Loading...
You are here:  Home  >  ওপেন ফোরাম  >  Current Article

মীরা কুমার কখনই বিকল্প নন

By   /  June 22, 2017  /  No Comments

স্বরূপ গোস্বামী

ভারতের ভাবী রাষ্ট্রপতি কে?‌ এই নিয়ে তেমন দ্বিমত থাকার কথা নয়। আপনি চান বা না চান, দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতির নাম রামনাথ কোবিন্দ। তাঁর জয় নিয়ে কোনও সংশয় নেই।
বিরোধীদের অবশ্য উপায় নেই। তাঁরাও চেয়েছিলেন সর্বসম্মতির ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন করা হোক। কিন্তু চাওয়া এক জিনিস, আর সদিচ্ছা নিয়ে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ আরেক জিনিস। একজন রাজনীতিমনষ্ক মানুষ হিসেবে আমার মনে হয়েছে, কোনওপক্ষেরই সদিচ্ছা ছিল না।
বিজেপি দেখানোর চেষ্টা করল, তারা বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনা করতে চায়। কংগ্রেস দপ্তরে, সিপিএম দপ্তরে পাঠানো হল দুই মন্ত্রী রাজনাথ সিং, বেঙ্কাইয়া নাইডুকে। দুজনেই আবার প্রাক্তন জাতীয় সভাপতি। কিন্তু কাকে প্রার্থী করা হচ্ছে, তাঁরা বলতে পারলেন না। নামটাই যদি না বলা যায়, তাহলে সর্বসম্মতি হবে কী করে?‌ কাকে সমর্থন করব, সেটাই জানলাম না, অথচ সমর্থন ঘোষণা করে দিলাম। ব্যাপারটা বেশ হাস্যকর।

mira kumar
কিন্তু বিরোধী শিবিরও তো সরকারের সঙ্গে বিকল্প নাম নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে পারত। একজন সর্বসম্মত প্রার্থী খোঁজার চেষ্টা করা যেত। আসলে, তাঁদের চোখ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নয়। তাঁরা চাইছেন এই সুযোগে লোকসভার জোটের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে। তাই তারাও ধোঁয়াশা রাখলেন। কখনও ভেসে উঠল শরদ পাওয়ারের নাম, কখনও বা গোপালকৃষ্ণ গান্ধী। এখন শোনা যাচ্ছে, বিজেপি দলিত প্রার্থী দেওয়ার পর তাঁরাও নাকি দলিত প্রার্থী দেবেন। সম্ভবত সেই প্রাথীর নাম মীরা কুমার।
প্রথমত, রাষ্ট্রপতি পদে মীরা কুমার কখনই যোগ্য প্রার্থী হতে পারেন না। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলেন, লোকসভার স্পিকার ছিলেন। তারও আগে ফরেন সার্ভিসে ছিলেন। সর্বোপরি জগজীবন রামের কন্যা। অচেনা মুখ বলা যাবে না। যাঁরা একটু হলেও খোঁজখবর রাখেন, সবাই চেনেন। কিন্তু চেনাটাই তো শেষ কথা নয়। আসল কথা হল যোগ্যতা। এই ব্যাপারে জগজীবন রামের কন্যাকে খুব বেশি নম্বর দেওয়া যাচ্ছে না। মন্ত্রী হিসেবে কার কেমন যোগ্যতা, ঠিক বোঝা যায় না। তবে স্পিকার হিসেবে কে কেমন, টিভির দৌলতে এখন কিছুটা বোঝা যায়। বলতে দ্বিধা নেই, তিনি কোনও ছাপই ফেলতে পারেননি। সোনিয়া গান্ধী যে কয়েকটি জায়গায় ভুলভাল লোককে বসিয়েছেন, এটি তার অন্যতম। রাষ্ট্রপতি পদে যেমন প্রতিভা পাটিলকে বসানো উচিত হয়নি, তেমনই স্পিকার পদে মীরা কুমারকে বসানোও উচিত হয়নি।
সেই তাঁকে যদি রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করা হয়, সেটি হবে আরও একটি ভুল সিদ্ধান্ত। বিজেপি দলিত প্রার্থী দিয়েছে বলে বিরোধীদেরও দলিত প্রার্থীই দিতে হবে?‌ দেশের সর্বোচ্চ পদকেও জাতপাতের ঊর্ধ্বে রাখা গেল না?‌ বিরোধীরা কী ভাবছেন?‌ দলিত প্রার্থী না দিলে দলিত ভোট ব্যাঙ্ক হাতছাড়া হয়ে যাবে?‌ বিহারের এক প্রান্তিক কৃষক বা উত্তরপ্রদেশের এক মজুর এসব ভেবে ভোট দিতে যান?‌ এসব করে ভোট ব্যাঙ্কও ধরে রাখা যায় না। বরং নিজেদের চিন্তার দেউলিয়াপনাই প্রকট হয়। আসলে, আমরা ভোটারদের একটু বেশিই বোকা ভেবে ফেলি। আমাদের রাজ্যের উদাহরণ দেওয়া যাক। তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা মুসলিম তোষণ করে। কিন্তু ভেবে দেখুন, এই রাজ্যে সবথেকে বেশি যে দুই জেলায় মুসলিম ভোটার, সেই দুই জেলা মালদা ও মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের রেজাল্ট সবথেকে খারাপ। মালদায় তো একটি আসনও পায়নি। সব মুসমিল যদি তৃণমূলকে ভোট দিতেন, তাহলে তো মালদার সব আসনেই জয় পাওয়ার কথা। মুর্শিদাবাদেও ব্যাপক জয় পাওয়ার কথা। এভাবে দল ভাঙানোর দরকার পড়ত না।
কিন্তু আমাদের মূলস্রোত রাজনৈতিক দলগুলির চিন্তাভাবনা এখনও সেই মান্ধাতা আমলেই পড়ে আছে। তাঁরা ভাবেন, দলিত মীরা কুমারকে প্রার্থী করলেই বোধ হয় দলিত ভোট চলে আসবে। না করলেই হাতছাড়া হয়ে যাবে। এই যদি ভাবনার দৌড় হয়, তবে এই দেউলিয়াপনা দেখে সত্যিই করুণা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

9 + 1 =

You might also like...

taxi

হাওড়া স্টেশন নিয়ে প্রশাসনের হেলদোল নেই

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk