Loading...
You are here:  Home  >  জেলার বার্তা  >  উত্তর বঙ্গ  >  Current Article

“গোর্খাল্যাণ্ড” আগুন নিয়ে খেলেছেন, হাত তো পুড়বেই

By   /  June 18, 2017  /  No Comments

সত্রাজিৎ চ্যাটার্জি

এতদিন ঢাক পিটিয়ে প্রচার করা হয়েছিল “পাহাড়হাসছে”। গলি থেকে রাজপথ, হাজার হাজার ব্যানার, ফেস্টুন, ফ্লেক্সের মধ্যে “উন্নয়ন” এর প্রচার, “এগিয়ে বাংলা” র প্রচার ছাড়াও বড় বড় করে লেখা থাকতো পাহাড়ের শান্তির কথা। সেই “হাসি” টা বিগত কয়েক সপ্তাহের ছবিতেই পরিষ্কার।
পাহাড়ের হাঁ করা মুখ দিয়ে হাসি নয়, আগুন বেরিয়ে আসছে ! কালকেই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে কয়েকজন মোর্চা কর্মীর মৃত্যু হয়েছে ও তার বদলা হিসেবে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, পুলিশের ওপর হামলা— এক কথায় “অঘোষিত কারফিউ” বা ১৪৪ ধারা। আসলে এই “হাসি” টা যে কত বড় একটা প্রচার আর টোপ ছিল সেটা বাংলার তথাকথিত “শিক্ষিত”,”রুচিশীল” মানুষ কি আর বুঝতে পেরেছিলেন ? মনে হয় না, কারণ তারাও হয় “চমক” আর “গিমিক” এর কাছে হিপনোটাইজড হয়ে আছেন অথবা মেরুদণ্ড গচ্ছিত রেখেছেন কোনও এক বিশেষ জায়গায়। আজকে তাঁরা কেন এই প্রশ্ন তুলছেন না যে “এতদিন বিমল গুরুং ও তার মোর্চাকে গোর্খাল্যাণ্ড নামে নতুন প্রদেশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি যিনি দিয়েছিলেন, তিনি এখন কেন বাংলা ভাগের কথা ভেবে সেই প্রতিশ্রুতি থেকে পিছিয়ে আসছেন ? কেন তিনি “হাস্যময় পাহাড়ে” আগুন লাগানোর ইন্ধন যোগাচ্ছেন রাজনীতির কারণে ? কেন তিনি এখন প্রতিশ্রুতির নামে ভাঁওতা দিচ্ছেন মোর্চাকে ? তার “স্বপ্নের সুইজারল্যাণ্ড ওরফে দার্জিলিংয়ে হাজার হাজার অবরুদ্ধ পর্যটকদের ফেলে কেন তিনি পালিয়ে এলেন পাহাড় থেকে ? কেন তিনি ক্ষমতায় আসার আগে আগুন নিয়ে খেলেছিলেন ? আর সেই আগুনে যখন তিনি নিজেই পুড়ছেন, তখন মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে সেই দায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তার ওপরই তো বর্তায়।

gurung
আসলে ক্ষমতার লোভ যে কীভাবে বিপথে চালিত করতে পারে, তার সর্বাপেক্ষা বড় উদাহরণ এই পাহাড়কে বিচ্ছিন্ন করে মোর্চাকে নতুন প্রদেশ “টোপ” দেওয়ার নোংরা মানসিকতা। ১৯৮৮ সালে বাংলার তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর সঙ্গে মোর্চার তদানীন্তন নেতা সুবাস ঘিসিং এর যে মিটিং হয়েছিল তাতে এই চুক্তি সাক্ষরিত হয়েছিল যে “Dropping the Demand of Gorkhaland”. তার পরে বছরের পর বছর এই চুক্তিই মান্যতা পেয়ে এসেছিল। তার পরে অনেকবারই মোর্চা গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে পাহাড়ে অশান্তি সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু বামফ্রন্ট সরকার তাদের অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসেনি। বরং তদানীন্তন বিরোধী নেত্রী সেই সময় বামফ্রন্টের বিরোধিতা করে ক্ষমতা পাওয়ার লোভে মোর্চার দাবিকে সমর্থন করেছিলেন শুধু নয়, তাদের কে পাহাড় অশান্ত করতে মদত ও দিয়েছিলেন। ফলস্বরূপ ২০০৮ থেকেই মোর্চার নেতা বিমল গুরুং হয়ে উঠেছিল তদানীন্তন বিরোধী নেত্রীর স্নেহধন্য। ২০১১ সালে সেই মোর্চারই পরোক্ষ সমর্থনে বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পরে যে নতুন চুক্তি সাক্ষরিত হয়েছিল তাতে “Dropping the Demand of Gorkhaland” বদল করে লেখা হয়েছিল “Keeping in mind the demand of Gorkhaland”. মোর্চাকে তুষ্ট করে রাখার জন্য বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী সেদিন এই আগুন নিয়েই খেলা শুরু করেছিলেন। বিধানসভাতে তদানীন্তন বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র এই চুক্তির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমতার দম্ভে তাঁর মতামতকে সেদিন সরকার পক্ষের কেউ গুরুত্বই দেয়নি। কার্যত এইভাবেই “টোপ” দিয়ে বিমল গুরুংকে “গোর্খাল্যাণ্ডের” স্বপ্ন দেখিয়ে তাকে পায়ের তলায় এনে ফেলেছিলেন তৃণমূল সরকারের মন্ত্রীরা। আর ঢাক ঢোল পিটিয়ে প্রচার করে বেড়াচ্ছিলেন “পাহাড় সমস্যার আশ্চর্য সমাধান হয়েছে। পাহাড় হাসছে” ইত্যাদি ইত্যাদি।
সেই টোপের মধ্যে যে বঁড়শি ছিল তা এখন ভালোভাবেই টের পাচ্ছেন বিমল গুরুং। সেই বিশ্বাসঘাতকতার প্রতিশোধ নিতেই এখন তিনি মরিয়া। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এখন পাহাড়কে হাতের মুঠোর মধ্যে আনার লক্ষ্যে সেখানে বাংলা ভাষাকে বাধ্যতামূলক করতে চাইছেন। পাহাড়কে বঙ্গ সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন। তিনি ভালোভাবেই জানেন, আজকে পাহাড় ভেঙে গোর্খাল্যাণ্ড হলে সবার আগে তাঁর নিজের মুখ পুড়বে। এখন বাংলা ভাগের বিরোধীতা করছেন, ভাল কথা। তাহলে সেদিন কেন বামফ্রণ্টের বিরোধিতা করে মোর্চার দাবিকে মান্যতা দিয়েছিলেন? কেন তাদের গোর্খাল্যাণ্ডের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন ? কেন বাম আমলে মোর্চার একের পর এক পাহাড় কে অশান্ত করার চক্রান্তের পক্ষে মদত দিয়েছিলেন? তাহলে আজকে এত বড় দ্বিচারিতা করছেন কেন ? কেন আজকে মোর্চার দাবিমতো ও নিজের পূর্ব প্রতিশ্রুতি মতো গোর্খাল্যাণ্ড প্রদেশ সৃষ্টি করছেন না পাহাড়কে বিচ্ছিন্ন করে ? কেন তিনি গুরুং এর হাত ধরে পাহাড়ে উঠেছিলেন ? কেনই বা তিনি গুরুং ও মোর্চার সাথে একের পর এক মিটিং, বৈঠক করেছিলেন ? কেনই বা তিনি জি.টি.এ দখল করতে গুরুংকে পূর্ণমাত্রায় সাহায্য করেছিলেন ? মদন তামাং এর হত্যা নিয়ে এতদিন পরে তিনি কেন মুখ খুললেন? এতকাল তাঁর মুখে তো কোনও শব্দ শোনা যায়নি। মোর্চারা জঙ্গি আন্দোলন করছে, বলে তিনি দাবি করছেন। অথচ তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রশাসনিক প্রধান। আবার পুলিশমন্ত্রীও। তাহলে সেই ব্যর্থতা তো তারই ওপর বর্তায় !! সরকারি খরচে তিনি বছরেও অন্ততঃ ২০ বার দার্জিলিং যান। আই প্যাডে হিমালয়ের প্রাকৃতিক শোভার ছবি তোলেন। তিনি কেন জানতে পারলেন না মোর্চার এই জঙ্গি যোগসাজশের কথা, যদি সত্যিই জঙ্গি যোগ থাকে ? এখন মোর্চার ওপর পাহাড়ে অশান্তি লাগানোর দায় চাপিয়ে নিজে হাত ধুয়ে ফেলতে চাইছেন ? তাহলে মোর্চার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলেন কেন ? শুধু বাংলার ক্ষমতা পাওয়ার লোভে মোর্চাকেও দরকার ছিল, তাই তাদের অনৈতিক দাবিকে বছরের পর বছর সমর্থন দিয়ে এসেছিলেন ?
আসলে বাংলার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমতার লোভ ছাড়া আর কিছু শেখেননি। আর ক্ষমতা পেয়ে গেলেই তার পূর্ব প্রতিশ্রুতির কথা তিনি ভুলে যান বা বিশ্বাসঘাতকতা করেন। যে মাওবাদীরা জঙ্গলমহলে একের পর এক বামকর্মীদের খুন করেছিল ২০১১ এর আগে, বাংলার মসনদ দখল করতে তিনি সেই মাওবাদীদের সঙ্গে গোপন আঁতাত গড়েছিলেন, কিষেনজি, ছত্রধর মাহাতোকে নিজের পায়ের তলায় এনেছিলেন। আর ক্ষমতায় এসেই সেই কিষেনজিকে পুলিশ দিয়ে হত্যা করেছেন ও ছত্রধর মাহাতোকে নানা মামলায় জড়িয়েছেন। আর স্বভাবতই নিজের ঢাক পিটিয়ে প্রচার করছেন “ জঙ্গলমহল হাসছে” !! পাহাড়ের সাম্প্রতিক এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিটাও সেই বিশ্বাসঘাতকতার নোংরা রাজনীতির আরও একটি দৃষ্টান্ত। বিমল গুরুং এর দাবি যতই অনৈতিক হোক, তার থেকে বেশি দোষী বাংলার মুখ্যমন্ত্রী যিনি বিমল গুরুংকে মিথ্যে প্রতিশ্রতি দিয়েছিলেন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

16 − 16 =

You might also like...

radio3

না বোঝা সেই মহালয়া

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk