Loading...
You are here:  Home  >  ওপেন ফোরাম  >  Current Article

অস্তিত্বঃ আপনি যা ভুলে যেতে বসেছেন

By   /  May 4, 2018  /  No Comments

অম্লান রায়চৌধুরী

 (লেখাটি এক ব্রিটিশ দার্শনিক – ‘এলান ওয়াটস’ —  এর একটি লেখায় অনুপ্রানিত হয়ে লেখা)

 

শিশুকালে ফিরে যান। মনে পড়ে তখনকার সবচেয়ে আকর্ষণীয় জিনিসগুলো কী ছিল? আপনি তখন অবাক হতেন, প্রশ্ন করতেন।আকাশের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করতেন, কী আছে ওখানে ? কী আছে ওই তারাদের পেছনে? কতদিন ধরে চলছে এসব? তখন আপনার মা বলতো, “এগুলো সব সময়ই ছিল, আছে, এবং থাকবে। কবে শেষ হবে কেউ জানে না।”

একটা বাচ্চা তখন অবাক হয়, বিস্মিত হয় আর উত্তেজিত হয়ে ভাবে যে এমন কিছু আছে যা কখনই শেষ হয় না। তারপর বাচ্চাটা ‘সময়’ নিয়ে প্রশ্ন করে। ‘অনেকদিন আগে’ টা ঠিক কতদিন আগে ছিল? অবশ্য ধর্মগ্রন্থ বলে, শুরুতে ঈশ্বর স্বর্গ, নরক আর দুনিয়া সৃষ্টি করেছেন। বাচ্চা আবার জিজ্ঞেস করে, “এই সব সৃষ্টি করার আগে ঈশ্বর কী করতো?” তখন কেউ একজন বলে, এই ধরনের উল্টো পাল্টা প্রশ্ন যারা করে তাঁদের জন্যে ঈশ্বর কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করে রেখেছেন। কিন্তু বাচ্চাটা ঈশ্বর নিয়ে ভাবতেই থাকে। তার ভাবনাগুলো যেতে থাকে পেছনের দিকে, ঈশ্বরের আগে কী ছিল, তার আগে কী ছিল, তারও আগে কী ছিল!

সে দেখে যে শুরুর আসলে কোনও শুরু নাই। সুতরাং একই ভাবে আপনি মৃত্যু নিয়েও চিন্তা করতে পারেন। ধরুন, যেই ঘুমোতে গেলেন কিন্তু আর কখনই জেগে উঠলেন না। কখনই না। ব্যাপারটা এমন হবে যে আপনার কখনই কোনও অস্তিত্ব ছিল না। শুধু আপনার না,  কোনও কিছুরই অস্তিত্ব ছিল না। ঠিক যেমন আপনার জন্মের আগে আপনার অস্তিত্বের কথা আপনি জানেন না এবং এই দুনিয়ার অস্তিত্বের কথাও জানতেন না। অস্তিত্বের এই পুরো বিষয়টাতে একটা বড় ধরনের ঘাপলা আছে। এই সব প্রশ্ন নিয়ে যখন আমরা গভীরভাবে ভাবি, তখন আমাদের মনের মধ্যে এক ধরনের হাস্যকর অনুভূতির উদ্রেক হয়, সত্যিই হাস্যকর অনুভূতি। খেয়াল করলে দেখবেন, এই হাস্যকর অনুভূতিটা বাচ্চারা খুব পছন্দ করে। এই জন্যেই বাচ্চারা সব উদ্ভট কাজ কর্ম করে।তারা যতটা জোরে সম্ভব ঘুরতে থাকে, তারপর হঠাৎ দেখতে পায় যে পায়ের নিচে মাটিও ঘুরছে। এবং বাচ্চারা মুখের বিভিন্ন ভঙ্গি তৈরি করে, তাঁদের শরীরটাকে যত উদ্ভট ভঙ্গিতে সম্ভব আঁকাবাঁকা করে পরীক্ষা করে।কারণ বাচ্চারা জানে যে শুরু থেকেই পৃথিবীটা বড় উদ্ভট।

open forum4

সবাই জানে, আসলে কী ঘটছে। কিন্তু কেউই তা স্বীকার করে না। কারণ সবাইকে এই জিনিস স্বীকার না করার শিক্ষা দিয়েই বড় করা হয়েছে। কিন্তু আপনি খুব ভালো করেই জানেন, এই ব্রহ্মাণ্ডে কী চলছে। এখন বয়সকালে এসে আপনি যে তা জানেন এটা বুঝতে হলে আপনাকে আবার বাচ্চা কালে ফিরে যেতে হবে। আবার প্রশ্ন করা শুরু করতে হবে। খেয়াল করে দেখেন, আমরা এখনই স্বর্গে আছি। কারণ এই দুনিয়াটা একটা মহাশূন্য যান আর স্বর্গ হল মহাশূন্য। চাইনিজরা এটাকে বলে ‘কুং’, জাপানিজরা ‘কু’—অর্থাৎ শূন্য গর্ভ। এটাই সবচেয়ে গুরুত্ব পূর্ণ। আপনি কি জানেন যে আপনার শরীরের (পরমাণুর) বেশিরভাগ অংশই ‘স্পেস’ অর্থাৎ শূন্য? যদি আপনার শরীরের সলিড জিনিস পত্র,  যেমন হাড়-মাংস গুলোকে সংকুচিত করা হয় তাহলে এটা একটা পিনের মাথার চেয়েও ছোট হবে। আমরা আসলে বাতাস জাতীয় ফাঁকা বস্তু— শূন্য। আর এই শূন্যকে কেউ সংজ্ঞায়িত করতে পারে না, কেউ কল্পনাও করতে পারে না। কারণ স্পেস হল ‘না থাকার অসীম হাহাকার (nothingness)’।আর এটাই এই ব্রহ্মাণ্ডের মূলভিত্তি।

এই দুনিয়াটা একটা ‘বড়পাথর’, যেটা জীবন্ত প্রাণীতে ভরপুর। ঠিক যেমন আপনার কঙ্কাল টা হলো বিভিন্ন কোষে ঘেরা কত গুলো হাড়। অবশ্য দুনিয়াটা হলো জিওলজিকাল।আর এই জিওলজিকাল দুনিয়াটা ‘মানুষ’উৎপাদন করে। কিন্তু এখনো আমরা অনুধাবন করতে পারিনি যে, জন্ম-মৃত্যু, সাদা-কালো, ভালো-মন্দ, অস্তিত্ব আর অস্তিত্বহীনতা সব কিছুই একই কেন্দ্র থেকে উৎসারিত। তাঁরা একে অন্যের পরিপূরক। আমরা বৈজ্ঞানিক ভাবে এই দুনিয়াটাকে বোঝার অনেক চেষ্টা করেছি, রহস্যগুলোকে ব্যখ্যা করার চেষ্টা করেছি। আর এইসব করেছি আমরা জগতের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম কণাকে বিশ্লেষণের মাধ্যমে। আমরা অনুসন্ধান চালিয়েছি প্রতিটা বস্তুর গভীরে — মাংস, ইস্পাত, পাথর এইগুলো কীসের তৈরি? জানতে গিয়ে একদম এই সবের কেন্দ্রে চলে গেছি। এই সবের মধ্য দিয়ে আমরা একটা নির্দিষ্ট উপলব্ধিতে পৌঁছেছি।

উপলব্ধিটা হল, সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম কণা কোনটা- সেটা আসল ব্যপার না। ব্যপার হল, এটা কোন মাপ কাঠিতে ক্ষুদ্রতম? অর্থাৎ এটাকে কীসের ভিত্তিতে ক্ষুদ্র বলছি সেটা। দেখুন, কোষ, অণু, পরমাণু, এদের সবাই বিভিন্ন মাপকাঠিতে বিভিন্ন স্বত্বায় বিদ্যমান। সুতরাং আপনি কি বুঝতে পারছেন যে, ‘সব কিছু আপেক্ষিক’ এই কথা শুনলে যারা রেগে যায়, তাদের রাগের আসলে কোনও কারণ নেই? আপেক্ষিকতা কোনও এলোমেলো মার প্যাঁচ না যেখানে সব কিছু সবদিক থেকে এসে হারিয়ে যায়। বরং আপেক্ষিকতা হল সব থেকে সুন্দর অবস্থান যেখানে প্রতিটা জিনিস প্রতিটা জিনিসকে আগলে রাখে। সুতরাং আপনি যদি এই মূল নীতিটা ধরতে পারেন এবং বুঝতে পারেন, তাহলে আপনি অনুভব করতে পারবেন যে আপনার আশে পাশের সব কিছুর সঙ্গে আপনি একটা গভীর সম্পর্কে জড়িয়ে আছেন। এবং এখানেই আসল সৌন্দর্য! এটা এমন না যে আপনি এখানে দাঁড়িয়ে দেখার চেষ্টা করছেন ওইখানে কী আছে। ‘ওইখান’টা না থাকলে আপনি এখানে থাকতেন না। অর্থাৎ আপনি বাইরে যা দেখছেন আর ভিতরে আপনি যা দুইটাই একই চুম্বকের দুই মাথা অথবা একই পয়সার এপিঠ-ওপিঠ। একটা ছাড়া আরেকটার অস্তিত্ব নাই।

সর্বোপরি আমরা জীবজন্তু, শাকসবজি, পরিবেশ, খনিজপদার্থ, আর আবহাওয়ায় ভরপুর একটা দুনিয়ার মাঝখানে বাস করি যেটা অত্যন্ত উচ্চ মানের বোধ শক্তি সম্পন্ন। আর দুনিয়ার এই ধীশক্তি আমাদের মগজে এসে কেন্দ্রীভূত আর ঘনীভূত হয়।অর্থাৎ পুরো ব্রহ্মাণ্ডের ‘বুদ্ধিমত্তা’ আমাদের মস্তিষ্কের ভিতরে বিদ্যমান।

যদি আপনার বাবার সঙ্গে আপনার মায়ের দেখা না হত, তাহলে কি আপনি দুনিয়াতে থাকতেন? অবশ্য, আপনার জায়গায় কেউ না কেউ থাকতই। কারণ আপনার বাবা কারও না কারও দেখা পেতই। সেই অন্য কেউটা কি আপনি হতেন? অবশ্যই হতেন। খেয়াল করেন নি? আপনি শুধু আপনি হতে পারবেন ‘কেউ একজন’ হওয়ার মাধ্যমে।

সবগুলো ‘কেউ একজন’ই আপনি, সবগুলো ‘কেউ একজন’ই আমি। এই ‘আমি’ই আপনার নাম। খেয়াল করে দেখবেন , সবাই নিজেকে ‘আমি’ বলে। সবাই এই ‘আমি’ টা কে একই ভাবে অনুভব করে। সবাই ‘আমি’, সবাই‘আপনি’।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eight − eight =

You might also like...

পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলেছে সেই নদী।।
(ছবিঃ শুভজিৎ সেন)

কলম্বিয়া গর্জেও খুঁজছিলাম রবি ঠাকুরের সেই ছোট নদীকে

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk