Loading...
You are here:  Home  >  জেলার বার্তা  >  উত্তর বঙ্গ  >  Current Article

বিদায় সংসদের বাঙালিবাবু

By   /  April 2, 2019  /  No Comments

স্বরূপ গোস্বামী

সংসদের বাঙালিবাবু। এই নামে কাউকে চেনেন নাকি?‌ বছর পাঁচেক আগেও যদি লোকসভায় কাউকে গিয়ে জিজ্ঞেস করতেন বাঙালিবাবু কে, হয়ত উত্তরটা পেয়ে যেতেন। লোকসভার কোনও কর্মী হয়ত আপনাকে প্রশান্ত মজুমদারের কাছে নিয়ে যেত। প্রশ্ন উঠতেই পারে, কে প্রশান্ত মজুমদার?‌ অনেকে বলবেন, চিনি না তো। চেনার কথাও নয়। মিমি–‌নুসরতদের নিয়ে যারা লাফালাফি করবে, তাঁরা প্রশান্ত মজুমদারকে চিনবেন, এতটা আশা করাও মূর্খামি। অথচ, মাত্র পাঁচ বছর আগেই এই মানুষটা ছিলেন বালুরঘাটের সাংসদ। দিন চারেক আগে তিনি মারা গেলেন। যা হওয়ার, তাই হল। কলকাতার কোনও কাগজে, দু লাইনের খবরও চোখে পড়ল না। কোনও চ্যানেলে তাঁকে নিয়ে এক লাইনের উল্লেখও নেই।

অনেকে হয়ত বলতেই পারেন, এমন এম পি তো অনেকেই থাকেন। কী এমন করেছেন?‌ আসলে, কী কাগজ, কী চ্যানেল, কলকাতার মিডিয়া কর্তারা সীমাহীন অজ্ঞতায় ডুবে আছেন। কলকাতার কয়েকজন নেতা–‌মন্ত্রী বা কাউন্রসিলরের  নাম জানেন, কয়েকজনকে ‘‌দাদা’‌ বলেন। ব্যাস, এতেই তাঁরা ভেবে বসেন, রাজনীতির সবকিছু বোধ হয় তাঁদের নখদর্পনে। থাক সে সব কথা।নিজেদের অজ্ঞতা ঢাক পিটিয়ে না বলাই ভাল। প্রশান্ত মজুমদার কেন বাকিদের থেকে আলাদা, সেটা বরং একটু তুলে ধরা যাক।

prashanta mazumder

সামনে লোকসভা নির্বাচন। কে কতদন হাজির থেকেছেন, কে কটা প্রশ্ন করেছেন, কে কটা বিতর্কে অংশ নিয়েছেন, এইসব নিয়ে নানা পরিসংখ্যান উঠে আসছে। সবনিয়ে একটি তথ্য জানিয়ে রাখা যাক, এই পাঁচ বছরে তৃণমূলের ৩৪ সদস্য মিলে যত না বিতর্কে অংশ নিয়েছেন, তা যোগ করলে যা দাঁড়াবে, একা প্রশান্ত মজুমদারের অংশগ্রহণ সম্ভবত তার থেকে বেশি হবে। অন্তত ২৫ জনের যোগফলের থেকে তো বেশি হবেই। কলকাতার এমপি হলে বা তৃণমূলের এম পি হলে কাগজে/‌চ্যানেলে হইচই হত যেহেতু উত্তরবঙ্গের এমপি, তার ওপর বাম শরিক দলের, অতএব এসব জানার কোনও দায় নেই।

এসব ছেড়ে মানুষটার কিছু কর্মকাণ্ডে একটু আলো ফেলা যাক। সাত সকালে উঠেই পড়ে ফেলতেন সমস্ত কাগজ। তারপর স্নান সেরে টুকটাক কিছু মুখে দিয়েই তিনি হাঁটা দিতেন। পরণে ধুতি আর পাঞ্জাবি। কাঁধে সাইড ব্যাগ। তখন হয়ত সকাল আটটা। দিল্লির রাস্তায় এত সকালে কোথায় চললেন বাঙালিবাবু? তিনি চললেন লোকসভায়। প্রাতভ্রমণও হয়ে গেল আর লোকসভাতেও পৌঁছে গেলেন।

কিন্তু সংসদ তো শুরু হয় এগারোটায়। তাতে কী? তিনি পৌঁছে যেতেন সাড়ে আটটা–নটার মধ্যেই। অধিবেশন থাকলে মোটামুটি এটাই ছিল তাঁর রুটিন। এমনিতেই পায়ে হেঁটে আসা সাংসদ তেমন দেখা যায় না। তার ওপর এত সকালে! ফলে, সংসদের কর্মীরা বেশ ভালভাবেই তাঁকে চিনে গিয়েছিলেন। তিনি ঢুকলেই শুরু হয়ে যেত জটলা। তিনিও দিব্যি মেতে উঠতেন আড্ডায়। কখনও তাঁদের সঙ্গে ভাগ করে মুড়িও খেতেন। নিজের গল্প শোনাতেন, অন্যদের পরিবারের গল্পও শুনতেন। একজন সাংসদ এভাবে প্রাণখোলা গল্প করেন! কর্মীরাও কিছুটা অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকতেন তাঁর দিকে। সাংসদদের স্যার বলাই নিয়ম। কিন্তু স্যার শুনলেই তিনি পাল্টা ধমক দিয়ে বসতেন। ‘কীসের স্যার? আমি তো তোমাদের সঙ্গে কোনও দূরত্ব রাখি না। তাহলে স্যার বলো কেন? আমার বয়স সাতাত্তর। তোমরা বয়সে অনেক ছোট। তাই দাদা বলতে পারো, কাকু বলতে পারো। কিন্তু স্যার বলবে না।’ তাই স্যার নয়, কারও কাছে তিনি ছিলেন দাদা, কারও কাছে আদরের বাঙালিবাবু।

বাঙাবিবাবু নামটা বেশ পছন্দই হয়েছিল প্রশান্ত মজুমদারের। বেশ গর্ব করেই বলতেন, ‘ক্রিকেটের দাদা সৌরভ গাঙ্গুলি। সিনেমার দাদা মিঠুন চক্রবর্তী। কিন্তু লোকসভায় গিয়ে একবার শুধু বলুন, দাদার কাছে যাব। সবাই আমার কাছেই নিয়ে আসবে। এত বাঙালি এম পি থাকলেও একডাকে দাদা বা বাঙালিবাবু বলতে সবাই কিন্তু আমাকেই বোঝে।’

প্রায় সবসময় পরনে থাকত ঢোলা পাজামা, আর পাঞ্জাবি (‌কিন্তু সংসদে যাওয়ার সময় পাজামার বদলে ধুতি)‌। বিয়ে থা করেননি। একেবারেই সাদামাটা জীবন যাপন। ৬২ সালে অর্থনীতিতে এম এ। একসময় স্কুলেও পড়াতেন। মাঠে ঘাটে ঘুরে বেড়াতেন আর এস পি–‌র সংগঠনের কাজে। দলের নির্দেশে মাঝপথেই দিলেন চাকরি ছেড়ে। হয়ে গেলেন হোলটাইমার। তাঁকেই করে দেওয়া হল দলের দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলা সম্পাদক। সেও তিন দশক আগের কথা। মেঠো ভাষায় চালিয়ে গেলেন সংগঠনের কাজ। এতদিন বালুরঘাট লোকসভা আসনটি ছিল তপসিলি প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত। ২০০৯–‌এ ডিলিমিটেশনে সেই সংরক্ষণ উঠে গেল। এবার তাহলে প্রার্থী কে? একটি নামেই সর্বসম্মতি হয়ে গেল। কঠিন লড়াইয়ে নিপাট ভালমানুষ প্রশান্তবাবুকেই প্রার্থী করল আর এস পি। মৃদু আপত্তি করেছিলেন, ‘এই বুড়ো বয়সে এম পি হয়ে কী করব? ওখানকার আদব কায়দা শিখতেই তো পাঁচ বছর লেগে যাবে। সেই কোনকালে এম এ পাশ করেছি। ইংলিশ–টিংলিশ সব ভুলে বসে আছি।’

আপত্তি ধোপে টিকল না। দাঁড়ালেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও জিতলেন। তার পর থেকেই শুরু হল অন্য অধ্যায়। সত্তর বছর বয়সে তিনি যেন নবাগত ছাত্র। সংসদ চালুর ঘন্টা দুয়েক আগেই পৌঁছে যান লোকসভার লাইব্রেরিতে। নিষ্ঠাবান ছাত্রের মতোই চলে পড়াশোনা। সংসদ শুরুর অনেক লআগেই ঢুকে পড়তেন কক্ষে। কোনও না কোনও বিষয় নিয়ে তাঁকে যে বলতেই হবে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০০৯–‌২০১৪, সেই পাঁচ বছরে বাংলার সংসদদের মধ্যে তিনিই সবথেকে বেশিবার বিতর্কে অংশ নিয়েছেন। সংখ্যাটা অন্তত পাঁচশো। ধারেকাছেও নেই অন্যরা। (‌তৃণমূলের এখনকার সাংসদদের দিকে তাকান। অধিকাংশই হয় শূন্য, না হয় ১, না হয় ২। অধিকাংশই সিঙ্গল ডিজিট। সেখানে তিনি একাই ৫০০। ভাবা যায়!‌ গোটা দেশের মধ্যে সংখ্যার বিচারে প্রথম পাঁচে। পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, কতটা ছাপ ফেলেছিলেন।

prashanta mazumder3

আরও চমক আছে। শুরুর দিন থেকেই আগাগোড়া বাংলায় ভাষণ। অকপট স্বীকারোক্তি, ‘এত ভেবেচিন্তে ইংরাজি বলার চেয়ে তেড়ে বাংলা বলা অনেক ভাল। আমার দলের মাত্র দুজন এম পি। বেশি সময়ও তো বরাদ্দ থাকে না। তাই সেখানে অল্প সময়ে অনেক কথা বলতে হবে।’ শুধু নিজেই নন, সামিল করলেন অন্যদেরও, ‘সবাইকে বোঝালাম, এত কষ্ট করে ইংরাজি বলার কী দরকার বাপু? বাংলায় বললেই তো পারিস। অনেকেই বাংলা বলতে শুরু করল। কিন্তু সি পি এম থেকে হুইপ দেওয়া হল, তাদের এম পি–রা যেন বাংলায় না বলে। ওরা কষ্ট করে ইংলিশ বলা শুরু করল। আর আমি ঝেড়ে বাংলা চালিয়ে গেলাম।’ আপনার ওপর এমন কোনও নির্দেশ আসেনি? ‘না, তা আসেনি। দলকে জানিয়েছিলাম, যে ভাষায় আমি সাবলীল, সেই ভাষাতেই তো বলব। তবে সংসদে একটা ভুল ব্যাখ্যা হল। অনেকে ভাবল, আমি ইংরাজি জানি না বলে বাংলা বলি। সেটাই প্রচার করল কেউ কেউ। তখন খুব রাগ হল। একদিন তেড়ে ইংরাজিতে ভাষণ দিলাম। সবাই চিৎকার করতে লাগল, দাদা বাংলা বলুন। এমনকী ভিনরাজ্যের এম পি–‌রাও বাংলায় বলার জন্য দাবি জানাচ্ছেন। একেবারে শেষবেলায় বললাম, অনেকে বলছে, আমি ইংরাজি জানি না। তাই আজ ইংরাজিতে বললাম। দেখিয়ে দিলাম, ইংরাজি বলতে জানি। কাল থেকে আবার বাংলায় বলব।’ ব্যাস, সংসদে হাসির ঝড় উঠে গেল। এমনই মজার, এমনই প্রাণবন্ত এক মানুষ ছিলেন প্রশান্ত মজুমদার।

তিস্তার জলবন্টন থেকে লোকপাল বিল, কমনওয়েলথ কেলেঙ্কারি থেকে রেলবাজেট, সন্ত্রাসবাদ থেকে বাংলাদেশের মাঝখান দিয়ে রেল চলাচল— সব ব্যাপারেই সোচ্চার বাঙালিবাবু। সঙ্গে থাকত পেপারকাটিংয়ের ফাইল ও লোকসভার নানা নথি। কবে কী বলেছেন, রীতিমতো সেই নথি থেকে দেখিয়ে দেবেন। ইন্টারনেট থেকে বের করা প্রিন্ট আউটে চমকে দেওয়ার মতো নানা তথ্য। আপনি তাহলে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন? এবারেও অকপট স্বীকারোক্তি, ‘ধুর, ক্ষেপেছেন? এই বয়সে আবার ওসব হয় নাকি? ওসব শিখতে গেলে নিজের কাজ করব কখন? লাইব্রেরিয়ানদের সঙ্গে ভাব করেছি। লাইব্রেরিতে একজন প্রবাসী বাঙালি আছে। তার বাড়িও গেছি। দারুণ সম্পর্ক হয়ে গেছে। কী নিয়ে বলব, সেটা বললেই হল। এখান ওখান থেকে খুঁজে বের করে দেবে। ওরাও তো আমার ভাইয়ের মতোই।আমিই একমাত্র এমপি যে লাইব্রেরিয়ানের বাড়ি গেছি। একেবারে পারিবারিক সম্পর্ক হয়ে গেছে। হয়ত সেই কারণেই, লাইব্রেরির সবাই আমাকে সত্যিই খুব ভালবাসে।এটা ওটা খুঁজে বের করে দেয়। তাই আমার কাজটা ঠিকঠাক করতে পারি।’ তৃণমূলের এমপি দের জিজ্ঞেস করুন, লাইব্রেরিটা কোনদিকে। যাওয়া তো দূরের কথা, কজন বলতে পারবেন, সেটাই সন্দেহ।

ফাঁস করলেন আরও একটি গোপন কথা, ‘প্রথম প্রথম স্পিকার বলতেই দিতেন না। ঠিক করলাম, এই ভদ্রমহিলার সঙ্গে ভাব করতেই হবে।  শাড়ি, মিস্টি নিয়ে স্পিকার মীরা কুমারের বাড়ি চলে গেলাম। বললাম, বুড়ো বয়সে এম পি হয়েছি। আর হয়ত কোনওদিন হব না। বেশি কিছু তো চাইছি না। একটু বলতেও দেবেন না? কেন জানি না, আমার প্রতি তিনি কিছুটা সদয় হলেন। এখন আমি বলতে চাইলেই উনি ঠিক একটা ব্যবস্থা করে দেন।একটা দাদা—বোনের সম্পর্ক হয়ে গেছে।’

তাহলে সাংসদ হিসেবে আপনি বেশ সফল? বালুরঘাটের সাংসদ বছর পাঁচেক আগে বলেছিলন, ‘আমাকে না জিজ্ঞেস করে এটা অন্য এম পি দের জিজ্ঞাসা করুন। তারা আরও ভাল বলতে পারবে। চেয়েছিলাম, সাংসদ হিসেবেও একটা ছাপ ফেলতে। অনেকটাই পেরেছি। শুরু থেকে শেষপর্যন্ত থাকি। সবার কথা শুনি। রোজ কিছু না কিছু বলার চেষ্টা করি। কখনও রাজ্যের সমস্যা, কখনও এলাকার সমস্যা তুলে ধরি। একেবারে সংসদ যখন ফাঁকা হয়ে যায়, একাই হেঁটে হেঁটে বাড়ি ফিরি। ফেরার সময় ফুটপাথ ধরে আমাকে হাঁটতে দেখে বিভিন্ন নেতা–মন্ত্রীরা গাড়িতে তুলে নেন। বাড়িতে পৌঁছে দেন। তবে বেশিরভাগ দিন হেঁটেই ফিরি। বাড়ি ফিরে রাত জেগে আবার পড়তে বসে যাই। এই পাঁচ বছরে এয়ারপোর্ট, স্টেশন, বাড়ি আর লোকসভার বাইরে দিল্লির কিছুই চিনি না।’

এলাকার উন্নয়ন নিয়ে কতটা উদ্যোগী? একটা ছোট্ট উদাহরণ তুলে ধরা যাক। ২০১২ সালের কথা। এলাকায় একটি কলেজের উদ্যোগ নিলেন। ঠিক করলেন, নিজের সাংসদ তহবিল থেকেও টাকা দেবেন। কিন্তু নতুন সরকার যদি বাধা দেয়! খোদ তৃণমূল জেলা সভাপতি বিপ্লব মিত্রকে নিয়ে পৌঁছে গেলেন রাইটার্সে, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। দাবি করলেন, ‘এলাকায় কলেজ চাই, আমি টাকা দেব। কিন্তু আপনাদের সাহায্য চাই। সাহায্য করবেন কিনা বলুন। আমি সব সঙ্কীর্ণতা ছেড়ে আপনার কাছে ছুটে এসেছি। এবার দেখি আপনারা কতটা উদার হতে পারেন।’ কিন্তু আপনার দল তো এতে ক্ষুব্ধ হতে পারে! প্রশান্তবাবুর সাফ কথা, এলাকার সাংসদ হিসেবে আমি আমার এলাকায় কলেজ চাইতে পারি না? সেটা করতে গিয়ে যদি তৃণমূলের সাহায্য বা সরকারের সাহায্য দরকার হয়, আমি একশোবার সাহায্য চাইব। স্থানীয় স্তরে যেন বাধা না আসে, সেই কারণেই খোদ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দাবি জানালাম। আর লুকিয়ে লুকিয়ে আবেদন করব কেন? প্রকাশ্যে রাইটার্সে গিয়েই দাবি জানালাম। এর মধ্যে অন্যায়টা কোথায়?’‌
এমন নানা মজার ঘটনা রয়ে গেছে এই মানুষটাকে ঘিরে। অনেকেই হয়ত জানেন না, দু দশকের বেশি সময় আরএসপি–‌র জেলা সম্পাদক থাকলেও মমতার লড়াইয়ের খুব অনুরাগীও ছিলেন। তৃণমূলের এম পি সংখ্যা তখন ১। মমতার প্রশংসা করার তেমন লোক পাওয়া যেত না। সেই সময়ও এমনভাবে মমতার হয়ে গলা ফাটাতেন, মনে হত তৃণমূলেও বোধ হয় মমতার এমন অনুরাগী নেই। একুশো জুলাই কলকাতায় থাকলে লুকিয়ে লুকিয়ে মমতার সভাতেও চলে গেছেন বেশ কয়েকবার (আজ বলতে বাধা নেই, অন্তত দুবার সাক্ষী এবং সঙ্গী এই অধম)। মিশে যেতেন ভিড়ের মাঝে। দলের লোকেরাও জানতেন না। এমনকী, স্বয়ং মমতাও বোধ হয় জানতেন না, বাম শিবিরে তাঁর এতবড় অনুরাগী আছেন। মাঝে মাঝেই বলতেন, ‘‌সব ব্যাপারে সমালোচনা করা উচিত নয়। মানুষ ভাল না বাসলে এত ভিড় কী এমনি এমনিই হয়! মেয়েটার মধ্যে লড়াই আছে। এটা অস্বীকার করলে অন্যায় হবে। আমি প্রশংসা করি বলে অনেকে রেগে যায়। কে রাগল, আমার বয়েই গেল।’ আবার এই মমতাই যখন মুখ্যমন্ত্রী হলেন, মোহভঙ্গ হতে সময় লাগেনি। বলেছিলেন, ‘‌মেয়েটা মাথা ঠিক রাখতে পারছে না। ভাল কোনও বন্ধু নেই। কাউকে বিশ্বাস করে না। ভুলভাল লোকের পাল্লায় পড়েছে। ওরাই ওকে ডোবাবে।’‌ ‌

চেনা ছকের বাইরে। আর দশজনের থেকে একেবারেই আলাদা। ২০১৪ তে এই মানুষটাই নিঃশব্দে সরে দাঁড়ালেন সংসদীয় রাজনীতি থেকে। রাগ নয়, দুঃখ নয়, এমনকী অভিমানও নয়। বললেন, আর নয়, ঢের হয়েছে। বয়স বাড়ছে। আর কী ছুটতে পারব?‌ নিজের নাম তো নিজেই ডোবাবো। তার চেয়ে ফর্ম থাকতে থাকতে রিটায়ার করাই ভাল। লোকে মনে রাখবে।

সত্যিই কি লোকে মনে রাখল?‌ তাঁর মৃত্যুতে এক লাইনের খবর ছাপতেও কত কার্পণ্য। কোনও চ্যানেলে এক লাইনের উল্লেখও শুনেছি বলে মনে পড়ছে না।মৃত্যু সংবাদ ছাপলে নিশ্চয় মমতা ব্যানার্জি রেগে যেতেন না।নিশ্চয় এর জন্য বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দিতেন না। আসলে, সন্ত্রাসের অজুহাত খাড়া করে অনেক অজ্ঞতাও চাপা দেওয়া যায়। মাত্র পাঁচ বছর আগের সাংসদকে না চিনলে যা হয়, তাই হয়েছে।  এই সীমাহীন অজ্ঞতা, সীমাহীন লজ্জা ঢাকব কীভাবে?‌ আমরা মিমি, নুসরতের পোশাক, ডায়েট চার্ট, বয়ফ্রেন্ডের আলোচনায় মগ্ন থাকব। আমরা প্রশান্ত মজুমদারকে চিনি না। কারণ, তাঁকে চেনার যোগ্যতা আমাদের নেই।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 + 14 =

You might also like...

koni

কোনির ক্ষিদ্দা, করার কথা ছিল উত্তম কুমারের!‌

Read More →
error: Content is protected !!
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk