Loading...
You are here:  Home  >  ওপেন ফোরাম  >  Current Article

মানিকবাবু, বুদ্ধবাবুর পরিণতি থেকে কোনও শিক্ষাই নিলেন না!‌

By   /  March 5, 2018  /  No Comments

সত্রাজিৎ চ্যাটার্জি

বাংলায় বিগত বাম সরকারের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য তাঁর সৎ, স্বচ্ছ ভাবমূর্তির কারণে শ্রদ্ধার আসনে আসীন হলেও তিনি মুখ্যমনত্রী থাকাকালীন প্রশাসক হিসেবে কয়েকটি ক্ষেত্রে সত্যিই ভুল করে ফেলেছিলেন। সেই ভুলগুলোর কারণ হিসেবে একটা যদি হয় তাঁর ক্ষমাসুলভ “মার্জিত রুচি” তো অন্যটা নিঃসন্দেহে তাঁর অপরিণামদর্শিতা। তদানীন্তন বাংলার বিরোধী দল তৃণমূলকে নিয়ে তিনি একেবারেই উদ্বিগ্ন ছিলেন না,এবং তাদের এককথায় গুরুত্বই দেননি। আমি বলছি না যে,এটা তাঁর উন্নাসিকতা বা আত্মম্ভরিতা, বরং তিনি বাংলায় শিল্পায়ন ঘটানো জন্য এতটাই উদ্যোগী হয়েছিলেন যে, তাঁর সেই মহৎ কর্মোদ্যোগকে সম্পূর্ণরূপে অঙ্কুরে বিনাশ করার জন্য বাংলার প্রায় সব বিরোধী দল এক হয়েছিল ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে—সেই বিপদটা তিনি বুঝতেই পারেননি। বা বুঝলেও গুরুত্ব দেননি। শুধু কুৎসা আর অপপ্রচার করে এবং মিডিয়াকে কাজে লাগিয়ে আর আরও কিছু “সুবিধাবাদী বিদ্দ্বজ্জন” এর সহমর্মিতা পেয়ে সেদিনের বাংলার বিরোধী দল ২০১১ সালে বামফ্রন্ট সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল। আজ ত্রিপুরায় মানিক সরকারের নেতৃত্বাধীন বাম সরকারের পরাজয় দেখে সে কথাটাই মনে হল, “মানিকবাবু কি বুদ্ধদেববাবুর ঘটনা থেকে কোনও শিক্ষা নেননি”?

buddhadeb

কী ভুল সেদিন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য করেছিলেন ? বাংলার সরকারে থেকেও তাঁর প্রশাসনকে কাজে লাগাতে পারেননি অপশক্তির বিরুদ্ধে। সিঙ্গুরে যখন “কৃষিজমি দেব না” এই দাবি নিয়ে মমতা ব্যানার্জি অনশন মঞ্চ বেঁধেছিলেন তখন দিনের পর দিন সেই “নাটকের মঞ্চ” টিকে সুসজ্জিত রাখতে একপ্রকার সাহায্যই করেছিলেন বলা যায়। তাঁর কি উচিত ছিল না পুলিশ দিয়ে সেই মঞ্চটিকে ভেঙে দেওয়া ? সরকারের সর্বোচ্চ পদাধিকারী হয়ে তিনি পুলিশ-প্রশাসনকে যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করবেন—এটাই তো প্রত্যাশিত। এর মধ্যে তো ভুল কিছু নেই। তিনি তাঁর ক্ষমাসুলভ মানসিকতাতেই হোক আর অবহেলার কারণেই হোক—সেই Drastic Action নিতে পারলেন না। তিনি সর্বতোভাবে চেয়েছিলেন সিঙ্গুরে শিল্পের বিকাশ হোক । কিন্তু তাঁর সেই স্বপ্নের প্রকল্পে বাধা দিতে ও নানা দূরভিসন্ধি নিয়ে নানা অপশক্তি দল যে এক হয়েছিল, এই “মহাসত্য”টা তিনি সেদিন উপেক্ষা করেছিলেন। নন্দীগ্রামেও তিনি একইরকম ভুল করেছিলেন বিরোধী নেত্রী ও শক্তিতে দিনের পর দিন সেখানে ঢুকতে দিয়ে। এমনকি বিরোধীরা যখন বিধানসভা ভাঙচুর করল, বিরোধী দলের এক নেত্রী অশ্রাব্য ভাষায় পুলিশ কর্মচারীকে হুমকি দিলেন, তারপরেও তিনি সেই “বর্বর” দের গায়ে একটুও আঁচ লাগতে দিলেন না পুলিশের মাধ্যমে। এই দয়া বা এই ক্ষমা কিসের জন্য বুদ্ধবাবু ? আপনি কি জানতেন না, “যুদ্ধক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে যোদ্ধা কাউকে ক্ষমা করে না”? আপনার চলার পথে কাঁটা এলে, সেই কাঁটাকে সমূলে উৎপাটন করা বা মাড়িয়ে পিষে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়াই যোদ্ধার লক্ষ্য। সেখানে দয়া, ক্ষমা, মার্জনা চলে না। আপনি সেসব করেছিলেন বলেই আজ আপনি আর আপনার দল কী প্রতিদান পেয়েছে বাংলার মানুষের থেকে সেটা দেখুন। সিঙ্গুরে সেদিন সর্বশক্তি দিয়ে সেই অশুভশক্তির আস্ফালনকে রুখতে পারলে আজ এই পরিণতি হত না। আর বাংলার কয়েক লক্ষ বেকার যুবক-যুবতীর জীবিকার নতুন দিগন্ত খুলে যেত। অন্ততঃ আরও ২০ বছর বাংলায় এই অশুভ শক্তি মাথা তুলে দাঁড়াতে পারত না। আর বিগত সাত বছরে আপনার সেই “করুণা”র প্রতিদানস্বরূপ বাংলার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী কি দিচ্ছেন দেখুন? অন্তত কয়েকশো বাম কর্মীকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে গ্রেপ্তার করানো, পুলিশ দিয়ে হেনস্থা করা ইত্যাদি চলে আসছে দিনের পর দিন। এমনকি জনগণের দাবি-দাওয়া নিয়ে বামপন্থীরা রাস্তায় নামলে বা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গেলেও, মুখ্যমন্ত্রী তাঁর “রাষ্ট্রশক্তি” বা পুলিশ দিয়ে নির্মমভাবে হামলা করছেন সেই মিছিলের ওপর। এটাই নির্মম বাস্তব!!

manik sarkar

সেই একই কথা ত্রিপুরার বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের জন্যও সমানভাবে প্রযোজ্য। বস্তুতঃ আমার দৃষ্টিতে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সঙ্গে মানিক সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির কোনও পার্থক্য নেই। দুজনেরই সততা, স্বচ্ছতা, মুল্যবোধ প্রশ্নাতীত। আর তাই মনে হয় ভারতবর্ষের এই ঘৃণ্য ক্ষমতায়নের রাজনীতির আবর্তে পড়ে নিজ রাজ্যে দুজনেরই প্রায় এক পরিণতি!! কিন্তু, মানিকবাবু, আপনি কি ২০১১ তে বাংলায় সরকার পরিবর্তন থেকে শিক্ষা নেননি ? আপনি কি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের পরিণতি দেখেননি? এবারে ত্রিপুরা দখলের অভিপ্রায়ে যখন দেশের ইতিহাসে সর্বাধিক বর্বর, ফ্যাসিবাদী, মধ্যযুগীয় প্রবৃত্তিসম্পন্ন একটি দল বিজেপি, একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তির সঙ্গে আঁতাত তৈরি করল তখনই আপনার সাবধান হওয়া উচিত ছিল না কি ? ত্রিপুরা জয়ের লক্ষ্যে অসমের বারপেটা, শিলচর থেকে যখন কয়েক কোটি টাকা আমদানি হল ত্রিপুরা রাজ্যের জনগণের মধ্যে বিলিয়ে দিতে, তখন আপনি কেন প্রশাসনকে কাজে লাগালেন না? কেন সেই বিচ্ছিন্নতাবাদীদের প্রশ্রয় দিলেন? আপনি ত্রিপুরাবাসীর অভিভাবক। আপনার দেবতুল্য মূর্তি, আপনার অনাড়ম্বর জীবনযাত্রা, স্ফটিকের ন্যায় স্বচ্ছ ভাবমূর্তির কি প্রতিদান আজকে পেলেন মানিকবাবু ? কেন আপনি সেই বর্বর, মধ্যযুগীয় শক্তিকে এতটা বাড়তে দিলেন ? কেন প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে তাদের বাড়বাড়ন্ত আটকালেন না? আপনি কি জানেন না, এই উগ্র ধর্মান্ধ, ফ্যাসিবাদী, হিংস্র শক্তিকে হিংসা দিয়ে বা গণপ্রতিরোধ দিয়েই স্তিমিত করতে হয়। করুণার দৃষ্টিতে দেখে নয়।

মানিকবাবু, আপনি আর বুদ্ধদেববাবু একই মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ। দুজনেই ভদ্রতা, স্বচ্ছতা, সাধারণ জীবনযাপন এবং সর্বোপরি মহানুভবতা দেখাতে গিয়ে ক্ষমতালোভী আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কর্তব্য পালন করতেই ভুলে গিয়েছিলেন। তার ফলেই বিরোধীরা এত ফাঁকা জমি পেয়ে গেছে এবং এই সেই সুযোগের সদব্যবহার করেছে। তবু আপনিই বিরোধী দলের নেতা হবেন, এটা নিঃসন্দেহে। তাই এখন থেকেই আপনার সৎ, স্বচ্ছ, মার্জিত ভাবমূর্তিকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে চলুন। ১ বছর পরেই যে লোকসভা ভোট!!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

18 + 15 =

You might also like...

suchitra5

একটা উত্তম কুমার ছিলেন, তাই উতরে গেছেন

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk