মাবলম্বীদেরই লীলাভূমি !!
এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সেরকম কিছু কথা বলার নেই, কারণ বক্তা যে রাজনৈতিক দলের অন্তর্ভুক্ত, সেই দলের সংস্কৃতি বা রুচিবোধটা এরকমই। এর পরিচয় আমরা আগেও বহুবার পেয়েছি। ভারতবর্ষের সংবিধানটাই তারা হয়তো ঠিকমতো জানেন না, বা জানলেও নিজেদের আদিম রুচি ও উগ্র ধর্মান্ধতার কারণে সেটা মেনে চলার ইচ্ছে নেই। বিগত চারবছর ধরে অর্থাৎ ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে কেন্দ্রের শাসনক্ষমতা লাভের পরে ভারতীয় মুসলিমদের হাতে এবং ভাতে মারার ঘৃণ্য প্রয়াস তারা জারি রেখেছে। কোথাও গোমাংস রাখার অপবাদ দিয়ে আখলাখকে খুন করা হচ্ছে, কোথাও ঈদ উপলক্ষ্যে ঘরফেরতা জুনেইদকে ট্রেনের মধ্যেই নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। আবার রাজস্থানে আফরাজুল নামে বাংলার এক হতদরিদ্র শ্রমিককে মধ্যযুগীয় নির্মমতায় জীবন্ত দাহ করা হয়েছে। সেইসঙ্গে চলেছে মুসলিমদের ধর্মাচরণে বাধা ও বিধি-নিষেধ আরোপ করা। কোথাও খাদ্যাভাসে বাধা, কোথাও ধর্মাচরণে বাধা। আবার কোথাও বলপূর্বক বা টাকার বিনিময়ে তাদের হিন্দুধর্মে রূপান্তরিত করা। এমনকি মুসলিম ভিক্ষুককে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে তাকে হিন্দু দেবদেবীর নাম উচ্চারণ করে জয়ধ্বনি দেওয়ার মত ঘটনাও সম্প্রতি ঘটেছে !!

modi, amit shah

এমতাবস্থায় ভারতবর্ষের ১৩০ কোটি জনসংখ্যার ১৪% মুসলিমকে যদি অন্যত্র স্থানান্তরিত করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং যদি তর্কের খাতিরে ধরে নিই, সেই অসম্ভব কাজটিও কোনও এক “দৈববলে” সম্পন্ন করা হল, তাহলেই কি দেশের আভ্যন্তরীন সব সমস্যা মিটে যাবে ? আজ ভারতবর্ষে শুধু মুসলিমরাই কি উগ্র হিন্দুত্ববাদী শক্তির আগ্রাসন ও হিংসার শিকার ? কখনই না। খ্রীষ্টানদের ওপরেও বিছিন্নভাবে নানা জায়গায় হিংসা চলছে। গোয়া বা ম্যাঙ্গালোরে গির্জা ভেঙে সেখানে বলপূর্বক হনুমান মন্দির স্থাপন করা হচ্ছে। মিশনারির ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। খ্রীষ্টানরা যেখানে সংখ্যাধিক্য, সেখানে বলপূর্বক বা টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে “হিন্দু ধর্মে”। বিগত ২৫ শে ডিসেম্বর যীশুখ্রীষ্টের জন্মদিবসেও দেশের বিভিন্ন স্থানে খ্রীষ্টানদের রীতিনীতি পালন এবং উৎসবপ্রিয় মানুষের ধর্ম নির্বিশেষে সেই উৎসবে সামিল হওয়াকে অনেক উদগ্র এবং সাম্প্রদায়িক হিন্দু শ্যেনদৃষ্টিতে দেখেছেন। কোথাও কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে সেই উৎসব পালনকে কেন্দ্র করে বিক্ষিপ্ত হিংসাও ছড়িয়েছে। আসলে যাদের দৃষ্টিতে “মাদার টেরেজার মত বিশ্বশান্তি ও মাতৃত্বের মূর্ত বিগ্রহ ভারতে বসবাস করতেন, হিন্দুদের খ্রীষ্টধর্মে রূপান্তরিত করার অভিপ্রায় নিয়ে”, সেই ধর্মান্ধরা, হিন্দুত্ব ব্যতীত যে কোনও ভিন্ন ধর্মের প্রতিই চরমতম “অসহিষ্ণু”!! আর সেই অসহিষ্ণুতার প্রকাশ প্রায় প্রতিদিনের সংবাদপত্রেই প্রকাশিত হচ্ছে ।

এই তো গেল আরও একটি ধর্মের ওপরেও সংখ্যাগরিষ্ঠের আগ্রাসন এবং কর্তৃত্ব স্থাপনের উদাহরণ। এবার দেখা যাক, সমধর্মের প্রতি এই “ধর্ম ব্যবসায়ীদের” কী দৃষ্টিভঙ্গি। সেই আর্যসভ্যতা থেকে “বর্ণাশ্রম” প্রথা অনুসারে হিন্দুধর্মাবলম্বীরা চারটি শ্রেণীতে বিভক্ত। এই ভেদাভেদ, এই শ্রেণী বৈষম্য কোনও ধর্মের উদারতাকে প্রকাশ করে না, বরং বাস্তবিকই তা ধর্মের ধ্বজাধারী মানুষের মধ্যে একতা ও ভ্রাতৃত্ববোধকে নষ্ট করে। আর সেখান থেকেই এই উচ্চ-নীচের ভেদাভেদকে ঘিরে হিংসা ও রক্তপাতের সূত্রপাত। ভারতীয় সংস্কৃতি তে এই “বর্ণাশ্রম” অনুসারে সর্বোচ্চ শ্রেণী বা “ব্রাহ্মণ” দের জাত্যভিমান ও দাপ্টের কারণে নিম্ন বর্ণের মানুষেরা সভ্যতার এই একবিংশ শতকে এসেও বঞ্চিত, অবহেলিত এবং কোথাও কোথাও অপাঙতেয়ও বটে। তাই ভারতবর্ষের বর্তমান শাসকদল কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে চলেছে দলিতদের ওপর আক্রমণ এবং নিগ্রহের ঘটনা। কোথাও দলিতদের পুড়িয়ে মারা হচ্ছে, কোথাও বা চরম অত্যাচার করা হচ্ছে। আবার কোনও কোনও জায়গায় দলিতদের অপাঙতেয় মনে করে গ্রামের ইঁদারা বা নলকূপ থেকে “জীবনদায়ী” জল পান করার অধিকারটুকুও পর্যন্ত কেড়ে নেওয়া হচ্ছে!! এককথায় উদগ্র ধর্মান্ধদের হাতে ভারতবর্ষের ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা যেমন ঘোরতর বিপন্ন, তেমনি সমধর্মের নিম্নবর্ণের মানুষেরাও এই উগ্র ব্রাহ্মণ্যবাদের আগ্রাসনের প্রভাবে অত্যাচারিত এবং ততোধিক আক্রান্ত।

তাই প্রশ্ন একটাই। ধর্মনিরপেক্ষতার দেশ ভারতবর্ষে মুসলিমদের “অবাঞ্ছিত” মনে করে তাদের দেশ থেকে বিতাড়ন করলেই কি সব সমস্যার সমাধান হবে ? দেশে যে “জাতের নামে বজ্জাতি চলছে”, উচ্চ-নীচ ভেদাভেদের রাজনীতি চলছে, ব্রাহ্মণ্যবাদ যে আপন গর্বে গরীয়ান হয়ে বিশেষত কেন্দ্রের শাসক দল বা বিজ়েপি শাসিত অঙ্গরাজ্যগুলোতে “দাঁত-নখ বের করে” নিম্ন বর্ণের মানুষের ওপর অহরহ আঘাত হানছে, ধর্মনিরপেক্ষ দেশের সমাজ ও সভ্যতার সেই জ্বলন্ত সমস্যা থেকে সমাধানের পথ কি আদৌ মিলবে?

web-banner-strip

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × four =

You might also like...

srijit

সৌরভ, ভুলেও সৃজিতের পাল্লায় পড়বেন না

Read More →
error: Content is protected !!
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk