Loading...
You are here:  Home  >  ওপেন ফোরাম  >  Current Article

গৌতম যেটা বলছেন, সেটাই হয়ত আগামীদিনের বাস্তবতা

By   /  May 10, 2017  /  No Comments

অরুনালোক হালদার

এক একজনের ভাগ্যে গালাগাল খাওয়ার যোগ থাকে। তিনি যাই বলুন, কেউ না কেউ গালাগাল দেয়। যেমন সিপিএমের গৌতম দেব, যাই বলেন তাতেই বিতর্ক, তাতেই গালাগাল। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তিনি নিজের ভুলে গালাগাল খান। কিন্তু এবারের বক্তব্যে তিনি কোনও ভুল করেননি। যা বলেছেন ১০০ ভাগ ঠিক।

সারদা নিয়ে আজ সিবিআই হচ্ছে। কিন্তু তৃণমূল সরকারে আসার অনেক আগেই সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলেছিলেন। অনেকেই হাসাহাসি করেছিলেন। পরে কী দেখা গেল?‌ যিনি মানহানী মামলা করলেন, তিনি নিজেই ভয়ে কোর্টে আসছেন না। বছর দুই আগে বলেছিলেন, কংগ্রেসের সঙ্গে জোট সম্ভব। অনেকেই উড়িয়ে দিয়েছিলেন। সেই পথেই কিন্তু বিধানসভায় হাঁটতে হয়েছিল সিপিএমকে। ফল যাই হোক, অনেক আগেই সম্ভাবনার ছবিটা দেখতে পেয়েছিলেন গৌতম দেব।

goutam deb cpm

এবার গৌতম দেব বলেছেন, বিজেপিকে ঠেকাতে প্রয়োজনে তৃণমূলের হাত ধরতে হবে। এরপর বিজেপি, তৃণমূল, কংগ্রেস, এমনকী নিজের দলের সমর্থকরাও তাঁকে গালাগাল দিচ্ছেন। কিন্তু ভেবে দেখুন তো তাঁর কথায় ভুলটা কোথায়? ভেবে দেখুন তো বিজেপির বাড়বাড়ন্তে আসল বিপদ কার বা কাদের? বিপদ কি শুধু সিপিএমের? বিপদ কি শুধু তৃণমূলের? বিপদ কি শুধু মুসলমানদের? ধর্মনিরপেক্ষদের? না বিপদ বাঙালির? এবং তাঁর থেকেও বড় বিপদ হিন্দুদের। হ্যাঁ, ঠিকই বলছি, সব থেকে বড় বিপদ হিন্দুদের।

হিন্দুধর্মের অন্য দোষ যাই থাক, দেশের এক এক অংশে তা এক এক রূপ ধারন করেছে। তামিলনাড়ুর হিন্দুদের ধর্মাচরণের সঙ্গে মণিপুরের হিন্দুর ধর্মাচরণের অমিল অনেক। এমন বৈচিত্র্য অন্য কোনও ধর্মে দেখতে পাবেন না। এর মধ্যে বাঙালির হিন্দুত্ব অনেক উদার, অনেক মধুর। বাঙালির রাম অস্ত্র নাচায় না, বাঙালির রাম বউকে হারিয়ে কাঁদে। বাঙালির কৃষ্ণ মার মার করে যুদ্ধে যায় না, কুঞ্জবনে প্রেম করে। বিজেপির মারকাটারি হিন্দুত্বে সেই কোমল মাধুর্য বিপন্ন।

ভেবে দেখুন তো বিজেপি বাংলায় হনুমান চালিশা চালু করতে চাইছে, কিন্তু উত্তরপ্রদেশে কি বাঙলার বৈষ্ণব পদাবলী চালু করছে? বাঙলার মঙ্গলকাব্যে তাদের কোনও উৎসাহ আছে? কোথাও কি তারা কৃত্তিবাসের রামায়ণকে তুলসিদাসের রামায়নের সমান মর্যাদা দেয়? তারা উত্তর ভারতের ধাঁচে রামনবমীর মিছিল করে, কিন্তু পৌষপার্বণে উৎসব করে কি? কিছুদিন আগে বিজেপি দেশজুড়ে শকাব্দ পালন করেছিল। সেটাই নাকি ভারতীয় নববর্ষ। কিন্তু তারা বঙ্গাব্দ পালন করে কি? কেন বঙ্গাব্দ কি ভারতীয় নয়?

রাম-শ্যামের কথা বাদ দিন। বাঙালির সব থেকে প্রিয় ঠাকুর রবীন্দ্রনাথ। বিজেপি কি সর্বভারতীয় স্তরে তাঁকে নিয়ে মাতামাতি করে? শোভাযাত্রা করে? হাতে হাতে গীতবিতান নিয়ে মিছিল হয়? ভুলে যাবেন না, এই বিজেপির এক দিগগজ বাঙালি নেতা (এখন বাঙলার বাইরে বৃহত্তর দায়িত্বে আছেন) বলেছিলেন, “বাঙালিকে রসুন সংস্কৃতি ছাড়তে হবে। ” রসুন মানে র-সু-ন। মানে রবীন্দ্র-সুকান্ত- নজরুল।

এই বিজেপিকে ঠেকানোর জন্য প্রয়োজনে তৃণমূলের হাত ধরতে হবে বই কি। তৃণমূলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই যেমন চলার চলবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই চলবে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, অপশাসনের বিরুদ্ধে, এমনকি সংখ্যালঘু তোষণের বিরুদ্ধেও লড়াই চলবে। কিন্তু সাংস্কৃতিক আগ্রাসন রুখতে সবাইকে একজোট হতে হবে।

দেশ যখন আক্রান্ত হয়, সব রাজনৈতিক দল বিবাদ ভুলে সরকারের পাশে দাঁড়ায়। বাংলা আক্রমণের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। বাঙালির সংস্কৃতি, বাঙালির হিন্দুত্ব আক্রমণের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। দলমত ভুলে এর বিরুদ্ধে দাঁড়ান, নয়তো অবাঙালিদের হাতে পরাধীন হবার জন্য প্রস্তুত হন। র-সু-ন মানে রবীন্দ্র, সুকান্ত, নজরুলকে ছাড়ার জন্য প্রস্তুত হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × 1 =

You might also like...

national flag

একটি তারিখের আড়ালে

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk