Loading...
You are here:  Home  >  ওপেন ফোরাম  >  Current Article

বাজপেয়ীর পরামর্শ মানার সদিচ্ছা আছে?‌

By   /  August 21, 2018  /  No Comments

সত্রাজিৎ চ্যাটার্জি

দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর প্রয়াণের পরে দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন করে বললেন যে, বাজপেয়ীজি তাঁর অভিভাবক ছিলেন। তাই তিনি অভিভাবকহীন হয়ে পড়লেন।

বস্তুতঃ বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের মধ্যে তাঁর অন্যান্য মন্তব্যগুলোর মতোই “চমকের” কোনও অভাব নেই। যেমন তিনি ২০১৪ সালে লোকসভা ভোটে বিপুল মার্জিনে জয়লাভ করার পরে গোটা দেশবাসীকে “আচ্ছে দিন” এর কথা শুনিয়েছিলেন। তাঁর পরেও, “মন কি বাত”, “মেক ইন ইন্ডিয়া” বা “সবকা সাথ সবকা বিকাশ” ইত্যাদি অনেক “চমকদার” শব্দ বা স্লোগান তাঁর মুখে গত চার বছরে আমরা শুনেছি। বলা বাহুল্য, তার কোনওটাই বাস্তবায়িত হয়নি। এমনকী প্রধানমন্ত্রীর নানাবিধ কার্যকলাপ দেখে কখনও মনেও হয়নি, তিনি আদৌ যা যা বলে এসেছেন ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে প্রতিশ্রুতি হিসাবে তাঁর কোনওটাই বাস্তবায়িত করার সদিচ্ছা তাঁর আদৌ রয়েছে !

সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই প্রশ্ন জ়াগে যে সত্যিই কি প্রধানমন্ত্রী তাঁর পূর্বসুরী অটল বিহারী বাজপেয়ীকে “অভিভাবক” ভাবতেন ? নাকি সামনের বছর লোকসভা ভোটের রণডঙ্কা প্রায় বেজে যাওয়ার কারণে এখন এইসব আবেগের কথা বলে দেশের আমজনতার সহানুভূতি আদায় করতে উঠে পড়ে লেগেছেন? নইলে ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে বিপুল ব্যবধানে জিতে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরেই তিনি যাঁকে একরকম “ব্রাত্য’ই করে রেখেছিলেন, দলীয় কোনও সভা বা নির্বাচনী প্রচারে যেখানে খোদ প্রধানমন্ত্রী বা বিজেপির অন্যান্য প্রথম সারির নেতাদের ছবি লাগানো ব্যানার বা ফ্লেক্সই শুধু দৃশ্যমান হত, “প্রাক্তনী”র কোনও অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যেত না, মৃত্যুর পরে তাঁর উদ্দেশ্যে এত সম্মান প্রদর্শন কীসের স্বার্থে ?

modi11

আর সত্যি যদি তিনি বাজপেয়ীকে কখনও “অভিভাবক” ভাবেনও, তাহলে বাজপেয়ী যে উপদেশ দিয়েছিলেন, তা তো তাঁর মেনে চলা উচিত ছিল। আদৌ তিনি মেনেছেন কি ? বা মেনে চলার কোনও চেষ্টা করেছেন? ২০০২ সালে গুজরাটের ভয়াবহ দাঙ্গার পরে দেশের তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ী গুজরাটের তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রীকে “রাজধর্ম” পালনের উপদেশ দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সেই গুজরাট দাঙ্গা রোধ করতে কেন তিনি সামরিক বাহিনী গুজরাটে পাঠালেন না বা সেনাবাহিনীকে নিযুক্ত করলেন না, যেখানে গুজরাট পুলিশ সেই দাঙ্গা রোধে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছিল এবং পুলিশকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে মুখ্যমন্ত্রী ও সরকারের তরফ থেকে বাধা দেওয়া হয়েছিল—সেই বিতর্ক অবশ্যই আছে। বাজপেয়ীর দীর্ঘসূত্রতাও সমালোচিত হয়েছিল,যার ফলস্বরূপ ২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন। কিন্তু তবুও এটা অস্বীকার করার জায়গা নেই যে, সেই দাঙ্গার পরেই তিনি তদানীন্তন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীকে বলেছিলেন, “রাজার উচিত, ধর্ম বা জাতপাত নিয়ে প্রজাদের মধ্যে যাতে কোনও বিরোধ না লাগে, সেইদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা”। ভারতবর্ষের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সেই উপদেশ কি আদৌ মেনেছেন ? বিগত চার বছরে তাঁর শাসনাধীনে আমরা দেখেছি ধর্ম ও জাতপাতের নামে গোটা দেশজুড়ে হিন্দুত্ববাদ এবং ব্রাহ্মণ্যবাদের মধ্যযুগীয় বর্বর আগ্রাসন। কোথাও ঈদ উপলক্ষ্যে ঘরে ফেরার সময় জুনেইদকে হত্যা করা হয়েছে, কোথাও গো-মাংস রাখার মিথ্যে অপবাদ দিয়ে আখলাখকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে এক শ্রেণীর উগ্র ধর্মান্ধ নরপশুর দল। গরু চুরির অপবাদ দিয়ে রাজস্থানের আলোয়াড়ে পেহলু খান নামের এক কৃষককে হত্যা করেছে এই তথাকথিত “গো-রক্ষাবাহিনী”।

atal ji5

কাশ্মীরের কাঠুয়াতে একটি মন্দিরের মধ্যে সাত দিনের নারকীয় ধর্ষণের পরে আসিফা বানো নামে একটি শিশুকে খুন করার মত আদিম মধ্যযুগীয় পৈশাচিক ঘটনাও ঘটেছে। আবার রাজস্থানে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছে মালদহের এক সংখ্যালঘু শ্রমিককে। চলেছে গোটা দেশজুড়ে ধর্মের নামে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। সেখানে মানুষের খাদ্যাভ্যাসে যেমন বিধি নিষেধ জারি করা হয়েছে, তেমনি টাকার বিনিমিয়ে বা বলপূর্বক চলছে অ-হিন্দু থেকে হিন্দু ধর্মে ধর্মান্তরকরণ। কোথাও মসজিদ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, কোথাও গির্জার ওপর আঘাত আনছে এই উদগ্র ধর্মান্ধদের দল। এর পাশাপাশি জাতপাতের বিভাজন তাঁর নগ্ন, নারকীয় রূপে আত্মপ্রকাশ করেছে। প্রায় প্রতিদিনই দলিতরা নিগ্রহ বা লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে। তাদের সামাজিক স্বীকৃতি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এমনকী বহু জায়গায় নলকূপ থেকে বেঁচে থাকার জন্য পানীয় জলটুকু গ্রহণ করতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। আর এতসব ঘটনার পরেও ১৩০ কোটি দেশবাসীর প্রধানমন্ত্রী একেবারেই নীরব। তিনি না এই উগ্র মৌলবাদীদের দমন করার মত সদিচ্ছা দেখাচ্ছেন না সেই নির্যাতিত ও নিহত পরিবারের পাশে থাকার মত মানবিক মানসিকতা প্রকাশ করছেন। বরং তিনি ব্যবসায়িক লগ্নি আনার নামে “বিদেশভ্রমণে” মেতে রয়েছেন আর অহরহ মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া এবং বিগত কংগ্রেস সরকারের সমালোচনার মাধ্যমে দেশবাসীকে ধোঁকা দিয়ে যাচ্ছেন।

তাই বাস্তবিকই প্রশ্ন জাগে, আদৌ কি অটল বিহারী বাজপেয়ীর মতো নেতার সদুপদেশ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কোনওদিন মেনেছেন বা মেনে চলার চেষ্টা করেছেন ? নাকি বাজপেয়ী কে “আমার অভিভাবক ছিলেন” ঘোষণা করে নিজ স্বভাবসুলভ ১৩০ কোটি দেশবাসীকে আরও একবার বিভ্রান্ত করে আগামী লোকসভা ভোটের বৈতরণী পার হওয়ার লক্ষ্যে তাদের সহানুভূতি আদায় করাই তাঁর মুখ্য উদ্দেশ্যে ?

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fifteen + 10 =

You might also like...

facebook fake id2

সোশাল নয়, এ যেন অ্যান্টি সোশাল সাইট

Read More →
error: Content is protected !!
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk